পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৪৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


* * 争 আরো তুমি এই স্থানে, দেখিয়াছ সমিধানে, কত সতী লয়ে মৃত পতি । স্বামীভক্তি অনুবলে, চিতার জলস্তানলে, হাস্যমুখে হইয়াছে সতী ॥ তরু তব জানা আছে, তনু ত্যজে তাক কাছে, পতি শয়ে যে সব রমণী। তার মাঝে এক সতী, পতিব্ৰতা গুণবতী, এ দীনের ছিলেন জননী । বহুকাল হ’ল গাত, বৎসর অৰ্দ্ধেক শত, তদুপরি আর পাঁচ ছয় । গতাসু হলেন পিতা, মাতা হন। সহমৃতা, শৈশবেতে আমি নিরাশ্রয় ॥ এ ঘটনা বহুদিন, হয়েছে কালেতে লীন, পুরাকথা মাঝে প্ৰবেশিত । আমি কিন্তু নাহি ভুলি, শ্মশানের সেই চুলী, মমহৃদে আছে জাগরিত ॥ সেই কাণ্ড দরশন, করিবারে আগমন, নরনারী হল উপস্থিত । তীর চর উপকুল, আবরিল নর কুল, ঘাটে তরী কত উপনীত ॥ আইল বিধৰ্ম্মী কত, মুসলমান শত শত, আর কত ফিরিঙ্গী ইংরাজ । দারোগ মূহুরী সনে, ইষ্ট বুঝি হৃষ্ট মনে, অগ্রসর হয় বার্কান্দাজ । জনতার পারাবার, নদী তটে সুবিস্তার, কোলাহলে উথলে কল্লোল । বহুল বিকাচ ছাতা, উত্তাপে রাখিতে মাথা, জনাৰ্ণবে তরঙ্গ হিল্লোল | হেথা হয়ে ভক্তিমতী, সাত পাক ফিরি সতী, লয়েছেন চিতায় আসন । রক্ত চেলী পরিহিতা, সিন্দরে শোভিছে সীতা, মুক্তকেশী অপূর্ব দর্শন। গলে দোলে পুষ্পমালা, প্ৰেতভূমি করি আলা, শব্ব পাশে শোভিছে সুন্দরী { শ্মশানে শঙ্কর যেন, ঘোর ঘুমে অচেতন, বামে বসে আছেন শঙ্করী ॥ নয়ন প্ৰফুল্ল অতি, ভাতিছে ভক্তির জ্যোতি, মুখপদ্মে হর্ষের উচ্ছাস । অটল বিশ্বাস মনে, লভিবে পতির সনে, অবিলম্বে স্বৰ্গে চিরবাস ॥ পরে সতী এ জগতে, ঐহিক বান্ধব হতে, একে একে স্পইয়া বিদায় । পুত্রে আশীৰ্বাদ করি, পতি শব বক্ষে ধরি, প্ৰেমানন্দে শুলেন চিতায় ॥ মম হাতে নুড়া জলে, মন্ত্র দ্বারা পূত হলে, মূখন্বয়ে দিলাম ফেলিয়া । অনেক স্বজন আসি, দেয়। তবে তৃণ রাশি, বাড়ে অগ্নি প্ৰবল হইয়া ॥ পৰ্ব্বত প্ৰমাণ হয়ে, শত শত শিখা লয়ে, ভীমাকারে জ্বলিল অনল । হৱিবোল দেয় লোকে, আমি ভয়ে কিম্বা শোকে, ফেলিলাম নয়নের জল । 瑞 事 * এই সহমরণের পর সরকারদের সংসারে রহিলেন একজন ষাট বৎসরের বৃদ্ধি মদনমোহন সরকার আর তাহায় শিশু পৌত্র গঙ্গাচরণ ! সে বেশ সংসার নয়। কিছু দিন পরে পিতা অবশ্য পাঠশালে যাইতে লাগিলেন । এই সময়ে পাঠশালার সংস্করণে at)