পাতা:আত্মকথা - সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/৯৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নানাগুণের অধিকারী,-শিক্ষিত সচ্চরিত্র, নিষ্কলঙ্ক, চরিত্রের বিশুদ্ধতায় বৃথাভিমান- , শূন্যতায় এবং চালচলনের নম্রতায় আমার অমূলাচন্দ্র যথার্থই অমূল্য। আমার নাতিনী সরযুবালা বা চমুৱাণীর পতি পঙ্কজভায়া বিশুদ্ধ চরিত ও বিনয়ী এবং শ্রেীষ্ঠে শ্রদ্ধাবান । আমার পৌত্ৰ শ্ৰীমান মহেন্দ্রনাথ অল্পবয়সে পিতৃহীন, কিন্তু প্ৰলোভনপূৰ্ণ কলিকাতা সহরে নিষ্কলঙ্ক আছেন । আমার সুখের সীমা নাই। আমি বড় ভাগ্যবান । আমার উপর বিধাতার বড়ই কৃপা । আমার কৰ্ম্মফলে দুই চারিটা শোিণক পাইয়াছি বলিয়া বিধা তার নিন্দা করিলে বা তঁহার উপর রাগ করিলে আমার নিমকহারামীর সীমা থাকিবেন, পরকালে আমাকে নিরায়গামী হইতে হইবে । বিধাতা পরম সুখদাতা-পৃথিবী নানা সুখে পরিপূর্ণ ; কে বলে জগতে সুখ নাই ! যে বলে, সে সংসারের শক্ৰ, ভগবানের শত্ৰু । চক্ষু বুজিয়া ভাবিতে ভাবিতে মন ভরিয়া গেল, সেই কালীপূজার আনন্দে। দুর্গাপূজা হইয়া গেল, স্কুলের ছুটী ফুরাইল, তবুও কিন্তু আমরা দেশেই রহিয়াছি। কালীপূজা আসিল—কালীপূজার দিন আজো পাজো না করিয়া কলিকাতায় আসা হইতে পারে না। পাকাটীর আজো পাজো ত হইবেই । তাহার উপর একটা বৃহৎ অগ্নিকাণ্ড করিতে হইবে । আজ প্ৰায় এক মাস ক’ল ধরিয়া আমরা শুকনা তালপাত কুডইয়াছি, এবং ১৫৷২০ হাত লম্বা একটা বঁাশে সেইসকল তালপাতায় বঁধিয়াছি, এবং আমাদের বড় পুকুরের পশ্চিম পাড়ে সেই বঁাশটা পুতিয়াছি। আজ কালীপূজা ; সন্ধ্যার পরই পাকাটির আঁটি জালাইয়া আঁজে পাজো করিয়াছি- আঁজো পজো করিতে করিতে সমস্বরে চীৎকার করিয়াছি। :--- আঁজোরে পাঁজোরে বুড়ো বাপ্পারে। ডাব নারিকেল চিনির পান থাওরে । প“ক” টির আঁজে প্যাজো শেষ করিয়া নচিতে নচিতে বড় পুকুরের ধারে গিয়া সেই "তালপাতায় আগুন দিয়াছি, শুকনো তালপােতা জ্বলিয়া সমস্ত কৈক ‘লং’ল মােঠ আলোকিত করিয়াছি।--কি আহলাদ বল দেখি ! শুনিতাম মাঠের অপর পারের দুল্লা প্ৰভৃতি গ্রামের লোকেরা সেই ভীষণ আলোক দেখিয়া ভীত হইত। তাঁহাতেই আমাদের অপর ও মজা, আর ও আহলাদ । সেই আহলাদ যেন জমাট বাধিয়া ফিরিয়া আসিয়াছে, সেই জমাট বাধা এবং শরীরী আহিলাদের সঙ্গে কেলাকুলি করিয়াছি । তেমনই আর একটা আহিলাদের কথা বলি শুন । বৈশাখ মাস গ্রীষ্মের ছুটিতে বাড়ী আসিয়াছি। কালবৈশাখী আরম্ভ হইল। তেমন কালবৈশাখী এখন আর হয় না। দিগন্তব্যাপী ক’লো মেঘ, তাহার পরেই ঝড় । অমনই মেয়ে পুরুষ বালক বুদ্ধ সকলেরই অব স্বাগানে যাওয়া । ঝড়ে অব পড়িতেছে--সেই অব কুড়োনেশ-যাত আনন্দের কথা R