পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৩৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শয়নের পূর্বে একখানি খাতাতে একটি প্রার্থনা লিখিয়া পাঠ করিয়া শয়ন করিতে লাগিলাম। কেবল তােহাঁই নহে, দিনের মধ্যে প্ৰত্যেক দণ পনরো মিনিট অন্তর ঈশ্বর স্মরণ করিতাম ও প্রার্থনা করিতাম। দুঃখের বিষয়, আমার সে প্রার্থনার খােতাখানি হারাইয়া গিয়াছে। নতুবা ধৰ্মজীবনের শৈশবের সেই আধা-আধি ভাষা আজ দেখিতাম । ধৰ্মজীবনের সূত্রপাত। ব্ৰাহ্মসমাজে উৎসাহ ! প্রার্থনা কবিতে করিতে হৃদয়ে দুইটি পরিবর্তন দেখিতে পাইলাম। প্ৰথম, দুর্বলতার মধ্যে বল আসিল, আমি মনে সঙ্কল্প করিলাম, “কর্তব্য বুঝিব যাহা, নিৰ্ভয়ে করিব তাঁহা, যায় যাক থাকে থাক ধন প্ৰাণ মান রে।” আমি ধর্মের আদেশ ও হৃদয়বাসী ঈশ্বরের আদেশ অনুসারে চলিবার জন্য প্ৰস্তুত হইলাম। দ্বিতীয়, ভবানীপুর ব্রাহ্মসমাজে ঈশ্বরের উপাসনাতে যাইব স্থির করিলাম, ও যাইতে আরম্ভ করিলাম। কিন্তু পাছে আমাকে কেহ কিছু জিজ্ঞাসা করেন, পাছে লোকের সঙ্গে আলাপ হয়, এই ভয়ে উপাসনা আরম্ভ হইলে যাইতাম ও উপাসনা ভাঙিবার অগ্ৰেই চলিয়া আসিতাম । এই সময় হইতে ব্ৰাহ্মসমাজের সঙ্গে আমার একটু একটু করিয়া যোগ হইতে লাগিল। আমার সহাধ্যায়ী বন্ধু উমেশচন্দ্ৰ মুখোপাধ্যায় ( যিনি পরে বিলাতে গিয়া ডাক্তার হইয়া আসিয়াছিলেন )। তখন ব্রাহ্মদের নিকট সর্বদা যাইতেন, কেশবচন্দ্ৰ সেন মহাশয়ের কথা আমাকে আসিয়া বলিতেন এবং ব্রাহ্মদের প্রকাশিত পত্রিকাদি আনিয়া আমাকে পড়িতে দিতেন । কিন্তু আমাকে ব্ৰাহ্মদের কাছে লেইতে চাহিলো লজ্জাতে যাইতে চাহিতাম না । একদিনের কথা স্মরণ হয় । উমেশ আমাকে ও যোগেন্দ্ৰনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়কে ( যিনি পরে যোগেন্দ্ৰনাথ বিদ্যাভূষণ নামে বিখ্যাত হইয়াছেন। ) ভজাইয়া কেশববাবুর কলুটােলার বাড়িতে লইয়া গিয়া দেখা করাইয়া দিতে চাহিলেন। আমি কেশববাবুর বাড়ির দ্বার পর্যন্ত গেলাম, কিন্তু বাড়ির মধ্যে পা বাড়াইতে পারিলাম না ; উমেশের হাত ছাড়াইয়া পলাইয়া গেলাম । আর একবার উমেশ ও আমি চিৎপুর রোড দিয়া আসিতেছি, এমন সময় বৃষ্টি আসিল। তখন কেশববাবু চিৎপুর রোডে "কলিকাতা কলেজ’ নামে একটি কলেজ খুলিয়াছিলেন। আমরা বৃষ্টির } ভয়ে ঐ কলেজের বাৱাণ্ডার নিচে গিয়া দাড়াইলাম । উমেশ আমাকে ভিতরে যাইবার জন্য পীড়াপীড়ি করিতে লাগিল, আমি লজাতে ভিতরে যাইতে পারিলাম, না । এমন সময় একটি পশ্চিমে বেহাৱা উপর হইতে নামিয়া আসিল । আমরা কেশববাবুৱা কথা জিজ্ঞাসা করাতে সে বলিতে লাগিল, “কেশববাবু মানুষ নয়, দেবতা। তার কাছে চল, দুটি কথা শুনলে প্ৰাণ জুড়িয়ে যাবে ।” তাহার প্রভুভক্তি দেখিয়া