পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নানা রকম খ্যালনা নিয়ে এসেছিলেন। সেগুলি আমাদের মধ্যে বিতরণ করা ” হ’ল, আমি একটা কলের ময়ুর পেয়েছিলুম। ছোটকাকার কাছে অনেকানেক লোক যাওয়া আসা করত-রমাপ্ৰসাদ রায়, কিশোরীচাঁদ মিত্র, রাজেন্দ্রলাল মিত্র-পুরাকালের সব খ্যাতনামা পুরুষ -এ সবার মধ্যে তার দুজন মুসলমান বন্ধু ছিল, বজলুল করীম ও বজলুল রহীম। তঁদের নিয়ে অনেক আমোদ প্ৰমোদ হ’ত, কখনও বা ইংরাজি মোগলাই মিশ্রিত খানা দেওয়া হ’ত । তায় ভাগ আমরাও কিছু কিছু পেতুম। এ থেকে প্রমাণ হচ্ছে, তখনকার কালে হিন্দু মুসলমানে যেমন হৃষ্ঠাতা ও মেলামেশা ছিল এখন তা দুর্লভ-দর্শন। বিলাত থেকে ফিরে আসবার পরে ছোটকাকা দেখলেন। আমাদের কার-ঠাকুর কোম্পানি হাউস তখনো বেশ চলছে। ভিতরে ভিতরে তার যে অসার টলমল অবস্থা তা বুঝতে না পেরে তার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন। শেষে সেই হাউস ফেল হওয়াতে তিনি অশেষ ঋণভাৱে আক্রান্ত হয়ে পড়লেন । তিনি ও তার মধ্যম ভ্ৰাতা গিরীন্দ্ৰনাথ উভয়েই স্বভাবত ব্যয়শীল ছিলেন । এই বিষয় পিতার জীবনীতে এইৰূপ বর্ণিত আছে “এত দিনে, এই দশ বৎসরে আমাদের ঋণ অনেক পরিশোধ হইয়া গিয়াছে। পিতৃঋণের মহাভার আমার অনেক কমিয়াছে। কিন্তু আমার আর এক প্রকার নূতন বিপদভার, ঋণভার আমাকে জড়াইতে লাগিল। গিরীন্দ্ৰনাথ যখন জীবিত ছিলেন। তখন তিনি তাহার নিজের খরচের জন্য অনেক ঋণ করিয়াছিলেন । আমি তাহার কতক ঋণ পিতৃঋণের সঙ্গে পরিশোধ করিয়াছিলাম। এখন আবার নগেন্দ্ৰনাথ তাহার নিজ ব্যয়ের জন্য অধিকাধিক ঋণ করিতে আরম্ভ কৱিলেন । কেবল নিজের ব্যয়ের জন্য নয়, এমন কি, ১০ ০০ ০ দশ হাজার টাকা ঋণ করিয়া তিনি আর একজনের আসুকুল্য করিতেন-তিনি এমনি পরদুঃখে দুঃখী ও দয়ালু ছিলেন। তঁহার বদান্যতা, তাহার প্ৰিয়ব্যবহার লোকের মনকে অতিমাত্র আকর্ষণ করিয়াছিল।” ( ত্রিংশ পরিচ্ছেদ ) তিনি উল্লিখিত নানা কারণে বিলাত থেকে ফিরে এসে অবধি একটা উচ্চ পদের সরকারী চাকরীর সন্ধানে ফিরছিলেন । যে সকল বড় বড় সাহেব তার পিতার বন্ধু ছিলেন তাদের সাহায্য প্রার্থনা করে পত্র লেখেন ; অনেক সাধ্য সাধনার পর তিনি ৬ই মার্চ ১৮৫৪ সালে কষ্টমাস কলেক্টরের সহকারীরূপে নিযুক্ত হন । কিন্তু সে পদ তাকে অধিক দিন ভোগ করতে হয় নাই। ১৮৫৬ সালে জুন মাসে তিনি ইস্তফা পত্র দিয়ে তার কালেক্টর Young সাহেবকে লিখেছেন।-- "আজ আমার অবকাশের দিন সমাপ্ত হইল। দুঃখের সহিত নিবেদন করিতেছি, a