পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৮৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রাগিয়া গেলেন ও নিজের মনে মনে বলিতে লাগিলেন “মা গো মা ! কি দুষ্ট মেয়ে ! দেখলেই রাগ হয়।” আমি শুনিয়া হাসিয়া বলিলাম, “ৱাগেন কার উপরে ? ও যে ছবি । আর ও সব যে কল্পিত গল্প।” তিনি সেদিকে কান দিলেন না। তঁহার দ্বিতীয় কন্যার উল্লেখ করিয়া আমাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, “তার চুলগুলো কি কেটে দেব ? তার ও চুলগুলো ঠিক এমনি কেঁকড়া, দেখলে ঐ ছবিটা মনে পড়ে।” DD BB DDBBD DDDS আর একদিনের আর একটি ঘটনা উল্লেখযোগ্য। একদিন আমি কেশববাবুর সাহিত কোনো বিশেষ বিষয়ে আলাপ করিবার জন্য তঁহার ঘরে গেলাম। তখন তাহার বিশ্রাম করিবার সময়। কিন্তু দেখিলাম, তিনি ঘরে নাই। তাহার পত্নীকে জিজ্ঞাসা করাতে তিনি বলিলেন, "আমাকে কোনো কারণে রাগতে দেখে, তিনি প্ৰথমে বললেন, “তাই তো, তুমিও রেগে উঠলে ?” এই বলে এই ঘরেই কিছুক্ষণ চোখ বুজে বসে রইলেন, পাষাণের মুঠি, তারপর বাহির হয়ে গেলেন । খুঁজে দেখুন বোধ হয় বাগানের কোনো গাছতলায় চোখ বুজে বসে আছেন।” শুনিয়া আমি হাসিতে লাগিলাম। তিনি বলিলেন, “হাসেন কি ? ঐ চোখ বুজে-বুজেই আমায় সেরে আনছেন। আমি কিছু অন্যায় করলেই, রাগ নাই উন্মা নাই, চোখ বুজে একেবারে পাষাণপ্ৰতিমা হয়ে যান। আমি লজ্জায় মরে যাই । ভবিষ্যতে যাতে আর ওরূপ না করি, তার জন্য ঈশ্বর চরণে বার-বার প্রার্থনা করতে থাকি।” আমি শুনিয়া ভাবিতে লাগিলাম, যাহার বাহিরে এত তেজ, বক্তৃতাতে যিনি অগ্নি উদিগরণ করেন, যাহার মনুষ্যত্বের প্রভাবে ধরা কম্পিত হয়, গৃহের মধ্যে র্তাহার এই আত্মসংযম | বাস্তবিক, কেশবচন্দ্রের আত্মসংযম শক্তি আতি অদ্ভুত ছিল। বাদ বিসম্বাদ তর্কযুদ্ধে আমরা অনেকেই অনেক সময় উত্তেজিত ও ক্রুদ্ধ হইতাম, কিন্তু তিনি ধীর ও স্থির থাকিয়া আপনার বক্তব্য প্রকাশ করিতেন। মনে হয়তো গভীর বিরক্তির আবির্ভাব, কিন্তু বাহিরে তাহার প্রকাশ নাই। সুযুক্তি পরম্পরা দ্বারা শ্ৰোতাকে কোণঠাসা করিয়া ধরিতেন । দীর্ঘকাল একত্র বাস করিয়া কেবল দুই-এক স্থলে মাত্ৰ ভঁহাকে উত্তেজিত দেখিয়াছি। নতুবা তিনি সর্বত্র সর্ব কালে ও সর্ব বিষয়ে আমাদের নিকট সংযমের আদশ স্বরূপ থাকিয়াছেন । এ কথা যখনই স্মরণ করি, হৃদয় উন্নত হয় এবং নিজেদের দৈনিক ব্যবহারের জন্য লজ্জা হয়। ঊর্তাহার সংযমের এই দৃষ্টান্তটি চিরস্মরণীয় হইয়া রহিয়াছে। উপসংহারে বক্তব্য যে, কেশববাবুর ঘর হইতে বাহির হইয়া বাগানে তঁহাকে অন্বেষণ করিতে গিয়া বাস্তবিক দেখিলাম। যে, তিনি এক বৃক্ষের তলে নয়ন মুদ্রিত করিয়া ধ্যানে নিমগ্ন আছেন। » RN9