পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৮৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ডুবিয়া যায়, ততক্ষণে ১ দণ্ড হয়। ডুবিবামাত্র উহা তুলিয়া আবার বসাইতে হয়। উহা2 যতবার ডোবে, হঁড়ির গায়ে ততবার এক একটী চুণের দাগ দিতে হয়। তাহাতে দণ্ডের সংখ্যা ঠিক থাকে। রাত্ৰি যত দণ্ড হইলে সন্ধিপূজা আরম্ভ হয়, হাড়ির গায়ে ততগুলি চুণের দাগ পড়িলেই পুজারী মহাশয়কে চেচাইয়া বলা হয়, মহাশয় এতবার তাবি পড়িয়াছে। সন্ধিপূজা আরম্ভ হইবে শুনিলে, আমি তাবির জায়গা ছাড়িয়া চণ্ডীমণ্ডপে সন্ধিপূজার মন্ত্র শুনিতে যাইতাম। চণ্ডীমণ্ডপে গিয়া দেখিতাম, বসু গোষ্ঠীর সমস্ত স্ত্রীলোক সেখানে গলায় কাপড় দিয়া যোড়হাত করিয়া দাড়াইয়া আছেন, চণ্ডীমণ্ডপ ধূনার ধোয়াতে পরিপূর্ণ, মাকে প্ৰায় দেখিতে পাওয়া যায় না, আর চণ্ডীম গুপে ৬/কালীপূজার দীপান্বিতার ন্যায় অসংখ্য দুর্গাপ্ৰদীপ জ্বলিতেছেকারণ, সন্ধিপূজায় মায়ের চামুণ্ডা রূপে পূজা করা হয়,-বড় শক্ত পূজা, সেই ক্ষুদ্র মুহুর্তের মধ্যে, দুই একটা নয, কোটি যোগিনীর পূজাও শেষ করিতে হয়, আর সন্ধি বলিদানের সময় মহিষের শৃঙ্গোপরি রক্ষিত সরিষা, যতটুকু সময় থাকে, ততটুকু সময়ের জন্য মায়ের একবার আবির্ভাব হয়, এবং সেই আবির্ভাব কালের মধ্যে যাহাতে সন্ধিবলিদান হয়, তাহা ও করিতে হয়। বড় ভয়ানক, বড় শক্তিপূজা ! ঐ যে মহিষের শৃঙ্গের উপর সরিষার কথা, ওটা অতুলনীয় কবিকৌশল। সেই ভীষণ পূজার দুই একটা মন্ত্র শুনুন ; শুনিলে বুঝিবেন, এ পূজার কল্পনা যাহাঁদের মনে উদিত হইয়াছিল, সংসারে তাহদের অসাধ্য কিছুই নাই, অস্তিতঃ অসাধ্য হওয়া উচিত নয়। এমন ভীষণত যাহাদের এত প্ৰিয়, এত মনের ও হৃদয়ের সামগ্ৰী, তাহাদের কিছুতেই ভীত ত্ৰস্ত হওয়া উচিত নয় ; তাহারা ভীত ত্ৰস্ত হইলে বুঝিতে হয়, তাহাদের সারবত্তা ফুরাইয়াছে তাহারা মরিয়া গিয়াছে। এত স্ত্রী ও পুরুষ, কিন্তু কাহারও মুখে কথাটা নাই, এমন কি চপল চঞ্চল বালকেরা পৰ্য্যন্ত নিৰ্বাক নিস্তব্ধ, আমি যেন সে বিচ্চ নই, সে বালক নই, রোমাঞ্চিত হইয়াছি ; ঢাকী ঢুলী। ঢাক ঢোল ঘাড়ে করিয়া তাহদের সেই একচালাখানি ছাড়িয়া আটচালার ধারে আসিয়া দাড়াইয়াছে, স্ত্রীলোকেরা থাকিয়া থাকিয় “মাগো” “মাগে’ শব্দ করিতেছেন, ইংরাজীওয়ালারা পৰ্য্যস্ত তাকিয়া, সাটুকা ছাড়িয়া যেন স্তম্ভিত হইয়া বসিয়াছেন, ধুনার ধোঁয়ায় আটচালা পৰ্য্যন্ত আচ্ছন্ন হইয়াছে, আমি কঁাপিয়া উঠিয়া আনন্দে মগ্ন হইয়াছি, এমন সময়ে যেন সমস্ত ব্ৰহ্মাণ্ড ভীত ত্ৰস্ত করিয়া তন্ত্ৰধারক ঘোষাল মহাশয় মন্ত্রপাঠ করিলেন :-