পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৪০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


একটি শিশু বালকের সহিত তাহার বিবাহ সম্বন্ধ স্থাপন করিলেন । আমি শুনিয়া আতিশয় দুঃখিত হইলাম । আত্মনিগ্রহের সংকল্প। ঈশ্বর চরণে প্রার্থনা দ্বারা আমার হৃদয় পরিবর্তন ঘটিলে আমার প্রাণে এক নূতন সংগ্রাম জাগিয়াছিল। সকল বিষয়ে আপনাকে ঈশ্বরোিচ্ছার অনুগত করিবার জন্য দুরন্ত প্ৰতিজ্ঞা জন্মিগ্নাছিল। ইহার ফল জীবনের সকল দিকেই প্ৰকাশ পাহতে লাগিল । সকল বিষয়ে আপনাকে শাসন করিতে আরম্ভ করিলাম । যে যে বিষয়ে আসক্ত ছিল তাহ! ত্যাগ করিতে এবং যে-কিছু অরুচিকর তাহ। অবলম্বন করতে প্ৰবৃত্ত হইলাম । এই সময়ে আমি প্ৰথমে মাংসাহার পরিত্যাগ করি, প্ৰাণহত্যা নিবারণের ইচ্ছায় নয়, কিন্তু মাংসের প্রতি আসক্তি ছিল বলিয়া । মাংসাহারে এমনই আসক্তি ছিল যে, ভবানীপুরে চৌধুরী মহাশয়দিগের বাড়িতে বাসকালে প্ৰায় প্রতি রবিবার প্রাতে যখন কালীঘাট হইতে জীবন্ত পাঠ আসিত, সে পাঠার ডাক শুনিলেই আমার পড়াশোনা বন্ধ হইত। তাহাকে কাটিয়া কুটিয়া রাধিয়া পেটে না পুরিতে পারিলে আর কিছু করিতে পারিতাম না । কবিতা পড়িতে ও কবিতা লিখিতে অতিরিক্ত ভালোবাসিতাম। বলিয়া কিছু দিন কবিতা পড়া বন্ধ করিয়া দিলাম, ফিলজফি ও লজিক পড়িতে আরম্ভ করিলাম । বন্ধুদের সহিত হাসিঠাট্টা ও গল্পগাছা করিতে ভালোবাসিতাম, কিছুদিন মনের কান মলিয়া দিয়া মৌনব্ৰত ধরিলাম । এই মনের কাল মলাটা তখন অতিরিক্ত মাত্রায় করিতাম । হৃদয়ে ধর্মভাবের উন্মেষ হওয়া অবধি আমি কলেজের পরীক্ষাতেও উৎকৃষ্ট হইতে লাগিলাম। তদবধি প্ৰতি বৎসর আমি কলেজে প্ৰথম স্থান অধিকার করিতে লাগিলাম। আত্মনিগ্রহের উদ্দেশ্যে, পাঠ্য বিষয়ে মধ্যে মধ্যে অপ্ৰীতিকর বোধে যে যে বিষয় অবহেলা করিতাম, তাহাতে অধিক মনোযোগী হইলাম । আমার মনে আছে, আগ্ৰে অঙ্কে অমনোযোগী ছিলাম, তাহার ফলস্বরূপ পরীক্ষাতে কখনো এক শতের মধ্যে বিশের উপর নম্বর পাইতাম না । ১৮৬৬ সাল হইতে তাহ বদলাইয়া গেল । আঙ্কে এরূপ মনোযোগী হই নাম যে, ঐ বৎসর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশিক্ষা পরীক্ষাতে প্রথম শ্রেণীতে উত্তীৰ্ণ হইয়া সেকেণ্ড গ্রেড স্কলারশিপ পাইলাম, কলেজেও প্ৰথম হইলাম। তৎপরে সেই প্রতিজ্ঞ ও সেই দৃঢ় ব্রত রা হয় গেল। কি কঠিন সংগ্ৰাম করিয়া ১৮৬৮ সালে এল. এ. পরীক্ষাতে উওর্ণ হইয়াছিলাম ও ৫৯ টাকা স্কলারশিক্ষা পাইয়াছিলাম, তাহার বর্ণনা ক্রমশ করিতেছি । আমার নব ধৰ্মভােব আমাকে সেই সংগ্রামে শক্তি দিয়াছিল। tr R