পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/১৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আমার পক্ষে যথেষ্ট প্ৰায়শ্চিত্ত ! কিন্তু তিনি যে কেবল দেশীয় ব্ৰাহ্মণদেরই হীন চক্ষে দেখতেন তা নয়-তিনি যাদের নামকরণ করেছিলেন। ‘কালো কোট পরা বিলাতী। ব্ৰাহ্মণ'-তাদেরও সমান নীচ চক্ষে দেখতেন । যদিও তিনি ইংরাজদের সকল বিষয়েই প্ৰশংসা করিতেন, কিন্তু পাদ্রিকুলের কোন নিন্দাবাদ বা লজ্জাজনক ব্যবহারের কথা জানতে পারলে তিনি ভাৱি আমোদ বোধ করতেন । তিনি অনেকগুলি রাজনৈতিক ও পারমার্থিক সংবাদপত্র পড়তেন। তঁার একখানি খাতা ছিল যার মধ্যে তিনি অতি যত্ন সহকারে পাদ্রিদের নিন্দাজনক নানা কথা লিখে রাখতেন । সে এক অদ্ভুত সংগ্ৰহ-অনেক সময় আমি ভাবি যে সে খাতাখানির কি দশা হ’ল। তোমার ঋষিপ্রতম পিতা কখনই সে খাত লয়ে বৃহস্য করেন নি নিশ্চয়ই । কিন্তু যখনই খৃষ্টধৰ্ম্ম ও হিন্দুধৰ্ম্মের সত্যতা ও শ্ৰেষ্ঠতা নিয়ে কারে সঙ্গে তর্ক বাধতো, দ্বারকানাথ তখনই সেই খাতাখানি প্ৰমাণস্বরূপ বের করতেন । অবশ্য আমি বলতাম যে, কোন দেশেরই ধৰ্ম্মযাজকদের ব্যক্তিগত চরিত্রের উপর নির্ভর করে ধৰ্ম্মের বিচার করা b८नं ब्] | দ্বারকানাথ প্যারিসে খুব জাকজমক সহকারে বাস করতেন। তখনকার রাজা লুই ফিলিপ কর্তৃক তিনি সমাদরে গৃহীত হয়েছিলেন। শুধু তা নয়-দ্বারকানাথ একদিন খুব সমারোহে সান্ধ্য-সম্মিলনের আয়োজন করেন, তাতে রাজা লুই ফিলিপ ও বহু উচ্চপদস্থ ব্যক্তিগণ সন্ত্রীক নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে আসেন । দ্বারকানাথ সমস্ত ঘবখানি মূল্যবান কাশ্মীরি শাল দ্বারা সজ্জিত করেছিলেন। তখন কাশ্মীরের শাল ছিল ফরাসী স্ত্রীলোকদের একটা আকাজক্ষার বস্তু, সুতরাং কল্পনা করে যে তাদের কি অনিৰ্বাচনীয় আনন্দ হ’ল, যখন এই ভারতের রাজপুত্রটি বিদায়কালীন প্ৰত্যেক স্ত্রীলোকের অঙ্গে একখানি শাল জড়িসে দিলেন । ইংলণ্ডে বাসকালীন দ্বারকানাথ একটি মহা পুণ্যকৰ্ম্ম করেন। ভারতের প্রধান ধৰ্ম্মসংস্কারক রাজা রামমোহন রায়ে ৭ ভস্ম ব্রিষ্টলের গোরস্থানে সমাধিস্থ করা হয়েছিল ; দ্বারকানাথ সেই স্থানের পৈর সুন্দর মন্দির নিৰ্ম্মাণ করাইয়া দেন । হায় । তখন তিনি কল্পনাও করেন নি যে, অল্পকালের মধ্যে র্তাকেও এইরূপ বিদেশে প্ৰাণত্যাগ করতে হবে । বেদ আমার বড়ই আশ্চৰ্য্যবোধ হয় যে, যে দেশে • বেদের এত মাহাত্ম্য এবং যা প্ৰধান ধৰ্ম্মপুস্তক বলে গণ্য, সে দেশে কি না। আজ পৰ্য্যস্ত বেদ ছাপানো হয়নি এবং SV) বাল্যকথা-২