পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আমরা বোটের মধ্যে গঙ্গার উপরে ভাসছিলুম-ভয়ানক ঝড় তুফান উঠেছে আন্ম বড়দাদ হেমেন্দ্র ও আমি মার কাছে ভয়ে জড়সড়,-সেই তুফানের মধ্যে আমাদের একজন ভূত্য কৰ্ত্তাদাদার মৃত্যু সংবাদ এনে বাবামশায়ের হাতে দিলে। এই ঘোর দুৰ্য্যোগে আমরা পলতার বাগানে নেমে, সেখান থেকে গাড়ীতে উঠে কোন প্রকারে বাড়ী পৌছলুম-পেঁৗছেই দুধ দুধ করে অস্থির। এইটুকু আমার মনে আছে। পিতার আত্মজীবনীতে ঘটনাটির বর্ণনা এইরূপ :- “আমাদের স্বরূপ খানসামা আমার হাতে পিতার মৃত্যু সংবাদ আনিয়া দিয়া বলিল, কলিকাতা তোলপাড় হইয়া গিয়াছে। এ সংবাদ হঠাৎ বজপাতের ন্যায় আমার মস্তকে পড়িল । আমাদের বোট ও পিনিস কালনা ছাড়াইয়া কতকাদূর গিয়াছে, পরদিন প্ৰাতঃকালেই কলিকাতার অভিমুখে ফিরিলাম। মেঘাচ্ছন্ন আকাশে অনবরত বৃষ্টি ও বাতাসের কোলাহল । পলতায় আসিতে রাত্ৰি ৮টা হইল। পলতায় পৌছিতেই লোক আসিয়া সংবাদ দিল, এখানে গাড়ী প্ৰস্তুত । এই কথা শুনিয়া আমার শরীরে প্রাণ আসিল । এখানে আসিয়া বোট ক্যাৎ হইয়া পড়িল ৷ দিন দশটা হইতে সন্ধ্যা পৰ্য্যন্ত ক্ৰমাগত বৃষ্টি পড়িয়াছে। সমস্ত নৌকার খোল জলে পুরিয়া গিয়া তাহার উপরে এক হাত জল দাড়াইয়াছে, সকলি বৃষ্টির জল। যদি, পলতায় গাড়ী না থাকিত তবে পথে জলভারে বোট নিশ্চয়ই ডুবিত ; একথা আব কাহাকেও বলিতে পারিতাম না । বোট হইতে নামিয়া গাড়ীতে চড়িলাম। রাস্তা জলময়—সেই জলের ভিতর গাড়ীর চাকা অৰ্দ্ধেক মগ্ন। অতিকষ্টে বাড়ী পৌছিলাম। তখন রাত্ৰি দ্বিপ্রহর । সকলেই নিদ্রিত, কাহারও সাড়া শব্দ নাই । বাড়ীর ভিতর' স্ত্রীপুত্ৰাদিগকে প্রেরণ করিয়া আমি বৈঠকখানার তেতলায় উঠিলাম। সেখানে আমার জ্যেষ্ঠতাত-পুত্ৰ ব্ৰজবাবু আমাকে অভ্যর্থনা করিলেন।” d: و o --دوم দ্বারিকানাথ ঠাকুর দুবার ইউরোপ যাত্ৰা করিয়াছিলেন, দ্বিতীয় বারে লণ্ডন নগরে ১৭৭৮ শকে ( August 1846 ) তার মৃত্যু হয়। তখন তঁর বয়ঃক্ৰম ৫১ বৎসর } তঁর কনিষ্ঠ পুত্র নগেন্দ্ৰনাথ ও অপর একজন আত্মীয় নবীনচন্দ্ৰ মুখোপাধ্যায়। তার মৃত্যুশয্যায় উপস্থিত ছিলেন। লণ্ডন সহরের প্রাস্তবৰ্ত্তী Kensal Green নামক, গোৱস্থানে তার সমাধি হয় । আমি প্ৰথম যখন সেই সমাধি মন্দির দেখি তখন তার নিতান্ত ভগ্নাবস্থা, পরে তার জীর্ণসংস্কার হয়েছে। বঙ্গের শীর্ষস্থানীয় দুই মহাত্মা যারা ঐ সুদূর পশ্চিমে দেহত্যাগ করেছেন, তাদের স্মৃতিচিহ্ন যাতে বিলুপ্ত না হয়, সে বিষয়ে আমাদের দৃষ্টি রাখা কৰ্ত্তব্য, একথা বলা বাহুল্য। স্বারিকানাথ ঠাকুর বিলাত যাবার সময় তঁর অগাধ জমিদারী বিষয় সম্পত্তি সংরক্ষণের যে ব্যবস্থা করে যান তা তার মনের মতন হয়নি । যে সকল কৰ্ম্মচারীর و