পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৭৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হইয়াছিলেন। আহোলে মামলা, মুহরি আমলা, উকীল মোক্তার সকলেরই কাৰ্য্যে তাহাদের ক্রটি দেখাইয়া দিয়া, তাহদের ভাষা সংশোধন করিয়া দিতেন ; আর ভবিষ্যতে সেরূপ না হয়, তাহার জন্য সৎ-উপদেশ প্ৰদান করিতেন। আমার শিক্ষাতঁহার প্রধান লক্ষ্য । যাহাদের লেখার প্রয়োজন, যাহাতে তাহারা সহজে সরলভাবে লিখিতে পারে, তাহার জন্য তাহাদিগকে সর্বদা শিক্ষাদান, তাহার জীবনের দ্বিতীয় লক্ষ্য ছিল । পূর্বে বলিয়াছি, তিনি চারিটি বিদ্যালয় স্থাপিত করেন। কাছাৰী তাহার স্থাপিত নহে বটে, কিন্তু সেটি পঞ্চম স্কুল। সেখানে যত্ব, ণত্ব ব্যাকরণ কিছু শিখাইতেন না বটে, কিন্তু লেখার রীতি, কায়দা ও লেখার মধ্যেও যে একটা কাৰ্য্যাকরণ সম্বন্ধ আছে, সেই ভাবটা-সর্বদাই বুঝাইয়া দিতেন । আর কোন বিষয়েই সংস্কারক বলিয়া পরিচিত হওয়া পিতৃদেব গৌরবের বিষয় বলিয়া মনে করিতেন al, তবে সাধারণত, যাহাতে শিক্ষা বিস্তার হয়, এবং চলিত লেখা-পড়ায় যাহাতে অধিকতর বিশুদ্ধি, সারল্য, প্ৰাঞ্জলতা এবং বুদ্ধি বিচার থাকে, তা জন্য তিনি বিশেষ যত্নবান ছিলেন । এই স্থলেই তিনি সংস্কারক। যখন যে জেলায় গিয়াছেন, সেই খানেই যাহাতে ভাষার সংস্কার হয়, তাহার জন্য বিশেষ চেষ্টা করিয়াছেন । যে ভাষায় তিনি সাক্ষীর জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করিতেন, তাহা অবিকল সাক্ষীর কথা হইলেও বিশুদ্ধ বাঙ্গালা হইত। সাধারণ লোক কখন বাঙ্গালা বলিতে ভুলে না। আমাদের সহরঅঞ্চলে কখন কখন বলে বটে। “ঠাকুর মহাশয় চলে গেল, তার জুতজোড়াটা পড়ে রইলেন।” কিন্তু তখন তাহারা আমাদের অনুকরণ করিতে যায়, অর্থাৎ সাধুভাষা বলিতে যায়, গিয়া ভুল করে। তাহার সাক্ষীর জবানবন্দি অতি পরিষ্কার বিশুদ্ধ সহজ বাঙ্গালা । সমস্ত হুকুম নিজে লিখিয়া দিতেন, সাধারণত মোকৰ্দমার রায় বাঙ্গালাতেই লিখিতেন, তাহা অতি প্ৰাঞ্জল বাঙ্গালা হইলেও বিশেষ প্ৰগাঢ় হইত। তাহার সেই আদর্শ বাঙ্গালা লেখার সংক্রামকতা ছিল ; এই সকল কথা-ৰ্তাহার মুনসেফি অবস্থার কথা বলিতেছি । তিনি যখন সদর আল হইলেন, তখন বাঙ্গালায় বিশ বৎসর বিশুদ্ধ বাঙ্গালার চর্চা হইয়াছে ; ঢাকায় একজন এম, এ কে পিতৃদেব কিছুদিনের জন্য সব জজের সেরেস্তাদরী পদে নিযুক্ত করেন। তখন আর বাঙ্গালার ভাবনা তঁহাকে ভাবিতে হয় নাই। তখন বিশুদ্ধ বাঙ্গালা ভাষা দেশে শিকড় গড়িয়াছে। ছাত্রবৃত্তি পাশ শত শত যুবক রাজকীয় কৰ্ম্মাগারে নানা কৰ্ম্ম করিতেছেন। উলা, পানিআটা, জাহানাবাদ, সাতক্ষীরা, এই সকল স্থানে পিতৃদেবকে বাঙ্গলা ভাষার সংস্কারের কাৰ্য্য করিতে হইয়াছিল। এই সংস্কার কাৰ্য্যের প্রধান অধিষ্ঠান-ক্ষেত্ৰ উলা, পূর্বেই বলিয়াছি, ব্ৰাহ্মণ-মণ্ডলীর আবাস ভূমি। ব্ৰাহ্মণ সন্তানগণ সকলেই লেখা পড়া,