পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৫২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গজায় ব্যাড়াতে যৌতুম তখন সাঁতার দিয়ে স্নানে আমার বিশেষ আমোদ হ’ত। আমি সীতার দিতে দিতে অনেক দূৱ পর্যন্ত চলে যৌতুম, বাবামশাই তাতে কোন আপত্তি করতেন না, বোধ করি। যদিও এক একবার তার মনটা অস্থির হয়ে উঠত। বড়দাদা সাঁতারে সর্বাপেক্ষা মজবুৎ ছিলেন। র্তার রেখাক্ষরের মত সাঁতারেও তিনি যে কত রকম কারাদানী করতেন তার ঠিক নেই। যখন গঙ্গার ধারের বাগানে থাকতেন তখন মাঝে মাঝে সাঁতার দিয়ে গঙ্গাই পার হ’তেন ; আর সকলে ভয়ে অস্থির হয়ে পড়ত। হীরাসিং বলে এক পালওয়ানের কাছে আমরা কুন্তী শিখাতুম, তাতে আমার খুব উৎসাহ ছিল। ডনের পর ডন, বড় বড় মুগুর ভাজা-আর কত রকম কুন্তীর দাও, মাৱ পেচ শিক্ষা। আমি কুন্তীতে একজন ওস্তাদ হয়ে উঠেছিলুম। কেউ আমার সঙ্গে সহজে পেরে উঠত না । হীরাসিংহের চ্যালিদের মধ্যে অনেকে আমার সমবয়স্ক ছিল, তাদের সঙ্গে কুন্তী হ’ত-তাদের মধ্যে যারা বড় তাদেরও আমার কাছে হার মানতে হত, সহজে কেউ আমাকে ধরাশায়ী করতে পারত না । অথচ আমার বল যে বেশী তা নয়-এই কুন্তীতে শুধু বলীর জয় তা নয়, ছলে বলে কৌশলে যে কোন প্ৰকাৱে প্ৰতিপক্ষকে ধরাশায়ী করতে পারলেই জিৎ। । একদিন কুন্তী করতে করতে বেকায়দায় পড়ে আমার হাত মুচকে গিয়েছিল। কাউকে কিছু না বলে সেটা ঢেকে রাখবার চেষ্টা করা গেল। আমার ওস্তাদের টোটক ওষুধে সেরে যাবে এই ভেবে ছোলা ভিজিয়ে হাত বেঁধে রাখলুম ; কিন্তু তাতে কোন ফল হ’ল না। শেষে ডাক্তার সাহেবের রীতিমত চিকিৎসায় তবে আরাম হ’ল । তখন থেকে সেবারকরে মত আমার কুন্তী বন্ধ। এই সব বিষয়ে আমি অল্পেতে সন্তুষ্ট থাকতুম না, সবাহ বলত “যা করবে। সব তাতেই বাড়াবাড়ি-এ তোমার কেমন স্বভাব ।” তার ফল ভোগও করতে হ’ত-হাত পা ভাঙ্গা, মাথা স্থাঙ্গা কত বিপত্তি যে আমার উপর দিয়ে গিয়েছে তার অন্ত নেই। অথচ এখনো পৰ্য্যন্ত ত বেঁচে আছি। এত প্ৰকার বিস্ত্র বিপত্তির মধ্যে শিশুজীবন যে কি করে রক্ষা পায়, বিধাতার এ এক আশ্চৰ্য্য বিধান । সে যাহা হোক, একথা বলা যেতে পারে ‘কোন বিষয়েরই বাড়াবাড়ি ভাল নয়?-- এটা বড় ঠিক কথা । অতিবিক্ত শারীরিক পরিশ্রমে অনেক সময় উল্টা উৎপত্তিই হয়। তার সাক্ষী আমাদের ওস্তাদ হীরাসিং । তার কুন্তীর বিরাম নেই, যখনই দেখি কোন না কোন কঠোর ব্যায়ামে নিযুক্ত ; কিন্তু তার শরীর বেশী দিন টিকল না, শীঘ্রই ভেঙ্গে পড়ল। শুনেছি। এই সব পালোয়ানের দীর্ঘজীবী হয় না। শীর রক্ষা করতে হ’লে আহার বিহার ব্যায়াম এ সকল বিষয়ে মিতাচারী হওয়া আৰঞ্জীক । সীতা নির্দিষ্ট মধ্যপথই প্ৰশস্ত 8te