পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


এইরূপ অশাস্তির বীজ ছড়াইবার চেষ্টা করে তাহদের মত দুৰ্ম্মতি আর কে আছে ? এক একবার দময়ন্তীর মত অভিশাপ দিবার ইচ্ছা হয়, যখন নািলরাজা তাহাকে অরণ্যে ফেলিয়া চলিয়া গিয়াছেন অপাপচেতসং পাপে যা এবং কৃতবান নীলং তস্মাদ দুঃখাতরং প্রাপ্য জীবত্বসুখীজীবিকা “অপাপচিত্ত নলকে মে পাপাত্মা এইরূপ কাৰ্য্যে প্ৰবৃত্ত করিল, সে তদাধিক দুঃখতর জীবিকা পাইয়া জী-মাধারণ করুক।” বিলেত থেকে ফিরে এসে বোম্বাই যাবার পর মেজদাদার সঙ্গে বড় আমার দেখা শুনো হ’ত না কিন্তু আমি সু-র পত্র-ব্যবহার বন্ধ হয় নাই । ইংলণ্ড বোম্বাই আমি যেখানেই থাকি তঁকে চিঠি লিখাতুম। আর ঊর্তার কাছ থেকেও স্নেহপূর্ণ পত্র পেতুম | ছুটিতে কলকাতায় এলে অপিশিল আমাদের ঘন ঘন দেখা সাক্ষাৎ হ’ত । একবার আমি বাতিরোগে আক্রান্ত তয়ে প্রায় দেড় বৎসরের ব্যামোর ছুটি নিয়ে কলকাতায় এসেছিলুম। সেই বাতে অনেক দিন শয্যাগত ছিলুম, তখন মেজদাদা সৰ্ব্বদাই আমাকে দেখতে আসতেন, আদর যত্ন করতেন, গল্পস্বল্পে আমার মনোরঞ্জন করতেন । আমার একটি আরামেব চৌকি ছিল তার চারিদিকে বন্ধুবান্ধবেরা ঘিরে বসতেন, ঠিক যেন একটি দরবার বসেছে। আমার মনে হ’ত ব্যামোর ভিতরেও যদি এত আৱাম পাওয়া যায়, তাহলে ব্যামোয় পড়তে আপত্তি কি ? O Pain where is thy sting ? মেজদাদার অল্প বয়সেই মৃত্যু হয়। যে তাকে ভাল করে জানত সেই তার গুণে মুগ্ধ হ’ত, "তার কেমন একটি আকর্ষণী শক্তি ছিল। অনেকে তার উপর অনেক আশা ভরসা স্থাপিত করেছিলেন । ছোটকাকার তার উপর কিরূপ স্নেহ মমতা ছিল তা আমরা তঁর পত্রে দেখতে পাই । মেজদাদার বিদ্যাশিক্ষায় পাছে কিছুমাত্র অযত্ন হয় এই তার ভাবনা । তিনি একপত্রে বলেছেন -“মানুষের মন রত্নখনি বিশেষ। সেই রত্নটিge নিয়ে মেজে ঘসে উজ্জল করলে তবে তা মূল্যবান হয়—মনের উপর শিক্ষার কাৰ্য্যও ঐ রূপ।” ভবিষ্যতে গণেন্দ্ৰনাথ আমাদের গৃহস্বামী হয়ে পরিবারের কল্যাণ সাধনে নিযুক্ত থাকবেন। এই আশায় তিনি আশ্বস্ত ছিলেন ; কিন্তু হায়! তাব সে অংশ পূর্ণ হ’ল না। যারা ভাল লোক দেবতারা শীঘ্রই তাদের আপনাদের কাছে তেকে নিয়ে যান, তাই তীর পিতার মৃত্যুর অনতিক’ল পরে তিনিও অকস্মাৎ আমাদেব সকলকে ছেড়ে পুণ্যলোকে চলে গেলেন । Requiescat in pace ! তঁর আত্মার শান্তি হোক ! \Qኒ”