পাতা:আজ কাল পরশুর গল্প.pdf/৯৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বে ডা কথা যা বলাবলি হল তিনদিনে দু’পারের মধ্যে, তা’ শুধু গোবৰ্দ্ধন আর জানার্দনের জমি বিক্রি নিয়ে গম্ভীর নৈর্ব্যক্তিক কথা, তবু এভাবেও তো সাতবছর তারা কথা বলেনি । দলিল রেজেষ্টি করিয়ে টাকা পাবার দিন সকালে বেড়ার এপার থেকেই গোবৰ্দ্ধন বলে, “কখন রওনা হবে, জনা ?” “এই খানিক বাদেই, জবাব দিয়ে, একটু থেমে জনাৰ্দন যোগ দেয়, “ফেলনার জ্বরটা বেড়েছে।” ফেলনা রাণীবালার ছেলে । একসাথে বেরোয় দু’জনে, জনাৰ্দন ডাক দিয়ে নিয়ে যায়। গোবৰ্দ্ধনকে ৷ একসাথে বাড়ী থেকে বেরোবার কোন দরকার অবশ্য ছিল না । চক্ৰবৰ্ত্তীর বাড়ী হ’য়ে তারা সাব-রেজেষ্ট্রারের অফিসে রওনা হবে, একে একে গিয়ে সেখানে জুটলেও চলতো । কিন্তু সাত বছর বিবাদ ক’রে আর দাতমুখ খি’চিয়ে কাটাবার পর দু’ভাই যখন শান্ত ভাবে ক’দিন ধরে কথা বলে, তখন কি আর দরকার আছে আত হিসেব করে সব কাজ করার ! দু’জনে চলতে থাকে একরকম নির্বাক হ’য়েই। মাঝে মাঝে এ ওর মুখের দিকে তাকায় আড়চোখে । সাত বছরে দু’জনের বয়স যেন বিশ বছর বেড়ে গেছে ংসারের চাপে, দুভিক্ষের গত দু’বছরেই যেন বেশী বেড়েছে। ভবিষ্যতে আরও কি আছে ভগবান জানেন । “দরটা সুবিধা হল না।” “উপায় কি ?” “ডাবল দরে এমন জমি মিলবে না ।”