পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৮৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কে কার গায়ে পড়িয়া যাইতে লাগিলেন। তাহাতেই আমরা পরমানন্দিত হইয়া আপনাদের শ্রম সার্থক বোধ করিতে লাগিলাম । পিপড়ে কি কথা বলে ? আমি তখন পশুপক্ষী পুষিতে বড় ভালবাসিতাম। পুষি নাই এমন জন্তুই নাই। টুনটুনি, বুলবুলি, দোয়েল, ছাতারে, শালিক, টিয়া, ও সকল তো পুষিয়াছি, পিপড়েও পুষিতাম। ফড়িং ও পিপড়ে পোষা আমার একটা বাতিক ছিল। তাঙ্গাদিগকে অতি যত্নে কৌটার মধ্যে রাখিতাম। ফড়িংদিগকে কচি কচি দূর্ব ঘাস খাওয়াই তাম, পিপড়েদিগকে চিনি মধু প্ৰভৃতি খাইতে দিতাম । পিপড়ের গতিবিধি লক্ষ্য করিতে এতই ভালো লাগিত যে, আমি যখন ৬৭ বৎসরের ছেলে, তখনো পিপড়ে হইয়া চারি হাত পায় পিপড়েদের সঙ্গে সঙ্গে ঘুরিতাম । মাছি মারিয়া খ্যাংরা কাঠির অগ্রভাগ ভাঙ্গিয়া সেই কাটা দ্বারা সেই মাছি দাবার মাটিতে পুতিয়া দিতাম, দিয়া কখন পিপড়ে আসিয়া মাছি ধরিয়া টানাটানি করিবে: সেই অপেক্ষায় বসিয়া থাকিস্তাম । হয়তো আধঘণ্টার পর সেখানে একটি পিপড়ে দেখা দিল। সে প্ৰথমে আসিয়া মাছিটির পা ধরিয়া টানাটানি আরম্ভ করিল। যখন দেখিল সহজে টানিয়া লইতে পারে না, তখন চারিদিক প্ৰদক্ষিণ করিয়া পরীক্ষা আরম্ভ করিল। আমার খ্যাংরা কাঠিটির উপরে একবার উঠে একবার নামে, বড়ই ব্যস্ত। অবশেষে সে চলিয়া গেল । আমি তাহার সঙ্গে সঙ্গে গুড়ি মারিয়া চলিলাম । সে গিয়া গর্তের মধ্যে প্ৰবিষ্ট হইল। আমি দ্বারে অপেক্ষা করিয়া রহিলাম। আর আধা ঘণ্টা গেল । শেষে দেখি সৈন্যদল বাহির হইল । পিপড়ের সারি, মধ্যে মধ্যে দুইটা করিয়া বলবান অপেক্ষাকৃত দীর্ঘাকৃতি পিপড়ে। পরে ভাবিয়াছি, তাহারা সেনাপতি হইবে । প্ৰকাণ্ড সৈন্যদল ক্ৰমে আমার মাছিক্স নিকট উপস্থিত, তখন মহা টানাটানি আরম্ভ হইল। অবশেষে আমি খ্যাংরা কাঠিটি তুলিয়া লইলাম। তখন মাছি লইয়া সকলে গর্তের দিকে দৌড়িল। ইহারা ফিরিতেছে, তখন অপরের আসিতেছে, পথে মুখোমুখি করিয়া কি সঙ্কেত করিল যে, যাহারা আসিতেছিল তাহারাও ফিরিল। আমি মনে করিতাম, ইহাৱা নিশ্চয় কথা কয় । তখন মাটির নিকটে কান পাতিয়া রহিলাম, তাহদের শব্দ শোনা যায় । কি না। কান পাতিয়া আছি, তখন কেহ শব্দ কৰিলে বারণ করিতাম, “চুপ কর, চুপ কর, পি পড়েরা কি বলছে শুনি।” ইহা দেখিয়া বাড়ির লোকেরা হাসাহাসি করিতেন । এই ব্যাপার প্রায় সর্বদাই ঘটিত । পাখি ধরা। তৎপরে, পাখি ধরিবার ও পুষিবার জন্য অতিশয় উৎসাহ ছিল। পাখির বাসা হইতে বাচ্চা চুরি করিয়া আনিতাম, আনিয়া তাহার মায়ের মতো যত্নে, তাহাকে পালন করিতাম। সে জাতীয় পাখিরা কি খায়, তাহদের মায়েরা কিরূপে R\s