পাতা:আত্মচরিত (শিবনাথ শাস্ত্রী).pdf/১১০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


N O Wr শিবনাথ শাস্ত্রীর আত্মচারিত প্রার্থনাতে আমার দৃঢ়বিশ্বাস জন্সিয়াছে। তৎপরে আমি অনেক প্ৰলোভনে পড়িয়াছি, সময়ে সময়ে পতিত হইয়াছি, অনেক অন্ধকার দেখিয়াছি, কিন্তু প্রার্থনাতে বিশ্বাস আমাকে পরিত্যাগ করে নাই। সকল সংগ্রামের মধ্যে দুর্বলতাতে বল, নিরাশাতে আশা, নিরানন্দে আনন্দ লাভ করিয়াছি। আমি দিব্যচক্ষে দেখিতেছি সেই মঙ্গলময় পুরুষ তাহার দুর্বল সন্তানকে হাতে ধরিয়া লইয়া যাইতেছেন। C যেমন যে ছেলেটা চলিতে পারে না, বারবার পড়িয়া যায়, তার নিজের ধরার অপেক্ষা না। রাখিয়া যেমন পিতা বা মাতাকে নিজে তাহাকে শক্ত করিয়া ধরিতে হয়, তেমনি যেন মনে হয় সেই মঙ্গলময় পুরুষ দেখিয়াছেন যে এ পাপী ও দুর্বল মানুষটা নিজে ধরিয়া চলিতে পারে না ; যখনি তঁহাকে ভুলিতেছে, তখনি পতিত হইতেছে ; তাই তিনি বারবার ধূলা ঝাড়িয়া চক্ষের জল মুছাইয়া তুলিয়া ধরিতেছেন।) বল ও আশা পাইয়া আমি নিজ বিশ্বাস অনুসারে চলিবার জন্য প্ৰতিজ্ঞারুঢ় হইলাম। এই বার আমার কঠিন সংগ্ৰাম আসিল। ইঙ্গার পূৰ্ব্বে গ্ৰীষ্মের ছুটীতে বা পুজার বন্দে বাড়ীতে গেলেই আমাকে ঠাকুর পূজা করিতে হইত। আমাদের কুলক্ৰমাগত কতকগুলি ঠাকুর ছিল। বাবা সচরাচর তাহদের পূজা করিতেন। আমি বাড়ীতে গেলে তিনি সেই কাৰ্য্যভার আমার উপর দিয়া অপরাপর গৃহকাৰ্য্য করিবার জন্য অবসর লাইতেন। ষেবারে আমার হৃদয় পরিবর্তন হইয়া আমি বাড়ীতে গেলাম, সেবার প্রতিজ্ঞা করিয়া গেলাম যে আর ঠাকুর পুজা করিব না। গিয়াই মাকে সে সংকল্প জানাইলাম। মা ভয়ে অবশ হইয়া পড়িলেন। বুঝিলেন একটা মহা সংগ্ৰাম আসিতেছে। আমাকে অনেক বুঝাইলেন ; অনেক অনুরোধ করিলেন। আমি কোনও মতেই প্ৰস্তুত হইতে পারিলাম না। ধৰ্ম্মে প্ৰবঞ্চন রাখিতে পারিব না বলিয়া করষোড়ে মার্জনা ভিক্ষা