পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৪৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


টাইটানিক জাহাজ-ডুবিই তার জলন্ত প্ৰমাণ ! এই সন্ধ্যা দুবার আবৃত্তি করবার নিয়ম ; কিন্তু ঐ নিয়ম বেশীদিন পালন করেছিলুম বলে বোধ হয় না। পরে আমরা মহৰ্ষির উপদেশে জানলুম যে, উপবীত গ্রহণের মুখ্য তাৎপৰ্য্য-গায়িত্রী মন্ত্রে দীক্ষা।-- তা হ’তেই আমাদের নূতন জন্ম - তখন থেকে আমরা দ্বিজ । ব্ৰহ্মসাধনের অঙ্গরূপে গায়ত্রী মন্ত্রের উপর পিতৃদেবের কতটা আস্থা ছিল তা তার আত্মচরিতে দেখলে পাই । তিনি বলেছেন “পুরুষানুক্ৰমে আমরা এই গায়িত্রী মন্ত্রে দীক্ষিত হইয়া আসিতেছি। এই মন্ত্র আমাদের শিরায় শিরায়। যদিও আমি বুঝিলাম যে, ব্রহ্মোপাসনার জন্য গায়ত্রী সাধারণের পক্ষে উপযুক্ত নহে, কিন্তু আমি সেই সাবিত্রী দেবীকেই ধরিয়া রহিলাম, কখনো পরিত্যাগ করিলাম না। গায়িত্রীর গৃঢ় ভাবাৰ্থ আমার মনে দিন দিন আরো প্ৰকাশ হইতে লাগিল। ক্ৰমে ক্ৰমে ‘ধিয়োয়োন: প্ৰচোদয়াৎ আমার সমস্ত হৃদয়ে মিশিয়া গেল। ইহাতে আমার দৃঢ় নিশ্চয় হইল যে, ঈশ্বর আমাকে কেবল মুক সাক্ষীর ন্যায় দেখিতেছেন তাহা নহে। তিনি আমার অন্তরে থাকিয়া অনুক্ষণ আমার বুদ্ধিবৃত্তি সকল প্রেরণ করিতেছেন। ইহাতে তাহার সহিত একটি ঘনিষ্ঠ, জীবস্তু সম্বন্ধ নিবদ্ধ হইল।” ৪৫-৪৬ পৃঃ । আমাদের মধ্যে উপনয়ন প্ৰথা সাধারণত যে ভাবে প্ৰচলিত আছে তাহা অর্থহীন আড়ম্বর মাত্র। বৈদিক ক্রিয়া সংক্ষেপে সারিয়া ফেলা-ঐ ক্রিয়ার সারভাগ পরিত্যাগ করে যেন শুধু খোলসটা রাখা হয়েছে। পিতৃদেব যে ভাবে উপনয়নকে পুনঃ প্ৰতিষ্ঠা করেছেন তাতে প্ৰাচীন প্রথার কাছাকাছি যতটা রাখা যেতে পারে তার চেষ্টা করা হয়েছে। আদি ব্ৰাহ্মসমাজের অনুষ্ঠান পদ্ধতির উপনয়ন-ভাগ দেখিলেই, তাহা স্পষ্ট 6यांक्ष?iभJ श् । এই অনুষ্ঠানে গায়ত্রী মস্ত্রেীয় শ্রেষ্ঠতা রক্ষিত হয়েছে। ব্ৰহ্মচারীর প্রতি উপদেশে এই মন্ত্রের বিশদ ব্যাখ্যা দৃষ্ট হবে। সেই উপদেশের সারমৰ্ম্ম এই :- "গায়িত্রী মন্ত্র তোমাদের ইহকালের অবলম্বন, পরকালের সম্বল। সেই মন্ত্র দ্বারা ঈশ্বরকে মনন। কৱিবে, তার জ্ঞান শক্তি ধ্যান করিবে । ও বলিয়া ব্ৰহ্মকে অন্তরে জানিবে এবং ভূভুব: স্বঃ বলিয়া স্বৰ্গমৰ্ত্ত্য অন্তৰীক্ষ বহির্জগতে তাহার আবির্ভাব দেখিবো। তিনি এই বিশ্বসংসার রচনা করিয়া আমাদের কাহারে নিকট হইতে দূরে নাই-তিনি আমাদের অন্তরে থাকিয়া আমাদের প্রত্যেককে শুভবুদ্ধি প্রেরণ করিতেছেন-'ধিয়োয়োন: প্ৰচোদয়াৎ’ ?” গায়ত্রী মন্ত্রের অর্থ এই ৷ 8 R