পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৪৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বৎসরের বালিকা। বোধ হয়, আমার পিতা-মাতার পরামর্শ ভিন্ন আনিতে গিয়াছিলাম বলিয়া তাহারা পাঠাইলেন না। যাহাকে বিবাহ দিব ভাবিতেছি, তাহাকে পত্নীভাবে গ্রহণ করা কর্তব্য নয় ; বলিয়া তাহাকে পত্নীভাবে গ্ৰহণ করিতাম না। তঁহাকে যে আনিয়া মহালক্ষ্মীর কাছে বুখিতে পারিলাম না, এজন্য মহা দুঃখ হইল। এল. এ. পরীক্ষার্থী। তাহার পর, আমার এল. এ. পরীক্ষাতে উৰ্ত্তীর্ণ হওয়া। যোগেনের বিধবাবিবাহের ফলস্বরূপ আমাদিগকে কিরূপ নিৰ্যাতন ভোগ করিতে হইয়াছিল, অগ্ৰেই তাহার বর্ণনা করিয়াছি। বিবাহের কিছুদিন পরেই মহালক্ষ্মীর স্বাস্থ্য ভগ্ন হইতে লাগিল। চাকর পাওযা যায় না, রাধুনী পাওয়া যায় না, সেই অবস্থাতেই তাহাকে রাধিতে হয়। এদিকে, যোগেন আত্মীয়-স্বজনের নির্যাতনে অস্থির হইয়া পড়িলেন ও ঈশান মেডিকেল কলেজের ডিউটি লইয়া সর্বদা অনুপস্থিত থাকিতেন। বলিয়া চাকরের অনেক কাজ আমার উপর পাড়িয়া যাইতে লাগিল। বাজার করা, কঁাধে করিয়া তিনতলায় জল তোলা প্ৰভৃতির কাজ আমাকেই করিতে হইত—এ সকল পূর্বেই বলিয়াছি। এই সকল করিয়া আমি পড়িবার সময় বড় পাইতাম না । সম্মুখে বৎসরের শেষে পরীক্ষা আসিতেছে, কিন্তু তাহার জন্য প্ৰস্তুত হইতে পারিতেছি না । এইরূপে ১৮৬৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শেষে আসিয়া উপস্থিত হইলাম। সংস্কৃত কলেজের তদানীন্তন অধ্যক্ষ প্ৰসন্নকুমার সর্বাধিকারী মহাশয় আমাকে অতিশয় ভালোবাসিতেন । তিনি বিদ্যাসাগর মহাশযের বন্ধু ছিলেন। তিনি এই বিধবাবিবাহে সন্তোষ প্ৰকাশ করিয়াছিলেন, কিন্তু আমার লেখাপড়া সব গেল দেখিয়া দুঃখিত হইতেছিলেন। তিনি অক্টোবরের প্রথমে আমাকে ভাকিয়া বলিলেন, “তুমি একটা ভালো কাজে আছ, কিছু বলতে পারি না, কিন্তু আমি তোমার জন্য চিন্তিত হয়েছি। তুমি আগামী পরীক্ষাতে কলেজের মুখ রাখবে বলে মনে আশা করছিলাম, কিন্তু এখন ভয় হচ্ছে, তুমি স্কলারশিপ পাওয়া দূরে থাক, পাস হও কি না সন্দেহ।’ তঁহার কথা শুনিয়া মনে হইল, আমি যেন কোনো পাহাড়ের কিনারায় দাড়াইয়াছি, আমার সম্মুখে গভীর গর্ত, আর এক পা বাড়াইলেই তাহার মধ্যে পড়িব । আমার সম্মুখে যে কঠিন সমস্যা উপস্থিত তাহা এক নিমিষের মধ্যে চক্ষের সমক্ষে আসিল । মনে হইল, স্কলারশিপ যদি না পাই, তাহা হইলে যাহাদের জন্য এতটা সংগ্রাম চলিয়াছে, তাহদের আর সাহায্য করিতে পারিব না । যোগেন ও মহালক্ষী সাহায্যের অভাবে কষ্ট পাইবেন ভাবিয়া চক্ষে জল আসিল । “ঈশ্বর রাখি, এই বিপদে রাখ” মনে-মনে প্রার্থনা করিতে লাগিলাম। এক মুহূর্তের মধ্যে কর্তব্যপথ নির্ধারিত হইয়া গেল। সর্বাধিকারী মহাশয়ের মুখের “দিকে চাহিয়া ধীর ভাবে জিজ্ঞাসা করিলাম, “আপনি কি আমার প্রতি একটা অনুগ্ৰহ yrir