পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩১০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঘুরিতেছে। তৎপরেই আমি অচেতন হইয়া পড়িয়া গেলাম । প্ৰায় আধঘণ্টা পরে চৈতন্য হইল। চৈতন্য লাভ করিয়! দেখি, উঠান হইতে তুলিয়া আমাকে ঘরের দাওয়াতে শোয়ানো হইয়াছে, এবং দুই-তিনজন লোক তাপি তেল দিয়া আমার গা মালিশ করিতেছে ; বাবা আপনি তেল জোগাইতেছেন ও তাহাদের সাহায্য করিতেছেন । আমি জাগিয়া ’মা’ ’মা’ করিয়া ডাকিতে লাগিলাম । শুনিলাম, তিনি আমাকে অচেতন হইয়া পড়িয়া যাইতে দেখিয়া, কঁাদিতে কঁাদিতে বাড়ির নিকটস্থ জঙ্গলে গিয়! পড়িয়া আছেন। আমার চেতনা হইবামাত্র লোকে তঁহকে আনিবার জন্য গেল । একজনের পর আর একজন গেল, তিনি কাহারও • কথাতে বিশ্বাস করিলেন না। অবশেষে পীড়াপীড়ি করাতে বলিলেন, “কৃষ্ণচরণ - নাপিত যদি আসিয়া বলে যে ছেলে বেঁচে আছে, তবে আমি যাব, আর কারও কথাতে যাব না ।” এই কৃষ্ণাচরণ নাপিত পাড়ার একজন বৃদ্ধ দোকানদার ছিলেন । তিনি বড় ভক্ত ও DDBDD DB uBBB S KDBB BDD DBDBBBDSDD BBDBDDDBB DBBDDS DDBBBDBDS সেই রাত্রে কৃষ্ণচরণের নিকট লোক গেল। বৃদ্ধ লাঠি ধরিয়া অতি কষ্টে আসিলেন, এবং আমার সহিত কথা কহিয়া মাকে ডাকিতে গেলেন । মা তঁহার কথা শুনিয়া জঙ্গল হইতে উঠিয়া আসিলেন, এবং “বাবা রে, তুই কি আছিস ?” বলিয়া আমার। শয্যা-পাশ্বে পড়িয়া কঁাদিতে লাগিলেন । এদিকে, আমার যখন চেতন হইল, তখন আমি আমার স্বভাবসিদ্ধ জেঠামো করিয়া বলিতে লাগিলাম, ‘আমি মেজদার সঙ্গে ঝগড়া করেছিলাম, মারামারি করে - ছিলাম, দোষ হয়েছিল, সন্দেহ নাই। কিন্তু লঘু পাপে এত গুরু দণ্ড দেওয়া বাবার পক্ষে কি ভালো হয়েছে ? আমার স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকের; বাড়িতে রয়েছে, পাশের বাড়িতে কুটুমরা এসেছে, তাদের সমুখে এত মারা কি বাবার পক্ষে ভালো হ’ল ?” এই কথা বলিতে না বলিতে দেখিতে পাইলাম, বাবা অদূরে মাটিতে নাক ঘষিয়া নাকে খৎ দিতেছেন। এখানে এ-কথা বলা আবশ্যক যে, তাহার পরে তিনি সহস্ৰ উত্তেজনা সত্ত্বেও আমার বা আমার ভগ্নীদের গায়ে আর হাত তোলেন নাই । এমন কি, আমি ব্ৰাহ্মসমাজে যোগ দিয়া উপবীত পরিত্যাগ করলেও, তিনি তর্জন গর্জন করিয়াছেন, দন্তে দন্ত ঘর্ষণ করিয়াছেন, কিন্তু আমার গায়ে হাত দেন নাই ! ইহাতেই সকলে বুঝিবেন, তাহার অনুতাপ ও প্ৰতিজ্ঞা কিরূপ ঐকান্তিক ছিল ; মাতুলের সাপ্তাহিক ‘সোমপ্রকাশ”। ইহার কিছুদিন পরে আমার পিতা কলিকতা বাংলা পাঠশালার কর্ম হইতে বদলী হইয়া আমাদের গ্রামের হার্ডিঞ্জ মডেল বাংলা R