পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৮৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


আরম্ভ হইল। স্ত্রীলোকেরা আজ মলিন বস্ত্ৰ পরিয়া গলায় কাপড় দিয়া সেখানে দাড়াইয়া বস্ত্ৰাঞ্চলে চক্ষু মুছিতেছেন। কৰ্ত্তারা বৈঠকখানা ছাড়িয়া চণ্ডীমণ্ডপে আসিয়া গলায় কাপড় দিয়া দাড়াইয়াছেন-আটচালায় অসংখ্য গ্রামবাসী গলায় কাপড় দিয়া দাড়াইয়া রহিয়াছেন। তন্ত্ৰধারক ঘোষাল মহাশয় মন্ত্রোচ্চারণ করিতেছেন। ঘোষাল মহাশয়ের গলা বড় মিষ্ট ছিল, এবং অনুরাগভরে কথা কহিলে সে গলা একটু কঁাপিত। সেই মিষ্ট গলায় ঈষৎ কম্পিত স্বরে ঘোষাল মহাশয় মন্ত্রেচারণ করিতেছেন : গচ্ছ গচ্ছি। পরং স্থানং স্বস্থানং পরমেশ্বরি । সংবৎসরব্যতীতে তু পুনরাগমনায় চ । মন্ত্ৰ শুনিয়া সকলেরই চক্ষু ফাটিয়া জল বাহির হইল। সকলেই ফোস ফোস করিয়া কঁদিতে লাগিল। কচি মেয়েটি বিবাহের পর দিন যখন প্ৰথম শ্বশুরবাড়ী যায়, তখন বিবাহবাড়ীতে কেবলই যেমন ফোস ফোসানি, আজ বিজয়া দশমীর দিন বাঙ্গালীর বাড়ীতে তেমনই কেবল ফোস ফে{সানি । দুৰ্গতিনাশিনী দুৰ্গা তো আমাদের দেবী নহেন, আমাদের ঘরের মেয়ে, আমাদের সতীসাধ্বীদের গর্ভের সন্তান। তাই ত আজ বৈকালের সেই অপূৰ্ব, অননুভবনীয়, অনির্বচনীয়, অতুলনীয় ব্যাপার। মায়ের প্ৰতিমা নদীতে নিক্ষেপ করিবার সময় হইয়াছে। প্ৰতিমা চণ্ডীমণ্ডপ হইতে আটচালায় নামান হইয়াছে। পুরুষেরা বাটীর বাহিরে গিয়াছেন-ঢাকী ঢুলী বাটীর বাহিরে গিয়া বিসর্জনের বাজনা আরম্ভ করিয়াছে। সদর দরজা বন্ধ করা হইয়াছে। স্ত্রীলোকেরা মাকে বরণ করিতে অসিয়ছেন । জলের কারা দিয়া তােহাৱা প্ৰতিমা প্ৰদক্ষিণ করিলেন । তাহার পর মাকে বরণ করিলেন । তাহার পর কঁদিতে কঁাদিতে মায়ের, লক্ষ্মীঠাকুরাণীর, সরস্বতীর, গণেশের, কাৰ্ত্তিকের, সিংহবাহিনীর সিংহের, মায়ের বর্ষাবিদ্ধ অনুরের পর্য্যন্ত মুখে সন্দেশ গুড়া করিয়া এবং ছেচাপান টিপিয়া টিপিয়া দিলেন, এবং প্ৰত্যেককে মাথার দিব্য দিয়া চোখের জলে ভাসিতে ভাসিতে আবার আসিতে বলিলেন, সর্বশেষে আপন আপনি বস্ত্ৰাঞ্চলে সিংহটি অনুরটির পৰ্য্যন্ত প্ৰত্যেকের পদধূলি পরম পদাৰ্থ বলিয়া গ্ৰহণ করিলেন -তাহার পর আবার কঁদিতে লাগিলেন। সর্বশেষে আমার মা প্ৰতিমার পিছনে দাড়াইয়া বস্ত্ৰাঞ্চল পাতিলেন, আমার পিতা সম্মুখ দিক হইতে তাহাতে কনকাঞ্জলি অর্থাৎ থালা শুদ্ধ চাল ও টাকা ফেলিয়া দিলেন। তখন পুরুষেরা প্ৰতিমা নদীতীরে লইয়া গেলেন। আচাৰ্য্যদিগের নদীতে চিরকাল আমাদের প্রতিমা বিসর্জন হয়। সেই নদীতীরে Y8