পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১০৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তাহার মুখ দেখিলেই তাহা বুঝিতে পারিতাম। র্তাহার জন্য আমার বড় দুঃখ হইল। আমি অনেককে বুঝাইলাম। কিন্তু কিছুই হইল না। তিনি কৈলাসবাবুকে জানাইলেন। কৈলাসবাবু আমাদের ক্লাসে আসিলেন । কে বিরুদ্ধাচরণ করে। আমাকেই জিজ্ঞাসা করিলেন । দেখিলাম, আমার উপর বড় বড় কটাক্ষ পড়িতে লাগিল। আমি কিন্তু নিৰ্ভয়ে তাহাদের নাম বলিয়া দিলাম। কৈলাসবাবু গোপের বাম প্ৰান্ত কামড়াইতে কামড়াইতে চলিয়া গেলেন । এক মনে চিন্তা করিবার সময় ঐরূপ করা তাহার রীতি ছিল। দণ্ডের কি ব্যবস্থা করিয়াছিলেন, জানি না । কিন্তু তাহার পর দিন হইতে গরীব শিক্ষকটিকে আর কেহ বিরক্ত করিল না । বুঝিলাম একটি অতি সুশিক্ষিত কৰ্ত্তব্যপরায়ণ অন্নহীনের অন্ন বজায় রহিল। এরূপ না হইলে তাহাকে ছেলেগুলোর জালায় চাকরী ছাড়িয়া পলাইতে হইত । আর তঁহাকে সেই বিপদে রক্ষা করিবার জন্য কিঞ্চিৎ করিতে পারিয়াছিলাম মনে হইলে এখনও কি একটা আনন্দ জন্মে, তাহা বৰ্ণনা করিতে পারি না । আমার মনই জানে, সে কি আনন্দ । আর জানেন সর্বসুখদাতা বিধাতা । তাই মনে হয় যে, ইহলোক হইতে প্ৰস্থান করিয়া যখন পরলোকের ঘরে গিয়া উপস্থিত হইব, তখন বোধ হয় সেখান হইতে আমাকে বিতাড়িত হইতে হইবে না । হইলেই বা কি করিতে পারিব ? যাহা ঘটিবে, তাহাই কৰ্ম্মফল বলিয়া হৃষ্টচিত্তে গ্ৰহণ করিতে হইবে । কিন্তু এই যে আত্মপ্ৰসাদটুকু, এটুকু বোধ হয় মারা যাইবে না। না গেলেই আমার যথেষ্ট হইবে । তাহার বেশী পাইবার অধিকার বা প্ৰয়োজন আমার আছে, এরূপ বিশ্বাস বা ধারণা আমার এ পর্যন্ত নাই । আর একদিন চক্ষু বুজিয়া ভাবিতে ভাবিতে মাধব কাকার সেই খাওয়ার কথা মনে হইল। আমাদের পাড়ায় মাধবচন্দ্ৰ বসু এবং ঈশানচন্দ্ৰ বসু নামে আমার দুই কাকা ছিলেন । কাকার এবং কাকীরা আমাদিগকে বড়ই ভালবাসিতেন, প্ৰতিদিন সন্ধ্যার সময় আমরা তঁহাদের বাড়ীতে যাইতাম, গল্প করিতাম, মুড়ি চালভাজা খাইতাম, ইত্যাদি। একদিন সন্ধ্যার সময় গিয়া শুনিলাম যে, আজি মাধব কাকা দিগম্বর দাদার नgव बांचि রাখিয়া নাকি ১ সেরা ময়দার दूी খাইবেন । নাকি ২ সেরা ময়দার রুটী হইল। প্ৰতি সেরে ৪১। খানা করিয়া মাঝারি রুটী হইল। মাধব কাকা ১ সেরা ময়দার রুটী খাইতে বসিলেন । বাকী /১ সেরা ময়দার কাটাতে আমাদের ৫৭ জনের জলযোগ হহল। রুটীর সঙ্গে মাধব কাকা পোয়া তিনেক দুধ, খানিকটা গুড়, আর আধাসের আড়াই পোয়া তরকারি লইলেন। দুধে খান আষ্টেক কুটী ফেলিলেন । তারপর খাইতে আরম্ভ করিলেন । যখন অর্ধেকেরও বেশী থাওয়া হইল, তখন বোধ হইল যেন মাধব কাকার কিছু কষ্ট হইতেছে। তঁহার বড় মেয়ে প্ৰসন্নময়ী তাই দেখিয়া WS