পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বলতে পারি না । আমরা ত আর সে মজলিসে আসন পাইনি, উকি ঝুকি দিয়ে যা কিছু দেখা । ‘কামিনীকুমার’ বলে তার একখানি পদ্যোপাখ্যানেরও সেকালে বেশ আদর ছিল । মেজকাকার সব দিকেই চৌকোষ বুদ্ধি ছিল। বিষয়কৰ্ম্মে তার যে দক্ষতা মহর্ষির আত্মজীবনী থেকে তঁর কতক পরিচয় পাওয়া যায় । উপরে দীননাথ ঘোষালের নাম উল্লেখ করেছি। তিনি আমাদের ভারী প্ৰিয়পাত্রছিলেন, তাকে তাতের কাছে পেলে তার কাছ থেকে রামায়ণ মহাভারতের গল্প আদায় না করে কিছুতেই ছাড়াতুম না। তিনিও কথক ঠাকুরের মত গল্পের ঘটায় আমাদের মনোরঞ্জন করতেন । রামায়ণ ও মহাভার ২ ছেলেবেলায় এইরূপ মুখেমুখে শুনেই আমাদের এক রকম শেখা হয়ে গিয়েছিল । দ্বিজেন্দ্ৰনাথ ঠাকুর ( বড়দাদা ) ছেলেবেলায় বড়দাদা আমার সঙ্গের সঙ্গী ছিলেন, আমার কনিষ্ঠ ভ্ৰাতা হেমেন্দ্ৰনাথ প্ৰথম বয়সে আমাদের সঙ্গে সমকক্ষভাবে মেশবার অধিকারী ছিলেন না। বড়দাদা যখন খুব ছোট তখন থেকে তার ছবি-আঁকার নৈপুণ্য ও কবিত্ব শক্তি প্ৰকাশ পায় -কিন্তু হায় ! এই দুই বিদ্যার কোনটিই তার জীবনে স্থায়ীভাবে কাৰ্য্যকারী হ’ল না। তার বাল্যকালের কবিত্বোচ্ছাসে দুইটি কাব্যরত্ন প্ৰসূত হয়—মেঘদূতের পদ্যানুবাদ ও স্বপ্নপ্ৰয়াণ । তা ভিন্ন গুম্ফাত্ৰমণ কাব্য * ও অন্যান্য ছোটখাট কবিতা অনেক আছে যা সেই সময়কার ভারতী প্ৰভৃতি পত্রিকা খুজলে পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু কি জানি কি কারণে, বাগেদিবী চপলা লক্ষ্মীর ন্যায়। তার নিকট হ'তে সহসা অস্তধান হলেন, বড়দাদা কাব্যামৃতপান হ’তে বিরত হয়ে তত্ত্ববিদ্যানুশীলনের দুরূহ চিন্তা ও ধ্যানে মগ্ন হ'লেন, চিত্রকলার চৰ্চা ও ঐখানে থেমে গেল। তত্ত্বজ্ঞান আলোচনার সঙ্গে সঙ্গে আর দুইটি সৌখীন কলা তার মনোরাজ্য অধিকার করে বসল। -বাক্সরচনা প্ৰণালী, আর রেখাক্ষর বর্ণমালা । এতে এত সময় নষ্ট করা হ’ল কেন ? জিজ্ঞাসা করলে বড়দাদ হেসে বলেন, এ শুধু ছেলেখেলা নয়, এ দুই বিদ্যা সাহিত্যেরই অঙ্গীভূত । লিখতে বসলে লেখবার নানা সরঞ্জাম চাই, কাগজ, কাগজ রাখবার ।

  • পড়ে যেই লোক এই শ্লোক, পায় সে গুম্মফলোক ইহায় পয়ে ।

যথা গুম্ফ ধারী ভারি ভাবি, গোপের সেবা করি সুখে বিচারে | ৩. রাজনারায়ণ বসুর প্রতি লক্ষ্য করিয়া এই কাব্য রচিত হয় । RR