পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৬২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


না বুঝিয়া না শুঝিয়া, একটু একটু সাহিত্যও শিখিতেছিলাম। রস-রচনা কাহাকে বলে তখন না বুঝি, কিন্তু রসের স্বাদ গ্ৰহণ করিতে অভ্যন্ত হইতেছিলাম। প্রভাকরের পদ্য উচ্চ অঙ্গের সাহিত্য না হইলেও সহজ সরল সরস রচনা বটে। নন্দকুমারের শকুন্তলার অনুবাদ খুব সহজ না হইলেও সরল সরস রচনা । আমার জন্মের দুই বৎসর পূর্বে-১২৫৩ সালে, আমার জন্ম হয়, ১২৫১ সালে, -মহাত্মা রাজনারায়ণ মিত্র “কায়স্থ-কৌস্তুভের” প্রথম ও দ্বিতীয় সংখ্যা প্ৰচারিত করেন । আমার জন্মের দুই বৎসর পরে ১২৫৫ সালে তৃতীয় সংখ্যার কায়স্থ-কৌস্তুভ প্ৰকাশিত হয় । কায়স্থ জাতির ক্ষত্ৰিয়ত্ব প্ৰতিপাদন ঐ গ্রন্থের উদ্দেশ্য । তৃতীয় পৃষ্ঠায় নারায়ণের পদতলস্থ “একবিংশতি চিহ্নের চিত্র বিচিত্র রূপ প্ৰকটিত” ছিল। আমি অতি শিশুকালে সেই সকল অপূর্ব চিত্র বিচিত্ৰ পাইয়া মনের সহিত কায়স্থকৌস্তুভ লইয়া খেলা করিতাম। সে পুস্তকখানি এখনও আমার আছে ; সে তৃতীয় পৃষ্ঠার ছবিগুলিও আছে। ৬০ বৎসর পূর্বে এরূপ পরিষ্কার চিত্র খোদিত হইত, আমার সে বইখানি না দেখিলে, আপনারা বিশ্বাস করিবেন না। যাউক সে কথা, আসল কথা কায়স্থ ক্ষত্ৰিয় এই কথাটা মাতৃদুগ্ধের সহিত আমার উদারস্থ হইয়াছে। তখন এ বিষয়ে তুমুল আন্দোলন হইয়াছিল। শুনিতে পাওয়া যায়, আঁদুলের রাজারা, এই বিষয়ে নাকি লক্ষ টাকা ব্যয় করিয়াছিলেন। বিম্বপুষ্করিণীর পীতাম্বর তর্কভূষণ, শোভাবাজারের সভাপণ্ডিত ভগবানচন্দ্ৰ ন্যায়রত্ন, কোন্নগরের তারাচরণ তর্কবাগীশ, সোনামুখীর বৈদ্যনাথ ন্যায়ালঙ্কার, ভট্টাপাড়ার হলধর তর্কচূড়ামণি, সংস্কৃত কলেজের জয়নারায়ণ তর্কপঞ্চানন প্ৰভৃতি এতদ্দেশীয় মহামহোপাধ্যায় পণ্ডিতগণ কায়স্থের ক্ষত্ৰিয়ত্ব বিষয়ে মত প্ৰদান করেন। আমি অতি বালককালে এইসকল কথা গলাধঃকারণ করিয়াছিলাম। কায়স্থ-কৌস্তুভ প্ৰকাশের ৬০ বৎসর পরে, এখনও সেই কথা সমানে চলিতেছে ; এখনকার কায়স্থসভায় আমি কয়দিন যাতায়াত করিয়াছিলাম । আমার বোধ হইতেছে ৬০ বৎসর পূর্বে কথাটা যেখানে ছিল, সেইখানেই আছে। কায়স্থ ক্ষত্ৰিয়, ব্রাত্য হইয়াছে, যাগযজ্ঞাদি করিলে সেই ব্রাত্যত্ব খণ্ডিত হইতে পারে। আমি বুঝিতে পারি না যে পঞ্চাশ বাট বৎসর অন্তর একথাটা এরূপ করিয়া আলোড়ন করার ফল কি ? যদি হিন্দু বলিয়া আপনাকে গৌরবান্বিত মনে কর, যদি জাতি বলিয়া কোন সত্য পদার্থ আছে মানিতে পারে, তবে এ কথার আন্দোলনে অর্থ আছে, নতুবা “তুমি যে তিমিরে তুমি সেই তিমিরে” । তখন পন্যে যেমন প্রভাকরের প্রসার, গন্তে তেমনই তত্ত্ববোধিনীর গৌরব। ১৮৪৩ সাল হইতে তত্ত্ববোধিনী প্ৰকাশিত হয় । ১ম ভাগ ১ম সংখ্যা হইতে তত্ত্ববোধিনী আমাদের বাটীতে ছিল। এক দিকে অক্ষয় কুমারের ভাষা হইতে যেমন গম্ভীর R8