পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১২৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কথায় এত নৈপুণ্য বা চমৎকারিত্ব দৃষ্ট হয়। শোকময় মানব-মােনৰীক্স শোকের কথা ভিন্ন অন্য কথা ভাল লাগে না, অন্য কথায় তাহারা বিরক্ত হন। তঁহাদের ধ্যান বড় গাঢ় ও গুঢ়া-তেমন সুখ এক জগদম্বার ধ্যান ভিন্ন অন্যকোন ধ্যানে আছে কিনা সন্দেহ । আমার দৃঢ় ধারণা এই যে, দুঃখের ন্যায় পবিত্র বস্তু আর নাই-আর পবিত্রতম বলিয়াই ইহার স্থায় সুখকর ধ্যানও নাই। কেন একথা বলিলাম এখনই বুঝিবে। আর একটা কথা । দুঃখ না থাকিলে জীবন যন্ত্রণাময় হইয়া উঠে। নিরবচ্ছিন্ন সুখ ভাল লাগে না । নিছক মিষ্ট বোম্বাই আঁাব নিবীৰ্য্য বালকের ভাল লগে ; কিন্তু বীৰ্য্যবান বয়স্কের অম্লমধুর ন্যাংড়াই রুচিকর। দিন রাত তাকিয়ায় ঠেস দিয়া বসিয়া থাকিলে তাকিয়া কণ্টকের বস্ত হইয়া উঠে। জীবনের পথ দুরূহ না হইলে জীবনযাত্ৰা সুখকর হয় না । সহজ প্রশ্নের উত্তর লিখিয়া পরীক্ষায় উত্তীৰ্ণ হইলে পরীক্ষায় উত্তীৰ্ণ হইয়া তৃপ্তি হয় না। কঠিন প্রশ্নের উত্তর লিখিয়া পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হইলে তবে পরীক্ষা দিয়া সুখ ও গৌরব বোধ হয়। জীবনযাত্রায়ও তেমনি যদি নানা দুঃখকষ্টে পড়া যায় এবং সেই সব দুঃখ-কষ্ট অতিক্রম করিয়া ওঠা যায়। তবেই দেখা যায় যে, মনের বল বাড়িয়াছে এবং যাহাকে মনুষ্যত্ব বলে তাহারও উন্মেষ হইয়াছে। এবং মনুষ্যত্বের উন্মেষ হইলে সকল দিকেই উন্নতি সম্ভব হয়। তোমার একটী ছেলের জ্বর-বিকার চলিতেছে। তুমি নানা বিভীষিকা দেখিতেছি। যদি অৰীীর অস্থির ভীতিবিহবল হও তবে চিকিৎসা বিভ্ৰাট ঘটাইয়া নিশ্চয়ই তোমার বিপদ বাড়াইয়া ফেলিবে । কিন্তু যদি ধৈৰ্য্য স্থৈৰ্য্য রক্ষা করিয়া চিকিৎসা বিভ্ৰাট না বাধাও তােহা হইলে বিপদে তুমি কুল পাইবে। এইরূপে বিপদে কুল পাইতে হইলে মনের যে শক্তির প্রয়োজন তাহা লাভ হইলে যে মানুষ নয় সেও মানুষ হইয়া যায়। শোকে মানুষকে বিহ্বল করিয়া থাকে । কিন্তু শোক সংযত ও অবিচলিত থাকিতে যে মানসিক শক্তির প্রয়োজন তাতো লাভ হইলে প্ৰকৃত মনুস্বত্ব লাভ হয়। তাই বলি দুঃখ-কষ্টে মানবের পরম মঙ্গলের বীজ নিহিত থাকে। অতএব দুঃখ-কষ্ট পাইতে হয় বলিয়া বিধাতাকে গালি দিও না বা তাহার নিন্দা করিও না। বিধাতা অমঙ্গল হইতে মঙ্গল আনিয়া দেন। তঁহার চরণে কোটি কোটি প্ৰণাম । কঠিন ও কঠোর না হইলে अडिालीं छ्& च ब ; बेङ् লাভে অক্ষম হইতে হয়। দুঃখ-কষ্টে স্থির ধীর ও অবিচলিত থাকিতে হইলে কঠিন ও কঠোর হইতে হয়। নাহিলে ভাজিয়া পড়িতে হয়। দুঃখে মানুব গঠিত হয়, ‘স্বণে মানুষ এলাইয়া যায়। যীশু খৃষ্ট বড় কষ্ট সহিয়াও, শত্রুর জন্য ঈশ্বরের কাছে ক্ষমা প্ৰাৰ্থনা করিয়াছিলেন বলিয়া আধখানা পৃথিবীর আরাধ্য দেবত হইয়া আছেন। সীতা দেবী বিষম কষ্ট সহিয়াছিলেন। তাই আজ সমস্ত পৃথিবীর আদর্শ রমণী । শ্ৰী রামচন্দ্ৰ পিতৃসত্য পালনার্থ আমান মুখে চৌদ্দ বৎসর বনবাস কষ্ট সহিয়াছিলেন বলিয়া চিরকাল tà