পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৬৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বাল্যকাল হ’তে ব্ৰহ্মসমাজের সঙ্গে আমার জীবন-সূত্র গ্রথিত ছিল । কিন্তু অনেকদিন পৰ্যন্ত আমাদের এই সমাজ এমন মৃদু মন্দ গতিতে চলছিল যে, তার প্রভাব বিশেষ অনুভব করতে পারিনি। আমার পিতা সিমলা পাহাড় থেকে ফিরে আসবার | পর এমন এক ঘটনা উপস্থিত হ’ল যাতে সেই সমাজের ইতিহাসে এক নূতন পৃষ্ঠা উদঘাটিত হ’ল। সেই ঘটনা হচ্ছে কেশবচন্দ্রের সঙ্গে মিলন। কেশবের আগমমে আমাদের সমাজে নবজীবনের সঞ্চার হ’ল । তিনি কোন সূত্ৰে প্ৰথমে আমাদের এহ দলে প্ৰবেশ করলেন তা আমার বেশ মনে পড়ে। তিনি প্ৰথমে আমার সঙ্গে এসে সাক্ষাৎ করেন-আমি তাকে আমার পিতার নিকটে নিয়ে যাই । তিনি আপনাদের কুলাচার অনুসারে গুরুমন্ত্র গ্রহণ করবেন। কিনা। এই বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে মহা আন্দোলন উপস্থিত হয়েছিল । পিতার সহিত তিনি এই বিষয় পরামর্শ করতে আসেন। পরামর্শে স্থির হ’ল যে, এই মন্ত্রে যখন তার বিশ্বাস নাই তখন তাহা গ্ৰহণ করা যুক্তিসিদ্ধ নয়। মন্ত্র গ্ৰহণ না করাই তিনি স্থির করলেন । সেই অবধি তার উপর তাবু বাড়ীর লোকেদের অত্যাচার আরম্ভ হ’ল এবং পরিশেষে তিনি সব ছেড়েছুড়ে সন্ত্রীক আমাদের বাড়িতে আশ্রয় গ্ৰহণ করলেন-পিতাও তাকে স্নেহপূর্বক আপনার পুত্ররূপে বরণ করে নিলেন। সেই সময় থেকে কেশবচন্দ্র ও তার পত্নী আমাদের পরিবারভুক্ত হয়ে আমাদের বাড়ীতে কিছুকাল বাস করেন। ব্ৰাহ্মসমাজের সেই মধ্যাহ্নকাল ;-) কেশবের প্রভাবে সমাজ এক নূতন মূৰ্ত্তি ধারণ করলে। আমিও সেই উৎসাহ-তরঙ্গে গা ঢেলে দিলুম। ব্ৰাহ্মসমাজের বেদী হ’তে পিতার হৃদয়ভেদী প্ৰাৰ্থনা ও উপদেশ, আব আমাদের রচিত নব নব ব্ৰহ্মসঙ্গীত মিলে সমাজে সাপ্তাহিক উপাসনার মধ্যে এক নূতন শ্ৰী, নূতন প্ৰাণ সঞ্চারিত হ’ল। আমি এই সব নিয়ে মেতে আছি। এমন সময় মনোমোহন ঘোষ আমাদের বাড়ী অতিথি হযে থাকতে এলেন । যেন একটা বোমা আকাশ থেকে পড়ে সব ভেঙ্গে চুরে দিয়ে গেল। अ८८ङ्क (, মনোমোহনের সঙ্গে আমাদের পৈতৃক সম্বন্ধ । তঁর পিতা রামলোচন ঘোষ আমার । পিতামহ স্বারিকানাথ ঠাকুরের পরম বন্ধু ছিলেন, ঐ বন্ধুতা সূত্রে মনােমোহনের সঙ্গে । আমারও ৰন্ধুতা জন্মেছিল। একজন ইংরাজ মাষ্টার আমাদের পড়াতে আসতেন, তিনি Retiries six, 37(se, "An old head on young shoulders'-3f. ধড়ে বুড়ার মাথা। বাস্তবিক তাই। তিনি আমার চেয়ে কিছু ছােট ছিলেন, তার ፴ ዓ