পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিমুখ। প্ৰথম যখন আমি ইটালীয় গীতবাদ্য শুনি, তখন আমিও তাতে কোন রস পাইনি, কিন্তু তবু আমি ক্ষান্ত হয়নি ; আমি ক্ৰমাগত চর্চা করতে লাগলাম যতক্ষণে না আমি তার মধ্যে প্ৰবেশ করতে পারলাম। সকল বিষয়েই এইরূপ । তোমরা বল আমাদের ধৰ্ম্ম ধৰ্ম্মই নয়, আমাদের কাব্য কাব্যই নয়, আমাদের দর্শন দর্শনই নয়। ইয়োরোপ যাহা প্ৰকাশ করে আমরা চেষ্টা করি তাহা বুঝতে ও হৃদয়ঙ্গম করতে, কিন্তু তাই বলে ভারতবর্ষ যাহা প্ৰকাশ করে তাকে অবহেলা করি না । আমরা যেমন তোমাদের সঙ্গীতবিদ্যা, কাব্য দর্শন আলোচনা করি, তোমরাও যদি তাই করতে তাহলে তোমরাও আমাদের দেশের বিদ্যাগুলির মৰ্ম্ম বুঝতে পারতে এবং আমাদের যে অজ্ঞ ও ভণ্ড মনে কর, বাস্তবিক আমরা তা নাই, বরং অজ্ঞাত বিষয়ে তোমরা যা জান, আমরা হয়তো তারো অধিক জানতে পেরেছি। দেখতে।” বাস্তবিক তিনি নিতান্ত ভুল বলেন নি । এই কথাগুলি বলতে বলতে তিনি ভারি উত্তেজিত হ’য়ে উঠলেন ; তঁকে ঠাণ্ডা করবার জন্য আমি অন্য বিষয়ের অবতারণা করে বল্লাম যে, “আমি শুনেছি যে ভারতীয় সঙ্গীতের উৎপত্তি অঙ্কশাস্ত্ৰ হইতে । আমি একবার সঙ্গীত শাস্ত্রের একটা সংস্কৃত খসড়া দেখেছিলাম। কিন্তু কিছুই বুঝতে পারলাম না। প্রোফেসার উইলসন একজন সঙ্গীতজ্ঞ লোক এবং তিনি বহুবৎসর ভারতবর্ষে বাস করেছিলেন, সেইজন্য তাকে আমি ঐ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলাম এবং ভারতীয় সঙ্গীত-বিদ্যা শিখতে ইচ্ছা! প্ৰকাশ করেছিলাম ; কিন্তু তিনি আমাকে বিশেষ উৎসাহ দিলেন না । তিনি বল্লেন যে, তিনি গান শিখবার জন্য একবার একজন কালোয়াতের কাছে গিয়েছিলেন, তাতে কালোয়াত বলেন যে, ছয়মাস পৰ্য্যন্ত সপ্তাহে দুই তিন দিন করে তার কাছে এসে গান শিখলে পর তিনি বলতে পারবেন যে এই ছাত্র সঙ্গীত-বিদ্যা শিখবার উপযুক্ত কি না। এবং তারপর একাদিক্ৰমে পাঁচ বৎসর কাল রীতিমত শিক্ষা কৱলে তবে পারদর্শী হ’তে পারবেন। এই কথা শুনে প্রোফেসার উইলসন সেইখানেই ক্ষান্ত দিলেন। সঙ্গীতরত্নাকর প্রভৃতি বিখ্যাত সঙ্গীত পুস্তকগুলি লাইব্রেরীতে দেখে আমার বড়ই লোভ হ’ত শিখবার জন্য, কিন্তু প্রোফেসার উইলসনের মুখে ঐ কথা শুনে পৰ্য্যন্ত আমাকেও ইচ্ছা দমন করতে হ’ল। তোমাদের ঠাকুর-পরিবারের মধ্যে আর একজন সঙ্গীত-শাস্ত্রের প্ৰধান পৃষ্ঠপোষক আছেন-তিনি হচ্ছেন রাজা সৌরীন্দ্রমোহন ঠাকুর। তোমার পিতামহ দ্বারকানাথ খুব বুদ্ধিমান লোক ছিলেন। কেন জানি না, তিনি ব্ৰাহ্মণকুলকে বিশেষ শ্ৰদ্ধার চক্ষে দেখতেন না এবং একদিন যখন আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম যে, দেশে ফিরে গিয়ে তঁকে প্ৰায়শ্চিত্ত করতে হবে কি না, তিনি হেসে বল্লেন, “আমি তো চিরকাল বহুতর ব্ৰাহ্মণকে পোষণ করে আসছি, সেই R