পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৬৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নৱপূজার আন্দোলন উঠে। আমাদের বন্ধুৰায় বাবু যদুনাথ চক্রবতী ও বিজয়কৃষ্ণ* গোস্বামী সংবাদপত্রে প্রচার করিয়া দেন যে, ব্রাহ্মেরা কেশববাবুকে ‘প্ৰভু ত্ৰাণকর্তা” প্ৰভৃতি বলিয়া সম্বোধন করিতেছেন, তাহার চরণে ধরিয়া পরিত্রাণের জন্য প্রার্থনা করিতেছেন, ইত্যাদি ইত্যাদি। ইহা লইয়া দেশব্যাপী তুমুল আন্দোলন উপস্থিত। হয়, এবং যদুনাথ চক্রবর্তী ও বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী কেশবের দলকে পরিত্যাগ করিয়া যান । গোঁসাইজী নিজের শান্তিপুরের বাটীতে গিয়া চিকিৎসা কাৰ্য আরম্ভ করিলেন । আমার স্মরণ হয়, আমি এই বৎসরের মধ্যে শান্তিপুরে তাহার সহিত সাক্ষাৎ করিতে গিয়াছিলাম। পূর্বেই বলিয়াছি, তিনি আমার সহাধ্যায়ী, তাহার মুখে সমুদয় শ্রবণ করা উদ্দেশ্য ছিল। আমার স্মরণ আছে, উন্নতিশীল দলে এই বিবাদ বাধাতে আমি মর্মান্তিক দুঃখিত হইয়াছিলাম। ইহাতে কেশববাবু হইতে আমার চিত্ত বিচ্ছিন্ন হয় নাই, তাহাদিগকে নরপূজা অপরাধে অপরাধী বলিয়া বিশ্বাস জন্মে নাই, ব্ৰাহ্মদিগের: আচরণকে কেবলমাত্ৰ ভক্তি প্ৰকাশের আতিশয্য বলিয়াই মনে হইয়াছিল । কিন্তু, কেশববাবুর পত্রিকাতে প্ৰতিবাদকারীদের কথার উত্তর যে ভাবে দেওয়া হইয়াছিল, তাহাদিগকে লোকচক্ষে হীন করিবার জন্য যেরূপ প্ৰয়াস পাওয়া হইয়াছিল, তাঙ্গা সত্য ও ন্যায়ের অনুগত ব্যবহাৱা নয় বলিয়া প্ৰতীতি জন্মিয়াছিল । যাহা হউক, ১৮৬৯ সালের প্রারম্ভে গোসাইজী তাহার ভুল স্বীকার করিয়া যখন আবার কেশববাবুর সহিত সম্মিলিত হইতে চাহিলেন, তখন যেন আমার হৃদয়ের একটা ভার নামিয়া গেল। এই পুনমিলন উপলক্ষে রাণাঘাটের সন্নিহিত কলাইঘাট নামক স্থানে, ভারতবর্ষীয় ব্ৰহ্মমন্দির প্রতিষ্ঠার পূবে, একটা উৎসব হয়। ঐখানে গোসাইজী তখন সপরিবারে বাস করিতেন । আমি অপরাপর ব্রাহ্মের সহিত সেদিন সেখানে গমন করি। তৎপূর্বে কেশববাবুর সহিত সাক্ষাৎ ভাবে আমার আলাপ-পরিচয় হয় নাই। সেই উৎসব ক্ষেত্রে আলোচনা স্থলে নরপূজার আন্দোলনের প্রসঙ্গ উপস্থিত হইলে, আমি বলি, “মিরারে ও ধর্মতত্ত্বে কে লেখেন তাহা আমি জানি না, কিন্তু উক্ত উভয় পত্রিকাতে যে ভাবে গোঁসাইজী ও যদুবাবুর কথার উত্তর দেওয়া হইয়াছে, তাহা ন্যায় ও অনুগত ব্যবহার নাহে।” ইহাতে কেশববাবু কানে-কানে অপর একজনকে আমার বিষয় জিজ্ঞাসা করেন। তিনি বলিয়া দিলেন, “সোমপ্ৰকাশ সম্পাদক দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণের ভাগিনা।” এটা মনে আছে, কেশববাবু সেই দিন হইতে আমাকে বিশেষ ভাবে দেখিলেন ও চিনিলেন। আমি লে যাত্রা কেশৰৰাবুর সুপ্ৰসন্ন সরল ও স্বাভাবিক ভাব দেখিয়া মুগ্ধ হইয়াছিলাম। একদিন সন্ধ্যায় পন্থী তিনি সশিন্যে কীর্তন কৱিতে করিতে নৌকাযোগে চূৰ্ণী নদীতে বেড়াইতে গেলেন। Y 0