পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৮৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হয়। তবে তৎপূর্বে যে উলায় থাকিবার সময়েও ঐ টানের কিছু অন্ধুর জন্মে নাই, এমন কথা নহে। উলায় দেওয়ান মুখুয্যে মহাশয়দের নগর-সংকীৰ্ত্তন খুব ভক্তিপূর্বক শুনিতাম। পিতৃদেব দুই একটী নগর-সংকীৰ্ত্তনের গান বাধিয়াছিলেন ; তাহাও মনে আছে। আর উলায় থাকিলেও, ৮ দুর্গাপূজার সময় প্রতি বৎসরই বাড়ীতে থাকিতাম ; ৱিজয়া-দশমীর। পরদিন হইতে একমাস কাল আমাদের বাড়ীতে নিয়ম সংকীৰ্ত্তন হইত। সেই অবধি এখনও হইয়া থাকে। আমাদের জন্মের পূর্বে, আমাদের পল্পীতে, বাঞ্জারাম কীৰ্ত্তনিয়া ছিলেন । তাহার সংকীৰ্ত্তন গানে মোহিত হওয়াতে, বাগনাপাড়ার বলরাম বিগ্রহের নাকি হস্ত-স্থিত শিঙ্গা খসিয়া পড়িয়াছিল। সেই বাঞ্ছারামের দৌহিত্র গুরুদাস বাওয়াজি আমাদের বাড়ীতে নিয়ম-সংকীৰ্ত্তন করিতেন । আমাদের বৈঠকখানায় তঁাঙ্কাকে বেশ করিয়া বসাইয়া, পিতা তাহার গান শ্রবণ করিতেন । আমি এক মনে হা করিয়া শুনিতাম । আর যেদিন গোষ্ঠ-গান হইত, সেদিন বড়ই আনন্দিত হইতাম । এখন গুরুদাস-বংশ নির্বংশ হইয়াছে। চুচুড়ায় থাকিবার কালে, বৈষ্ণব-সাহিত্য সম্বন্ধে আর একরূপ শিক্ষা হইতে লাগিল । আমাদের পাড়ার সাদগোপবংশীয় নিয়োগীরা সদ গৃহস্থ । সে সময়ে বর্ষীয়ান কৰ্ত্ত জগমোহন নিয়োগী মহাশয় প্ৰত্যহই অপরাহে দুই পাঁচজন প্ৰতিবেশী লইযা চৈতন্য-চরিতামৃত পাঠ নিজে করিতেন, কখন বা শুনিতেন । তিনি আমায় বড় ভালবাসিতেন । আমরা নিয়োগীদের বাড়ীতে সৰ্ব্বদা ইংরাজী পড়া-শুনা করিতাম। চরিতামৃত-পাঠের সময় খেলা-ধুলা ইংরাজি বা অন্ধকষা ছাড়িয়া জগমোহন ঠাকুরদাদার পার্শ্বে বসিয়া চৈতন্য-চরিতামৃত পান করিতাম। মাঝে মাঝে জগমোহন দাদা বলিতেন, “মদন কাকার প্রপৌত্র, না হবে কেন ? আকারে টান যে ” পাডার চন্দ্ৰশেখর বৈদিক, পাটনা হইতে কি কাৰ্য্য করিয়া ফিরিয়া আসিলেন । পাঁচ হাত জোয়ান, ক বাটের মত বক্ষ, লাল চেহারা ; যদি পান, প্ৰত্যহ একটা গোটা পাঠা খাইতে পারেন ; কিন্তু প্ৰত্যহই অপরাহে পাঠ করেন ;-কাশীরাম দাসের মহাভারত। লাল। লক্ষ্মেী ছিটের তুল-ভরা জামা বন্ধক আঁটিয়া গায়ে দিয়া, রামরক্ষিতের দালানে বসিয়া, চন্দ্ৰশেখর বৈদিক মহাভারত পাঠ করিতেন । নিজে মহা পাঠা-খোর ; কিন্তু নাকে তিলক, গলায় তিনকন্ঠী মালা, পাড়ার বৈষ্ণব প্ৰতিবেশীরা সকলেই আগ্ৰহ-সহকারে সেই মহাভারত শ্ৰবণ করিতেন । আর তর্কবিতর্ক হইত-বৈষ্ণবতত্ত্বের নিগৃঢ় কথা লইয়া । যিনি যে দিক দিয়াই বলুন, ভগবানের নিলিপ্তবাদ সকলেই স্বীকার করিয়া লইতেন । ও কথায় তর্ক চলে না। সকলেই এইরূপ ভাবে কথা কহিতেন। আমিও সেই বালক কাল হইতে ঐ কথা মানিয়া লইয়াছি। এবং নিলিপ্তবাদে বিশ্বাস ক্রমে ভ্ৰাটীভূত হইয়াছে। রাধাকৃষ্ণের