পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৪৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অতিরিক্ত দাম চড়াইয়া, লাট সাহেব নাকি শিক্ষার গৌরব বৃদ্ধি কৱিবেন। সন্তাৱ ख्रिश्न अवश्ही स्थांद्र बांकिtद न । পিতৃদেবকে শিক্ষার জন্য কখন কিছু ব্যয় করিতে হয় নাই। ইহার কিছুকাল পরে তাহার পিতামহের মৃত্যু হইয়াছিল। এখনকার দিন হইলে, সেই অসহায় নিৰ্দ্ধন বালকের লেখাপড়াই হয়ত হইত না । মদনমোহন মৃত্যুর কিছুকাল পূর্বে, পিতার বিবাহ দিয়া যান। তাহদের সংসারে আমার মাতা, মাতামহী এবং প্ৰমাতামহী ছিলেন মাত্র । শিশু পিতৃদেব, তাহদের অভিভাবক হইলেন, আর তাহার শ্বশ্ৰদ্ধ ও শ্বশ্ৰামাতা অভিভাবিকা রহিলেন । * আমরা এখন যে বাড়ীতে কদমতলায় বাস করি, এই বাড়ী তাহাদের। আর যে কুটীরে পিতা ভূমিষ্ঠ হন, সেই জায়গাগুলি আমাদের আছে ; তাহাতে দুই এক ঘর প্রজা এবং একটা শিবের মন্দির আছে। সে স্থানটী গঙ্গার অতি নিকটে । ১৮০৬ সালে পিতৃদেব স্কুলে ভৰ্ত্তি হইয়া ছিলেন। ১৮৪৫ সালে জুনিয়ার স্কলারসিপ পরীক্ষাতে, বৃত্তি পাইয়াছিলেন। বােধ করি ৪৬ সালে সিনিয়ার বৃত্তি পান, হুগলী কলেজে মাতৃভাষা শিক্ষা ভালরূপই হইত। পিতৃদেবদিগের সময়েও হইত, আমাদের সময়েও হইয়াছিল । আমাদের সময়ে যে ভালরূপ হইত, তাহার সাক্ষী, ইন্দ্ৰনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন। মধ্য সময়ে যে হইত, তাহার সাক্ষী বঙ্কিম বাৰু ছিলেন। প্ৰথম সময়ে যে হইত, তাহার সাক্ষী হুগলীর হরচন্দ্ৰ ঘোষ ছিলেন । পিতৃদেব সেই সময় কলেজে অধ্যয়ন কালেই যে ভালরূপ বাঙ্গালা শিখিয়াছিলেন, তাহার ধাতুময় সাক্ষী ( Medal ) আমাদের বাড়ীতে আছে। তাহার এক পিঠে হুগলী কলেজের ছবি, VNV fotò Gangacharan Sarkar. Bengali Essay, 1845. Criffive Vice ইতিপূর্বে ইংরাজী-অভিজের বাঙ্গালা ভাষার অনভিজ্ঞতার একটা বিন্দ্ৰপাত্মক গল্প ছিল । লোকে বলে কোকিলের যন্ত্রীলিঙ্গ লিখি৩ে হইলে, তাহারা নাকি লিখিতেন “মোদীকোকিল’। এ দুর্নােম প্ৰধানত এ কলেজে হরচন্দ্র ঘোষ ও পিতৃদেব কর্তৃক দুৱীকৃত হয়। যে ফিরিঙ্গী বাঙ্গালার লাঞ্ছনা এখন অনেকের মুখে শুনিতে পাওয়া যায়, সেই লাঞ্ছনা প্ৰথমে তিনিই প্রচার করিয়াছিলেন। “রাণী ! ও মহারাণী ! বাহকগণ, বিশেষত তোমার বাহকগণ, হয় খ্যাত্যাপন্ন ভাঙ্গতে কুশল কলেজের*।। হুগলী কলেজের অধ্যক্ষ সদারল্যাণ্ড সাহেবের বঁাশবেড়ের রাণীকে লেখা একখানি ইংরাজী পত্রের মোসাবিদ হইতে ঐ কলেজের কেরাণী জীবনকৃষ্ণ বন্দ্যোপাধ্যায় মহাশয় ঐ অতি উজ্জ্বল বাঙ্গালা অনুবাদ করেন, তাৎকালিক পরম মেধাবী ছাত্র, আমার পিতৃদেব গঙ্গাচরণ সরকার তখনই তাহা মুখস্থ কলিয়া ফেলেন এবং পয়ে তাহা কৃষ্ণনগর প্রভৃতি অঞ্চলে তাহার অনন্ত গল্পের মধ্যে প্রচার করেন । এই অপূর্ব ইতিহাস সকলে জানেন। ν