পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৪৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মিশনারিরা কোথাও কোথাও মনোযোগী হইয়াছিলেন। একজন আমেরিকান মিশনারি মিষ্টার আদাম (Adam) চুচুড়ার পাঠশালা সংস্করণের প্রধান উদ্যোগী হন। বাঙ্গালার অস্বাস্থ্যের কল্যাণে বৈদ্যনাথ দেওঘরে এখন অনেকেরই গতিবিধি হইয়াছে। বৈদ্যুনাথে পাদরিণী বুড়ী মেমকে অনেকেই দেখিয়া থাকিবেন। এক খানি ছোট ঠেলা গাড়ীতে বুড়ী মেম আধ শোয়া আধ বসা ভাবে আছেন ; দুই জনে সেই গাড়ী টানিতেছে, আর একজন ছাতা ধরিয়া তাহার মুখে ছায়া করিয়া গাড়ীর সঙ্গে TCT crificers fift (Miss Adain) মিস আদাম। তঁহারই পিতা f道計何 আদাম চুচুড়ার পাঠশালার প্রথম সংস্কারক। অথবা বিশুদ্ধ প্ৰণালী-সঙ্গত পাঠশালার ংস্থাপক । আমাদের বাড়ির নিকটে মনসাতলার কাছে, সেইরূপ একটি পাঠশালা ছিল। তাহাতে পিতা পড়িয়াছিলেন, সেই পাঠশালে পিতার সহাধ্যায়ী যদুনাথ বসুর এই বৎসরে মৃত্যু হইয়াছে। সাধারণ পাঠশালা হইতে এই সকল পাঠশালার প্ৰভেদ ছিল যে, এখানে ষত্ব-ণত্ব বা বর্ণগুদ্ধি শিখিতে হইত এবং ছাপার বই পড়িতে হইত। বাবার বাঙ্গালা শিক্ষার এই সূত্ৰপাত ! যদিও পাঠশালার সম্বন্ধে রিপোর্ট লিখিতে গবৰ্ণমেণ্ট ১৮৩৫ খৃঃ অব্দে ঐ আদাম সাহেবকে নিযুক্ত করিলেন ; কিন্তু এই সকল পাঠশালার প্রণালী গবৰ্ণমেণ্টের ভাল লাগিল না। রিপোর্টে লেখা হইয়াছে "The plan of Village Schools had been tried at the Chiro surah, Dacca, Bhagalpur, Saugor and in the Ajmear district ; but in every instance, the result was unsatisfactory and discouraging." ইংরাজীর সঙ্গে সঙ্গে বাঙ্গালা চালান স্থির হইল। ইহার বহু পূর্ব হইতেই চুচুড়াতে স্কুল ছিল। “১৮১৪ খৃষ্টাব্দে খৃষ্টান মিশনারি রেবরেণ্ড মে সাহেব চুচুড়াতে একটি মিশনারি স্কুল সংস্থাপন করেন। এতদ্দেশীয় ( অর্থাৎ বঙ্গদেশের ) ইংরাজি স্কুলের মধ্যে এই স্কুলটি সর্বপ্রথম সংস্থাপিত হয় । মে সাহেব গবৰ্ণমেণ্ট হইতে সাহায্য প্রার্থনা করেন । তঁহার প্রার্থনা সফল হয়। পরে কোন বিশিষ্ট হেতুবশত সেই সাহায্য রহিত হয়।” তাহার পর প্ৰাতঃস্মরণীয় মহম্মদ মহসিনের বিপুল সম্পত্তির একাংশের সরকার বাহাদুর ট্রষ্টী gF(Mai 1 v OG : NGN YG Eestigqi şFFTCITS College of Mahammad Mahsin খুলিল। ইহাকেই এখন হুগলী কলেজ বলে, যে দিন খুলিল সেই দিনই পিতা স্কুলে ভৰ্ত্তি হইলেন। শুনিয়াছি, সেদিন-কলেজ খুলিয়াছে।--ছেলেরা পড়িতে যাইতেছে -দেখিবার নিমিত্ত লোকে লোকারণ্য হইয়াছিল । তখন ভৰ্ত্তি হওয়ার কোনরূপ সেলামি ত লাগিতাই না, স্কুলের মাহিনীও ছিল না। কাগজ, কলম, কালী, খাতা, পড়িবার সমস্ত পুস্তক, অধ্যাক্ষের ছাত্রগণকে বিনামূল্যে দিতেন। তখন ছিল শিক্ষাদান, তাহার পর এতকাল চলিল শিক্ষা বিক্রয়, এখন আবার শুনিতেছি শিক্ষার