পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৬৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


উপবীতটা আমার স্কন্ধে চাপাইয়া দিয়া গেলেন । তৎপরে যাহাকে পরামর্শ জিজ্ঞাসা করি, সেই উপবীত ফেলার বিরুদ্ধে বলে । আর আমি ভাবিতে গেলেও সম্মুখে বড় বিপদ দেখি। আমি পিতা-মাতার একমাত্র পুত্র । উন্মদিনী গত হওয়ার পর আর তিনটি ভগিনী হইয়াছে, তাহারা সকলেই ছোট । আমি পিতা-মা তার একমাত্র অবলম্বন। লোকে যখম বলে, মা মরিবে, বাবা পাগল হইয়া যাইবেন, তখন কিছুই বিচিত্ৰ মনে হয় না । কি করি, কি করি, এমন কঠিন সমস্যা আমার জীবনে কখনো! উপস্থিত হয় মাষ্ট । এদিকে উপবীত রাখিয়া উপাসনা করিতে যাই, উপাসনা করিতে পারি না । কে যেন হৃদয়ে থাকিয়া ’ছি ছি' বলে, কে যেন আমাকে চায়, কে যেন আমাকে ডাকে । এইরূপ মানসিক আন্দোলনে অমান্য শরীর্ণ ভঙিয়া পড়িঙ্গে লাগিল, হজম শক্তি নষ্ট হহয়া দারুণ উদরাময়ে ধরিল । অবশেষে অ্যামি অনন্যগতি হুইয়া ঈশ্বর চরণে পড়িলাম, আপনার বিচার ও কর্তৃত্ব ছাডিয়া দিলাম। প্ৰাৰ্থমতে বার বার বলিতে লাগিলাম, “তুমি আমাকে লইয়া যাহা হয় করা।” কি আশ্চৰ্য । কিছুদিনের মধ্যে হৃদয়ে আশ্চর্য পরিবর্তন লক্ষ্য করিলাম। এত যে ভয় বিভীষিকা, কোথায় যেন পলাইয়া গেল ! আমার মনে অভূতপূর্ব বল ও উৎসাহ অ্যাসিল। উঠিতে বসিতে, শুইতে জাগিতে, কি এক অপূর্ব আশ্বাস বাণী শুনিতে লাগিলাম। কে যেন বলিঙ্গে লাগিলেন, “তোমার কাজ আছে, তোমাকে চাই, তুমি অগ্রসর হইয়া চল ।” আমি অস্তখন আমার পত্রে পিতাকে এই কথা লিখিয়াছিলাম, তিনি পড়িয়া নিশ্চয়ই হাসিয়৷ থাকিবেন । আমি উপবীত ফেলিয়া দিলাম । কিরূপে ধাধ্য হইয়া এ কাজ করিলাম, তাহা পিতাঠাকুরমহাশয়কে লিখিলাম। তিনি সে পত্র আমাণু মাতুলের নিকট পঠাইয়া দিয়া আমাকে ডাকাইয়া কথা কহিতে অনুরোধ করিলেন । মাতুলমহাশয় আমা'কে তাহার বাড়িতে ডাকাইয়া, সাধারণ ভাবে আমার সহিত উপবীত ত্যাগ সম্বন্ধে ও ধর্মভাব সম্বন্ধে তর্ক করিলেন । এই স্থানে বলা কর্তব্য, আমার মাতুল অতিশয় ধর্মভীরু ও উদারচেতা মানুষ ছিলেন, কাহারও ধর্মভাবের উপর হাত দেওয়া ভঁহার প্রকৃতিবিরুদ্ধ ছিল । তিনি রাগ উষ্মা প্রভৃতি কিছুই করিলেন না ; বন্ধুতে-বন্ধুতে যেরূপ কথাবার্তা হয়, সেইরূপ সৌজন্যের সঠিত আমার সঙ্গে কথা কহিলেন । পরে আমি চলিয়া আসিলে আমার পিতাকে লিখিলেন, “মানুষের অনেক প্রকার অন্ধত হইয়া থাকে, তন্মধ্যে ধর্মান্ধতা ও এক প্রকার। ইহার ধর্মান্ধত হইয়াছে, বল প্ৰয়োগে যে কিছু হইবে এরূপ মনে হয় না ।” অ্যামি পিতার ফাইল হইতে সে পত্র পরে দেখিয়াছি । পিতৃবিচ্ছেদ। কিন্তু পিতাঠাকুর মাতুলের পরামর্শ শুনিলেন না। কলিকাতায় আসিয়া আমাকে ধরিয়া লইয়া গেলেন এবং প্ৰায় একমাস কাল আমাকে এক প্ৰকার নজরবন্দী Seb