পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৯০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


যাইতে আরম্ভ করিল। একদিন সন্ধ্যা হইয়া গেল, গরু আর আসে না । বাবা ও মা চিন্তিত হইতে লাগিলেন। অবশেষে দেখা গেল যে, এক শেয়ালখাকী মহা চীৎকার করিতে করিতে আসিতেছে, সঙ্গে গরু নাই। আসিয়া আমাদের মুখের দিকে চাহিয়া চীৎকার করে, একটু দৌড়িয়া যায়, আবার দাঁড়ায়, আবার নিকটে ছুটিয়া আসে, মুখের দিকে চায়, ডাকে, আবার দৌড়িয়া যায়, আবার দাড়ায় । শেষে বাবা বুঝিলেন যে আমাদিগকে সঙ্গে যাইতে বলিতেছে। তখন আমাদের দুইজন বালককে সঙ্গে যাইতে আদেশ করিলেন । আমরা সঙ্গে গিয়া দেখি, একজনেরা আমাদের গরু বঁাধিয়া রাখিয়াছে। তাহারা শেয়ালখাকীকে দেখিয়া বলিতে লাগিল, “ওরে, কুকুরটা আবার এসেছে, নিজে মারি খেয়ে গিয়ে বাড়ির লোক ডেকে এনেছে ।” এই শেয়ালখাকীর ন্যায় আরও অনেকবার অনেক কুকুর পুষিয়াছি। আমার প্রপিতামহ। সর্বশেষে, আমার প্রপিতামহকে এই কালের মধ্যে যেরূপ দেখিয়াছিলাম, তাহার উল্লেখ করিয়া এই পরিচ্ছেদের উপসংহার করিতেছি । আমাকু স্মৃতিশক্তি যত দূর যায়, আমার জ্ঞানোদয় পর্যন্ত আমি তাহাকে অন্ধ বধির ও বাড়ির বাহিরে যাইতে অসমর্থ দেখিয়াছি । সে সময়ে বোধ হয় তাহার বয়স ৯৫ বৎসর ছিল । তিনি খর্বাকৃতি ও কৃশাঙ্গ মানুষ ছিলেন, সুতরাং তঁহাকে একটি বালকের মতো দেখাহত । আমার মা তঁহার ধর্মভাব ও সাধননিষ্ঠা দেখিয়া এমনি মুগ্ধ হইয়াছিলেন যে, কুলগুরুর নিকট মন্ত্রদীক্ষার সঙ্কল্প ত্যাগ করিয়া তাঁহারই নিকট দীক্ষিত হইয়াছিলেন। তৎপরে কোলের শিশুটির ন্যায় তাহাকে হাতে ধরিয়া পালন করা আমার মা’র এক প্রধান কাজ হইয়া দাড়াইয়াছিল। প্ৰাতে উঠিয়া গলবস্ত্রে তাহার চরণে প্ৰণত হইতেন, তৎপরে ছোট শিশুটির ন্যায় তাহার কাপড় ছাড়াইয়া কাচা কাপড় পরাইয়া পূজার আসন ও কোশাকুশী দিয়া তাহাকে পূজায় বসাইয়া দিতেন। বসাইয়া দিয়া নিজের গৃহকর্মে যাইতেন। পূজা অন্তে আমি তাহার হাত ধরিয়া বসিবার আসনে বসাইয়া দিতাম । আমাদের বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে একটি ছোট কোঠ-ঘর ছিল, তাহার এক অংশে প্রপিতামহ মহাশয় থাকিতেন, আর এক অংশে ঠাকুরঘর ছিল । সে জন্য সমগ্ৰ ঘরটি ঠাকুরঘর বলিয়া উক্ত হইত। ঠাকুরঘরে এক পাথরের বড় শিব, এক কাষ্ঠনির্মিত পঞ্চানন, এক স্ফটিকনির্মিত বাণিলিঙ্গ শিব, এক শালগ্রাম শিলা, এই চারি ঠাকুর থাকিতেন। বোধ হয় প্ৰপিতামহের অন্নপ্রাশনের সময় পাথরের শিবের প্রতিষ্ঠা হয়, আমার পিতার অন্নপ্রাশনের সময় কাষ্ঠনির্মিত পঞ্চাননের প্রতিষ্ঠা হয়, এবং অপর দুইটি ঠাকুর বোধ হয় কুলক্ৰমাগত। প্রপিতামহের যত দিন শক্তি ছিল, তিনি নিত্য ঠাকুরঘরে গিয়া ঐ ঠাকুরগুলি পূজা করিতেন। কিন্তু আমি যখন দেখিয়াছি, তখন V&