পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৪৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পীড়া দেখা দিল। অতিরিক্ত দুর্বলতার সঙ্গে সর্বাঙ্গে শাদা-শ্যাদা চাকা-চাকা এক প্রকার ফোলা মাংস দেখা দিল, সেগুলিতে আঘাত কৱিলে বেদনা অনুভব করিতে পারিতাম না । কোনো কোনো ডাক্তার দেখিয়া বলিলেন, কুণ্ঠবাধি হইবার উপক্ৰম । ডাক্তার মহেন্দ্রলাল সরকার আমাকে অতিরিক্ত শ্রমের জন্য তিরস্কার করিয়া, ছয় মাস। কাল তন্মানস্ক হইয়া চিকিৎসা করিলেন, এবং আমাকে রোগমুক্ত করিয়া তুলিলেন । উপেন্দ্ৰনাথ দাসের বিধবাবিবাহ দেওয়া। অতঃপর উপেন্দ্রনাথ দাসের বিধবা" বিবাহের বিবরণ লিখিতেছি। এই ঘটনাটি বোধ হয ১৮৬৮ সালের মধ্য ভাগে ঘটিয়াছিল । হাইকোর্টের উকীল বাবু শ্ৰীনাথ দাসের জ্যেষ্ঠপুত্ৰ উপেন্দ্রনাথ দাস তখন কলিকাতায় যুবক রিফর্মারদের মধ্যে একজন প্ৰধান ব্যক্তি। তৎপূবে তিনি মান্দ্ৰাজ হইতে ফিরিয়া আসিয়া ইণ্ডিয়ান র্যাডিকাল লীগ নামে একটি সভা স্থাপন করিয়া তাহার সভাপতি রূপে কাৰ্য করিতেছিলেন । এরূপ জনশ্রুতি যে, কোনো পারিবারিক কারণে স্বীয় পিতার সহিত বিবাদ করিয়া উপেন্দ্ৰ মান্দ্ৰজে পলায়ন করেন। মান্দ্ৰাজ হইতে আসিয়া উৎসাহের সহিত যুবক সংস্কারকদিগের নেতা হইয়া দাড়ান। যোগেশ যখন বিধবাবিবাহ করিলেন, তখন উপেন যোগেনকে ও অামাকে একদিন নিজ সভাতে উপস্থিত করিয়া সর্বসমক্ষে বিশেষ সম্মানিত করিলেন । যুবকগণের কবুতালি ধ্বনিক্ষে আমাদের লাঙ্গুল স্ফীত হইয়া উঠিল। আমরা মস্ত একটা রিফর্মার হইয়া দাড়াইলাম। উপেন সংস্কৃত কলেজের ছেলে, আমরাও সংস্কৃত কলেজের ছেলে, সুতরাং এই সময় হইতে উপেনের সহিত আমাদের একটা ঘনিষ্ঠতা জন্মিল। যোগেন উপোনের কাছে যাইবার জন্য সময় বড় পাইতেন না, কিন্তু আমি ও উমেশচন্দ্ৰ মুখুয্যে দুজনে সর্বদা তাহার বাড়িতে যাইতাম ও উপোনের মুখনিঃসৃত ইউরোপীয় ফিলজফি ও সংস্কারের সুসমাচার হা করিয়া গিলিতাম। সময়ে-সময়ে আমি উপোনের বাড়িতে রাত্ৰি যাপন করিতাম । তাহার সহিত একটু বিশেষ যোগ হইবার কারণ ছিল। আমার দ্বিতীয়া পত্নী বিরাজমোহিনীকে পুনর্বার বিবাহ দিবার যে খেয়াল এ সময়ে আমার মাথায় ঘুরিতেছিল, উপেন সে খেয়ালের অংশী হইয়া সর্বদা নানা প্রকার পরামর্শ করিতেন । একদিন রাত্রে আমি উপেনদের বাড়িতে শুইয়াছি, উপেন আমাকে বলিলেন, “অতি কেন ভাবিতেছ ? তোমাৱ দ্বিতীয়া পত্নীকে ঢাকা কি কাশী কি লাঙ্গোর কোনো দুর দেশে লইয়া অবিবাহিত বলিয়া বিবাহ দিয়া ‘এস । তারপর তারা সেই দিকেই থাকুক । হলেই বা বেআইনি কাজ ?” আমি বলিলাম, “সে যে মিথ্যা ও প্ৰবঞ্চনা হয় ।” উপেন বলিলেন, “মিথ্যা দুই প্রকারের আছে, হোয়াইট লাইজ অ্যাও ব্ল্যাক লাইজ ; ওটা । হোয়াইট লাই ।” “হোয়াইট লাই, ব্ল্যাক লাই” কথা আমি সেই প্ৰথম শুনিলাম। আমি Y