পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৬১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নাই, কিন্তু বাঙ্গালা শিখিয়াছিলাম, “আধিপ্ৰয়ণিক ব্যবধি।” পঞ্চপাদিক মানে বুঝিয়েছিলাম, যাহার পরিমাণ পাঁচ ফুট। ইত্যাদি ইত্যাদি। বহু পরে শুনিয়াছি, যে সময়ে জীবনচরিত রচিত হয়, সে সময়ে কৃষ্ণবন্দ্যের বা রেভারেণ্ড কে. এম. ব্যানাজীর বাঙ্গালা ভাষায় পাঠ্য স্থিরীকরণ বিষয়ে একাধিপত্য ছিল। বিদ্যাসাগর মহাশয়ের এই জীবনচরিত, তিনি নাকি ভাষা-দুষ্ট বলিয়া দূরীকৃত করেন । এবং পরে বিদ্যাসাগর মহাশয় নানারূপ চেষ্টা করিয়া। তবে জীবনচরিতকে পাঠ্যপুস্তক মধ্যে সন্নিবিষ্ট করিতে সফলকাম হন। গরিফার চন্দ্ৰশেখর বাবুর কথা পড়াতে গরিফার একজন তাৎকালিক গ্ৰন্থকারের নাম ও তাহার গ্রন্থের কথা মনে পড়িল । ১৮৫২ সালে গরিফার বৈদ্য শ্ৰীনন্দকুমার রায় ব্যাকরণদৰ্পণ নামে একখানি পদ্য ব্যাকরণ প্ৰণয়ন করেন। আমি মুখে মুখে সন্ধি করিতে শিখিয়াছিলাম ; আর এই ব্যাকরণদৰ্পণ পড়িয়াছিলাম ও অনেক স্থানই মুখস্ত করিয়াছিলাম, ব্যাকরণদর্পণের ছন্দের লক্ষণগুলি বেশ সুন্দর । চারি চারি বর্ণ সারি তিন বারি বয়, কহি শেষ, অবশেষ দুই শেষ হয় । সারি সারি মিল ধারি বর্ণ চারি পাবে, সৰ্ব্ব শুদ্ধ বর্ণ চৌদ্দ ইথে লব্ধ হবে। চতুঃসপ্ত বর্ণে দশাদ্যে বিহারি, ভুজঙ্গ প্ৰয়াতে হবে হ্রস্ব চারি। নন্দকুমার রায় কৃত আর একখানি পুস্তক সেই সময়ে পাঠ করিয়াছিলাম। সেখানি অভিজ্ঞানশকুন্তলা নাটকের বঙ্গানুবাদ । সংস্কৃত যেখানে শ্লোক আছে, বঙ্গানুবাদে সেই সেই স্থলে পয়ার বা ত্রিপদী ছিল । লেখা অতি প্ৰাঞ্চল ও সুললিত । সংস্কৃত নাটকের বঙ্গানুবাদ এইখানি বোধ করি, সর্বপ্রথম হইবে । আমি তখন নাটকের কায়দা, কারচুপি সে সকল কিছুই জানিতাম না । পিতা বুঝাইয়া দিবার কোন চেষ্টাও করেন নাই। ভাষা ছাড়া আর কিছু যে কেতবে বুঝিতে হয়, তাহা আমি বুঝিতাম না ; তবে ভাষা বুঝার পরে আমার সেই বালক-হৃদয়ে যে কিছু রসগ্ৰহ হইত না, এমন কথা বলিতে আমি প্ৰস্তুত নাহি। কৃষ্ণবন্দ্যের ভাষাও ত ভাষা ; তাহা পড়িতে একেবারেই ভাল লাগিত না ; আর বিদ্যাসাগর, অক্ষয় কুমার, ভারতচন্দ্ৰ, নন্দকুমার ইহাদের সে ভাষাই বা পড়িতে ভাল লাগিত কেন ? অক্ষয় কুমারের কথা সকল-অতি গভীর, লেখা-প্ৰগাঢ়, ভাব-গম্ভীর, তবু সে ভাল লাগিত, অথচ কৃষ্ণবন্দ্যের রাজোপাখ্যান কেবল গল্প বই ত নয়, তাহা ভাল লাগিতা না । কেন ? কাজেই বলিতে হইতেছে, আমি বাল্যজীবনে যে কেবল ভাষাই শিখিতেছিলাম। এমন নহে, W