পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১১৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তাহার পরদিন প্রাতে রাধিকাবাবু আমাকে ডাকাইয়া বলিলেন, -কালি Croft সাহেবের কাছে গিয়া দেখিলাম, তিনি বড় বিষন্নভাবে বসিয়া আছেন। জিজাস করিলাম,-অমন করিয়া বসিয়া আছেন কেন ? তিনি বলিলেন, -চন্দ্রনাথের মাখা ঘুরিতেছে, সে Library-তে ফিরিয়া আসিতে চায়। কিন্তু অনুবাদকের পদের । উপযুক্ত লোক আর দেখিতে পাইতেছি না, তাই ভাবিতেছি। তা ভাই, এত শীঘ্র Libraryতে ফিরিয়া গেলে, Croft সাহেবের বড় দুঃখ হইবে, এবং গবর্মেন্টের কাছে তাহাকে অপ্ৰতিভ হইতে হইবে । তিনি আমাদের হিতৈষী - গবর্মেন্টের কাছে তঁহাকে অপ্ৰতিভ করা আমাদের বড় অন্যায় হইবে। তুমি অন্ততঃ এক মাস এই কাজ কর। রাধিক দাদার উপদেশ যে বড় সমীচীন, তাহা বুঝিলাম। বুঝিয়া বলিলাম, যতই কষ্ট হউক, এক মাস এই কাজ করিবই করিব। আমাকে এ কাজে এক মাস রাখিলেন । এক মাস এই কাজ করিতে করিতে আমার স্থৈৰ্য্য আসিল, ধৈৰ্য্য আসিল, সাহস আসিল, কষ্টসহিষ্ণুতা আসিল, শ্ৰমে শক্তি বাড়িতে লাগিল, আর এই ধারণা জন্মিল যে, একাজ ভগবানের কাজ। গবর্মেন্টের কা মানুষের কাজ নয়। তখন এই কাজ ভাল লাগিতে লাগিল, আৱ আলস্য গেল, শ্ৰমকাতরতা গেল, শ্ৰমে আনন্দ ও উৎসাহ হইতে লাগিল । সুতরাং তখন ২ দিনের কাজ ১ দিনে ; ১• দিনের কাজ ৬ ঘণ্টায় শেষ করিয়া এতই আনন্দ হইতে লাগিল যে, প্ৰতিজ্ঞা করিলাম যে, চাকরী যদি করি, তবে এইরূপ চাকরীই করিব। এইরূপ প্ৰতিজ্ঞা করিয়া এবং ভগবানের চাকরী করিতেছি ভাবিয়া, এই চাকরী করিতে লাগিলাম। তথাপি বুঝিলাম, একাজে থাকিলে শীঘ্রই আমার স্বাস্থ্যভঙ্গ হইবে। Tawney সাহেব তখন Croft সাহেবের কাজ করিতেছেন । আমি তাহাকে ইস্তফা পত্ৰ পঠাইয়া দিলাম । তিনি তাহা লইলেন না । আমাকে আরো ছয় মাস থাকিতে বলিলেন। বলিলেন,-আমি লোক পাইতেছি না, তুমি আরো ছয় মাস থাক । আমি গবর্মেণ্টে লিখিয়া তোমার কাজের পরিমাণ কিছু কমাইয়া দিব। তাহাই দিলেন । তিনি আমার শিক্ষাগুরু, আমি আর না বলিতে পারিলাম না। কাজ যাহা কমাইয়া দেওয়া হইল, তাহাতে আমার নিজের শ্রমের লাঘব হইল না । আমার আপিসের পণ্ডিত মহাশয়ের কিছু আসান হইল। তাহাতেই সন্তুষ্ট হইয়া আমি কাজ করিতে লাগিলাম। রাত দিন কাজ । রবিবারেও কাজ ৷ প্ৰতিদিন প্ৰাতে কাজ । পূজার ছুটীতে আপিস বন্ধ করি, কিন্তু বাড়ীতে কাজ করি। সকল ছুটীতেই তাই । অসুখ হইলেও কাজ করি, না খাইয়াও কাজ করি। কাজ আমার জপমালা হুইয়াছিল । হুইবার ছুটী লইয়া হাওয়া খাইতে মধুপুরে ও বৈদ্যনাথে গিয়াছিলাম-কিন্তু সেখানেও