পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৩৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


সেখানে যাই তাহার পরদিনই কান্তিবাবু বলিয়াছিলেন-কলেজৱ কৰ্ম্মে কিছুই হাইকে না, শীঘ্রই আপনাকে শাসন বিভাগে আনিব। কিন্তু দেখিলাম, রাজসভার হাওয়া বড় ভাল নয় এবং আপনি স্বাধীনতা রক্ষা করাও কঠিন । সহৱটাও দেখিলাম বড় শুক ও রুক্ষ দর্শন। তিনদিকে তৃণশূন্য পাহাড়, সমতল স্থান তৃণশূন্য, বারিশুন্য, বালুকাময়। আমি বাঙ্গালার ন্যায় বিশাল উদ্যানবিহারী, সুজলাং সুফলাং মলয়জশীতলাং বঙ্গের বাঙ্গালী, জয়পুরের দৃশ্য আমার ভাল লাগে নাই। তিন মাসের ছুটী লইয়া বাড়ী আসিলাম-বিধাতাকে বলিতে বলিতে আসিলাম, ঘরেই যেন আমার যৎকিঞ্চিৎ হয়। বিধাতা কৃপা করিলেন। ছুটী ফুৱাইবার অগ্ৰেই বেঙ্গল লাইব্রেীর অধ্যাক্ষেত্ব পদ খালি হইল। কয়েকজন ঐ পদের প্রার্থী হইলেন। স্যার আলফ্রেড ক্রফট বলিলেন-চন্দ্ৰনাথ যদি প্রার্থনা করেন, আর কেহ এ কৰ্ম্ম পাইবেন না। তঁহার কাছে আমি পড়ি নাই। তাহারা কিন্তু উপাধিধারীদের সংবাদ রাখিতেন, তঁহাদের ন্যায় শিক্ষাবিভাগের পদস্থ সাহেবেরা এখন রাখেন কি ! ১৮৭৯ সালের ৭ই অক্টোবর তারিখে আমি ঐ কৰ্ম্ম পাই। পাইয়া ৭ বৎসর কয়েকমাসে বিস্তর বাঙ্গালা পুস্তক পড়িয়ছিলাম। তাহার আমার সহােদর সদৃশ রামকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় অতি অকালে স্বৰ্গারোহণে করায় ১৮৮৭ সালের ১লা জানুয়ারী তারিখে আমি বেঙ্গল গভর্ণমেন্টের অনুবাদকের পদ প্ৰাপ্ত হই। অনুবাদকের কাজ যেমন কঠিন, তেমনই অপ্ৰীতিকর । পরিমাণে প্ৰায় অসীম । বড় অনিচ্ছায় এই কৰ্ম্ম গ্ৰহণ করিয়াছিলাম। কিন্তু গ্ৰহণ করিবার পর ইহাকে ধৰ্ম্মচৰ্য্যার তুল্য ভাবিয়া প্ৰাণপণে কীৰ্ত্তব্য পালন করিয়া বিগত ১লা জানুয়ারীতে অবসর গ্ৰহণ করিয়াছি। গৌরমোহন আঢ্যের স্কুলে বাঙ্গালা শেখা হয় নাই। প্রেসিডেন্সি কলেজে প্ৰথম দুই বৎসর যাহার কাছে বাঙ্গালা পড়িয়ছিলাম। তিনি বাঙ্গালী বটে, কিন্তু বাঙ্গালা জানিতেন না, তথাপি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় আটক পড়িতে হয় নাই। বাঙ্গালার পরীক্ষা শব্দ-গত না হইয়া এত অর্থ-গত হইত। তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষে পণ্ডিতবর কৃষ্ণকমল বাঙ্গালা পড়াইয়াছিলেন। ভালই পড়াইয়াছিলেন। কিন্তু গোড়া কঁাচ ছিল,- তাহার অধ্যাপনায় বিশেষ ফল পাই নাই। তিনিও সংস্কৃতে বেশ অনুরাগ প্ৰদৰ্শন করিয়াছিলেন। আমাদিগকে সংস্কৃত শিখাইয়াছিলেন। কিন্তু সংস্কৃত আমাদের পরীক্ষার্থ নির্দিষ্ট ছিল না। সুতরাং উহাতে তত মনোযোগী না হইয়া, পাঠ্য নয়। এমন ইংরাজী পুস্তক বহুল পরিমাণে পড়িতাম। ইংরাজীতে বেশী আকৃষ্ট হওয়ায় মনটাও কতক ইংরাজী ভাবাপন্ন হইয়াছিল। একদিকে যেমন দেবদেবীতে বিশ্বাস ঘুচিয়া গিয়াছিল, অন্যদিকে তেমনই ৰাঙ্গালা লিখিতে অপ্রবৃত্তি হইয়াছিল। তখন ইংরাজী লিখিয়া বড় মুখ হইত। যখন বি-এ পাস করি নাই তখন ৮/গিরিশচন্দ্ৰ, V