পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৭০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বলিয়াছিলেন, তাহাই তাহাদিগকে বলিয়া নিজের ভাত গুলি ঐ ব্যক্তিকে ধরিয়া দিলেন । আমি আহারান্তে আচমন করিয়া আসিয়া দেখি সে ব্যক্তি আহারে বসিয়াছে, দিদিমা অদূরে দাড়াইয়া দেখিতেছেন, এবং “বাবা, এটা খাও, ওটা খাও,” বলিতেছেন ; যেন তাহার প্রত্যেক গ্ৰাসে তাহার সন্তোষ হইতেছে। সে ব্যক্তি শাহারাস্তে ‘অসিয়া গলবস্ত্ৰ হইয়া আমার মাতামঙ্গীর চরণে প্ৰণিপাত করিয়া বলিল, 'মা অনেক বামনের মেয়ে দেখছি, তোমার মতো বামনের মেয়ে দেখিনি।” ঠিক কথা ! আমার মা তামহীর ন্যায় ব্ৰাহ্মণকন্যা বিরল। বলিতে কি, তঁহাকে আমি যখন স্মরণ করি, আমার হৃদয় পবিত্র ও উন্নত হয়, এবং এ কথা আমি মুক্ত কণ্ঠে বলিতে পারি যে, অামাতে যে কিছু ভাল আছে, তাহাবু অনেক অংশ তাহাকে ८त शिश *ाझेशांछि । জন্ম ও শৈশব ঃ মজিলপুরে বাস মাঘ-প্রতিপদে জন্ম। এই মাতামহীর ক্ৰোড়ে, মাতুলালয়ে, বাংলা ১২৫৩ সােল ১৯শে মাঘ ইংরাজী ১৮৪৭ সাল ৩১ জানুয়ারী, রবিবার, আমার জন্ম হইল। আমার জন্মকালের বিষ । যাহা শুনিয়াছি, লিখিতেছি । সায়ংকালে যখন আমি ভূমিস্ত হইলাম তখন সবে পূর্ণিমা গিয প্রতিপদের সঞ্চার হইতেছে । সেদিন আমার মাতামহ বাডিতে আছেন। কন্যার পুত্রসন্তান ভূমিষ্ঠ হইয়াছে শ্রবণমাত্র তিনি তঁহার এক দৈবজ্ঞ জ্ঞাতিবন্ধুর ভবনে ধাবিত হইলেন । গৃহস্থ রমণীগণের শঙ্খধ্বনিতে পাড়া কঁপিয়া যাইতে লাগিল । ওদিকে গ্রামে সংবাদ চড়াই যা পড়িল যে, ন্যায়রত্নের দৌহিত্র জন্মিয়াছে। মাতুলগৃহে সেই প্ৰথম শিশুবালকের আবির্ভাব। আমি ভূমিষ্ঠ হইয়াই মাতামঙ্গী ও তঁহার জননী, দুই মামী, দুই মাসী ( আর এক মাসী তখনো শিশু ) ও গৃহস্থ অপর দুই-একজন বিধবা, ইহাদের আদর ও অভ্যর্থনার ধন হইলাম। পরদিন রজনী প্ৰভাত হইতে না হইতেই দলে দলে বাজনাদার আসিয়া বাড়ি আক্রমণ করিতে লাগিল। পরদিন প্ৰাতে মাতামহ মহাশয় কলিকাতায় গেলেন । শনিবার তাহার ফিবিয়া না আসা পৰ্যন্ত সাতদিন দলে দলে বাজনাদার আসিয়া বাড়ি মাথায় করিয়া তুলিল । শনিবার মা তামহ ঠাকুর ও বড়ামামা কলিকাতা হইতে আসিলেন । বাবা। তখন -সংস্কৃত কলেজের ছাত্র, তিনি বোধ হয় লজাতে তঁহাদের সঙ্গে আসেন নাই । কিছু è R