পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৩৯৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ডাকা রহিত হইল। বৎসরান্তে একবার একটা সম্মিলিত সভার মতো হইত, এই মাত্র অবশিষ্ট বহিল। অনেক যুবক ব্ৰাহ্ম-উপাসকগণের ঘননিবিষ্ট মণ্ডলী গঠনের জন্য উৎসাহিত হইয়াছিলেন, তাহার মধ্যে আমি একজন। নিয়মতন্ত্ৰ প্ৰণালী মতে কাজ হয়, তাহাও আমরা কয়েকজনে চাহিতেছিলাম । সে আকাঙ্ক্ষা ও একবার জাগিয়া আবার ভস্মাচ্ছাদিত বহ্নিীর ন্যায় রহিল । ভারত আশ্রম ত্যাগ ও হরিনাভি গমন । সুহাসিনীর জন্ম। হরিনাভির স্কুল, মিউনিসিপ্যালিটি, দাতব্য চিকিৎসালয়, ব্ৰাহ্মসমাজ। প্ৰকাশচন্দ্র রায় । পীড়িত মাতুলের আহবান। এই সকল মতভেদের মধ্যে ১৮৭৩ সালের প্রথমে আমার পূজ্যপাদ মাতুল, সোমপ্রকাশ সম্পাদক দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ মহাশয়, পীড়িত তইয়া আমাকে ডাকিয়া পঠাইলেন । কিছুদিন হইতে র্তাহার স্বাস্থ্য একেবারে ভগ্ন ঠাইয়া গিয়াহিল, তিনি অ’র কাজ করিতে পারিতেছিলেন না । ত্বরায় পেনসন লইয়া সংস্কৃত কলেজের অধ্যাপকতা ঠাইতে বিদায় লইয়া, বায়ু পরিবর্তনের জন্য উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে যাইবার সঙ্কল্প করিয়াছিলেন । কিন্তু তাহার সোমপ্ৰকাশ, তাহার প্রতিষ্ঠিত গ্রামস্থ সংস্কৃত-ইংরাজী স্কুল, তাহার বিষয়, তঁহার পরিবার-পরিজনের দেখিবার ভাবু কে নেয় ? অামার মাতুলপুত্রদিগের মধ্যে কেহই কাজের লোক ছিল না । বড়ামামা আমাকে নিজের চক্ষের উপরে মানুষ করিয়া ছিলেন । আমি বাল্যাবধি তাহার দৃষ্টান্ত না দেখিলে, ধর্ম ও নীতির ভাব যাহা হৃদয়ে পাইয়াছি, তাই পাইতাম কি না সন্দেহ । মামা আমাকে ডাকাইয়া বলিলেন, এখন তুমি অসিয়া আমার স্কন্ধের সব ভার না লইলে আমি বায়ু পরিবর্তনের জন্য যাইতে পারি না । আমি বিপদে পড়িয়া গেলাম। কেশববাবুর অনুরোধে একটা কাজের ভার লইয়াছি, আবার মামার অনুরোধ অপরদিকে । .প্ৰথম দিনে কোনো উত্তর না দিয়া ভাবিতে-ভাবিতে কলিকাতায় আসিলাম । আসিয়া মনে অনেক চিন্তা করিলাম, নগেন্দ্রবাবু প্ৰভৃতির সহিত অনেক পরামর্শ করিলাম। সকলেই মামার সাহায্যাৰ্থ যাইতে বলিলেন । অবশেষে অনেক চিন্তার পর কেশববাবুকে গিয়া বলিলাম, ‘মূতন বৎসর আরম্ভ হইতেছে, এখন মহিলা স্কুলে আমার স্থলে পড়াইবার ভার অপর কাহার ও উপব দেওয়া যাইতে পারে, সেইরূপ বন্দোবস্ত করুন। আমাকে আমার মাতুলের সাহায্যের জন্য যাইতে হইবে। তিনি কিছু বলিলেন না, মনে মনে Versi তইলেন কি না, তখন বুঝিতে পারিলাম না। পরে বুঝিয়াছি যে, আমার চলিয়া যাওয়া তিনি পছন্দ করেন নাই। আমি প্রচার কাৰ্যে জীবন দিবার জন্য আসিয়া বিষয় কর্মে গেলাম, ইহা তাহারা ভালো লাগে নাই। Y9t