পাতা:আত্মচরিত (শিবনাথ শাস্ত্রী).pdf/২০৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ। R O N সহ না করিয়া মন্দিরে আসা পরিত্যাগ করিলেন এবং খাস্তগির মহাশয়ের বাটীতে এক স্বতন্ত্র সমাজ স্থাপন করিলেন। তাহার একবার মহৰ্ষিকে আনিয়া আপনাদের সমাজে উপাসনা করাইলেন। তখন আমি ভারতাশ্রমে থাকিতাম। আমার বন্ধু দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায় এই স্ট্রীস্বাধীনতাপক্ষের প্রধান নেতা হইলেন। তাহার সঙ্গে অনেক দিন এক ভবনে বাস করিয়াছিলাম। হৃদয়ে হৃদয়ে একটা শ্ৰীতির যোগ ছিল । আমি তাহদের স্ত্রীস্বাধীনতা-দলের একজন পাণ্ড হইলাম না বটে, কিন্তু র্তাহাদের সহিত আমার মনের যোগ ছিল। স্ত্রীলোকদিগকে বাহিরে বসিতে দিতে আমার আপত্তি ছিল না, বরং যখন তঁাহারা বসিতে চাহিতেছেন তখন বসিতে দেওয়া উচিত, এই মনে করিতাম। তবে দ্বারিক বাবুর ন্যায় মনে করিতাম না, যে, বাতিরে বসিতে দিলেই পরিত্রাণের দ্বার উন্মুক্ত হইবে। তখন আমার এই প্ৰকার ভাব ছিল। যাহা হউক তঁাহারা স্বতন্ত্র সমাজ স্থাপন করিয়াই সেখানে মধ্যে মধ্যে উপাসনা করিবার জন্য আমাকে ধরিলেন। আমি জানিতাম ইহাতে কেশব বাবু অসন্তুষ্ট হউন, বা না চাউন তঁহার অনুগত প্রচারকদলের অসন্তুষ্ট হইবার সম্ভাবনা। কিন্তু স্ত্রীস্বাধীনতা পক্ষীয় সকলেই আমার বন্ধু এবং তঁহাদের সহিত আমার হৃদয়ের যোগ, উশাসনা করিবার অনুরোধ কিরূপে লঙ্ঘন করি, কাজেই সন্মত হইলাম ; এবং তাহদের সমাজে উপাসনা করিতে লাগিলাম । ইহাও প্রচারক মহাশয়দিগের সহিত আমার মতভেদের একটা কারণ হইল। ক্ৰমে কেশব বাবুর্তাহার ব্ৰহ্মমন্দিরের এক কোণে পর্দার বাহিরে অগ্রসর দলের মহিলাদের জন্য বসিবার স্থান করিয়া দিলেন। তখন ষ্ট্ৰীস্বাধীনতার দল স্বতন্ত্র সমাজ তুলিয়া দিয়া আবার মন্দিরে আসিতে লাগিলেন। বিবাদ মিটিয়া গেল। ইহা দেখিয়া আমি হরিনাভিতে গেলাম। কিন্তু স্ত্রীলোকের শিক্ষা ও সামাজিক অধিকার সম্বন্ধে কেশব বাবুর সহিত