পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৬৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


করিলে এখনো চক্ষে জল আসে। যাহা হউক, যে জন্য এ বিষয়টা উল্লেখ করিতেছি - তাহা এই--মাতামহী আমাকে নিজের কাছে লইয়া শয়ন করিলে আমি রাত্রে তাহার কানে কানে আমার দারিদ্র্যের কথা বলিতাম। তিনি গোপনে আমার কাপড়ের খুটে "র্তাহার নিজ ব্যয়ের টাকা হইতে হয়তো দুইটি বা চারিটি টাকা বাধিয়া দিতেন, বলিতেন, “এ কথা কারুকে বল না, টাকার কষ্ট হলেই আমার কাছে এস।” এখন স্মরণ করিয়া লজ্জা হয়, কি স্বার্থপরতার কাজই কারিতাম । আমার মাতামহীঠাকুরাণী বড় ধর্মভীরু মানুষ ছিলেন । উপহাসাচ্ছলেও। যদি কাহাকেও কিছু দিব বলিয়া মুখ দিয়া কথা বাতির করিতেন, তাহা হইলে তাহ। না দিয়া প্ৰসন্নমনে থাকিতে পারিতেন না, তাহা দিতেই ঠাইত । দুই একটি দৃষ্টান্ত দিতেছি । একবার রন্ধনশালার জন্য একটি বড় ঘটি কেনা হইল। ঘটিটি এত বড় যে জলসুদ্ধ নাড়াচাড়া করিত্রে মেয়েদের কষ্ট হয় । মাতামহী একবার জলসমেত ঘটিটি তুলিতে গিয়া বলিয়া উঠিলেন, “‘বাবা রে! এ ঘটির এক ঘটি জল যদি কেউ এক DB DLLD BDBDBSTBB SDkJDS qDDBD BD DDD SS BDBD DBDBBDBBB BDD BBB পরিবারের একটি ছেলে ছুটিয়া গিয়া ঘটিটি লইয়া জলপান করিতে বসিয়া গেল । মাতামহী ভয় পাইয়া তাতার হাত ধরিয়া বলিতে লাগিলেন, “ওরে, তুই অত জল খাসনি, আমি টাকা দিব বলিছি, দিবই,’’ এই বলিয়া একটি টাকা আনিয়া তাহার হাতে দিলেন । আর একবার একদিন গ্রীষ্মকালে ভয়ানক রৌদ্রে উঠান তাতিয়া অগ্নি-সমান হইয়াছে। এমন সময় মাতামহীীঠাকুরাণীর একবার গোলাতে যঃ “ইেয়ার আবশ্যক হইল। উঠানে পা দিয়াই বলিয়াই উঠিলেন, “বাবা রে ! যেন আগুন, এ উঠানে যদি কেউ দুদণ্ড বসতে পারে, তবে তাকে দুটাকা দিই ।” অমনি একজন যুবক প্ৰস্তুত । সে লম্বফ দিয়া সেই তপ্ত উঠানের মধ্যে গিয়া বসিল । মাতামহী। একেবারে অস্থির হইয়া উঠিলেন, ‘ওরে তুই উঠে আয়, আমি দুটাকা দিচ্ছি,” বলিয়া তাহাকে দুই টাকা দিলেন । বাস্তবিক তাহার মতো কোমলহৃদয়া, দয়াশীল, স্বজন বৎসলা, উদারপ্ৰকৃতি, সত্যপরায়ণ নারী অল্পই দেখিযাছি । আমার বড়মামা দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ মহাশয় ধৰ্মভীরুতার জন্য প্ৰসিদ্ধ ছিলেন । ধর্মভীরুতা তিনি জননীী হইতে পাইয়াছিলেন । মাতামহীয় বৃদ্ধাবস্থায় আমার দুই মামী যখন ঘরকন্নার ভার লাইলেন ও তাহাকে ংসারে খুঁটিনাটি হইলে নিষ্কনি দিলেন, তখন ধর্মাচিস্তা, দরিদ্রের সেবা ও গৃহস্থ শিশুগণের পালন তাহার প্রধান কাজ দাড়াইল । তিনি প্ৰতিদিন প্ৰতে প্ৰায় অধ ক্রোশ পথ ইন্টিয়া গঙ্গাস্নান করিতে যাইতেন, এবং স্নানান্তে ফিরিবার সময় পথের দুই পথে পরিচিত দরিদ্র পরিবারদিগকে দেখিয়া আসিতেন। এটি তাঁহার নিত্য Σ ο