পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩১৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পূর্বেই বলিয়াছি, বালককালে আমার অতিশয় তন্মনস্কত ছিল : শ্ৰীকরূপে একবার গাছের পাখি দেখিতে দেখিতে হাতির পায়ের তলায় পড়িতে পড়িতে বাচিয়া গিয়াছিলাম, কিরূপে আমি তন্মনস্ক চিত্তে পড়িতে বসিলে বাব! আমাকে ডাকিয়! ডাকিয়া উত্তর না। পাইয়া আসিয়া প্ৰহার করিতেন, এবং আমার হা-কাল; নাম রাখিয়াছিলেন, তাহা অগ্ৰেই বলিয়াছি । এই মাতুলের বাসায় থাকিবার সময় একদিন আমি বাড়ির ভিতরের উপরের ঘরে তন্মান স্ব চিত্তে পাঠে মগ্ন আছি, এমন সময়ে বড়মামা! শয়ন করিবার জন্য উপরে অ্যাসিতেছেন । আমি তন্মনস্ক চিত্তে পড়িতে বসিলেই কোমরের কাপড় খুলিয়া যাহঁত ! সেইরূপ কাপড় খুলিয়। পড়িযছে, আমি পাঠে মগ্ন আছি। বড়মামার জুতার ঠিক ঠক শব্দ শুনিতেছি, কিন্তু চেতন ৷ হইতেছে না, কাপড় সামলাইয়া পরিতেছি না । অবশেষে বড়ম‘ম। যখন সেই ঘরের দ্বারে আসিয়া উপস্থিত হইলেন, তখন আমি সজাগ হইয়া কোমরের কাপড় সামলাইতে প্ৰবৃত্ত হইলাম। বড়মামা বলিলেন, “তুই কি ঘুমুচ্ছিলি ? বসে ঘুমুচ্ছিলি কেন ? শুতে তে। পারতিস ?” আমি বলিলাম, “না, ঘুমুই নি।” তিনি জিজ্ঞাসা করিলেন, “আমন থাড়ি-মাড়ি দিয়ে উঠলি কেন ?” আমি বলিলাম, “আমি মনে করলাম ছুচে। আসছে।” তিনি হাসিয়া বলিলেন, “ছাঁচো কি জুতো-পায়ে সিডি দিয়ে অ’ সে ?” এই লইয়; বাড়ির লোকের মধ্যে হাস৷হাসি পড়িয়া BBBB SBBBB BBOHS DDD K BBB BBB SL BBBB BBBJDD BDY BBDD প্ৰকাশ করিলেন । ছাত্রজীবনে পাচকবৃত্তি। ইহার কিছুদিন পরেই মাতল, প্লেলিওয়ে খুলিল। বড়মামা ভেলি প্যাসেঞ্জার হইয়া বাড়ি হইতে কলেজে গীতায়াত করিতে লাগিলেন । সোমপ্ৰকাশ যন্ত্র কলিকাতা হইতে চাঙ্গড়িপোতা গ্রামে তাহার বাসভবনে উঠিয়া গেল । আমাদের বাস। আবার ভাঙিলা ; আমি দুদিন ইহাদের সঙ্গে, দুদিন উহাদের সঙ্গে, এইরূপ করিয়৷ ভাসিয়া বেড়াইতে লাগিলাম । শেষে "আমার পিতা আসিয়া আমাকে সুকিয়! ট্রটে বাদুড়বাগানে এক আত্মীয়ের বাসাতে রাখিয়া গেলেন । তিনি আমার মাতার পিসতুতো ভাই । তিনি কম্পোজিটারি কাজ করিতেন, এবং একখানি সামান্য গোলপাতার ঘর ভাড়া করিয়া থাকিতেন । এরূপ স্থির রহিল যে, তিনি প্ৰাতে ও আমি বৈকালে পাক করিব । কিন্তু কাৰ্যকালে এই দাড়াইল যে, আমাকেই দুইবেল পাক করিতে হইত । কেবল তাহৰ নহে ; বাসন মাজা, ঘর ঝাড়ু দেওয়া, বাজার করা, জল তোলা প্ৰভৃতি সমুদয় কাজ আমার উপর পাড়িয়া গেল। অনেক সময় আমাকে বামহস্তে পাঠ্য পুস্তক ও দক্ষিণহস্তে ভাতের কাঠি লইয়া রন্ধন ও পাঠ এক সঙ্গে চালাইতে হুইত । আমি বহুকাল পরে সেই সময়কার একখানি পুস্তক পাইয়াছি, তাহাতে বামহস্তের হলুদের দাগ (V)