পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৮৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মিউনিসিপালিটীর বাইস চেয়্যারম্যান । কৃষ্ণবন্দ্যের ‘ষড়দর্শন সংবাদ’ আমাদের বি, এ-র অন্যতম পাঠ্য ছিল। তঁহার পদমূলে বসিয়াই সংস্কৃত দর্শনে যৎকিঞ্চিৎ প্রবেশ व्लाङ कदि । স্কুলে ভৰ্ত্তি হইয়া দেখিলাম, সুবোধিনী নামে একখানি সাপ্তাহিক সংবাদপত্র কলেজের অতি নিকটে চৌমাথা হইতে প্ৰকাশিত হয় । সম্পাদক রামচন্দ্র দিচ্ছিত্যু -বাঙ্গালার হিন্দুস্থানী ব্ৰাহ্মণ । ওবারসিয়ার পরীক্ষা পাস করা। সংস্কৃত, বাঙ্গালা বেশ জানিতেন। সরল, প্ৰাঞ্চল, বিশুদ্ধ সাধুভাষায় সুবোধিনী ছাপা হইত। ফুলস্ক্যাপ আকারের কাগজ । দুই স্তম্ভে। র্যাহারা সাধারণী দেখিয়াছেন, তঁাহারা এখন সহজেই বুঝিতে পরিবেন, সে সুবোধিনী আকারে প্রকারে সাধারণীর আদর্শ। সুবোধিনীতে ঈশ্বর গুপ্তের ছাত্ৰশ্রেণী অনেকেই পদ্য লিখিতেন। তন্মধ্যে কৃষ্ণসখা মুখোপাধ্যায়কে এবং মাদ্রালের গোপালচন্দ্ৰ মুখোপাধ্যায়কে বোধ হয় কেহ কেহ এখনও স্মরণ রাখিতে পারেন । অভয়চন্দ্ৰ পাড়েকে বোধ হয়, সকলেই ভুলিয়াছেন। তিনি সম্পাদক রামচন্দ্ৰ দিচ্ছিতের মামাত কি পিস্তুত ভাই ছিলেন । আর আমাদের তিন ক্লাস উপরে হুগলি কলেজের ছাত্র ছিলেন। পূর্বেই বলিয়াছি, সেটি সিপাহী সমরের সময় ৷ পাড়োজী পন্থ লিখিতেছেন ;- “জয় ব্রিটিশের জয় জয় ব্রিটিশের জয় যতেক বিদ্রোহিদল, যাক সব রসাতল, প্ৰবল ব্রিটিশ বল, হউক অক্ষয়, বলা হউক অক্ষয় । জয় ব্রিটিশের জয়, জয় ব্রিটিশের জয় ।” স্কুলের প্রথমাবস্থায়, সংবাদপত্রের মধ্যে, এই সুবোধিনী আমার প্রধান সম্বল ছিল । এডুকেশন গেজেট বা প্রভাকর আর দেখিতে বা পড়িতে পাইতাম না। এ অঞ্চলে কৃত্তিবাস কাশীদাসের ভূয়ো প্ৰচলন ছিল। ঐ সকল পুস্তক এবং বটতলার প্রকাশিত +রজনীকান্ত, জীবনতারা প্ৰভৃতি আরও অনেক পুস্তক আমি পাঠ করিয়াছিলাম। কাশীদাস কৃত্তিবাসের অনেক স্থলই মুখস্থ করিয়াছিলাম। এটি পড়িবে, উটি পড়িবে। না, আমার মাথার উপর এমন কেহ বলিবার ছিলেন না, আমিও ভাল-মন্দ সমস্তই গলাধঃকরণ করিতাম । তখন একরূপ মুসলমানী বাঙ্গলা সাহিত্য, জীবন্ত ছিল। কাজি সফিউদ্দীন নামে কোন মুসলমান সেই সকল বটতলা হইতে প্ৰকাশ করিতেন । চাহার-দরবেশ, গোলে-বকোয়ালি, ইসপা-জেলেখা, হাতেমা-তাই প্ৰভৃতি সেই সকল মুসলমানী বাঙ্গালা গ্ৰন্থও গলাধঃকরণ করিতে আমি ছাড়ি নাই। স্কুলে পড়িবার সময়েই, বৈষ্ণব-সাহিত্য এবং সংকীৰ্ত্তনের দিকে আমার মন আকৃষ্ট 8.