পাতা:আত্মচরিত (শিবনাথ শাস্ত্রী).pdf/২০৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ R O R শাসন সম্বন্ধে এক নূতন আন্দোলন উঠিয়া পড়িল। দ্বারকানাথ গাঙ্গুলীপ্রমুখ দল, এই দলে যোগ দিলেন। আমি ভবানীপুরে আসিয়া দেখিলাম, কেশব বাবুর মত ও কাৰ্য্যের প্রতিবাদ করিবার জন্য একটী দল গড়িয়া উঠিয়াছে। আমি আসিবামাত্র ইহঁরা আমাকে আপনাদের মধ্যে লইলেন ; কারণ সমাজের কাৰ্য্যে নিয়মতািন্ত্ৰ প্ৰণালী স্থাপন বিষয়ে এবং কেশব বাবুর কোনও কোনও মতের প্রতিবাদ বিষয়ে ইহঁাদের সহিত পূৰ্ব্ব হইতে আমার মতের ঐক্য ছিল। ইহার পর আমার ভবনে এবং অপরাপর স্থানে এই প্ৰতিবাদী দলের ঘন ঘন মীটং হইতে লাগিল। অবশেষে ব্ৰাহ্মদিগকে সতর্ক করিবার জন্য সমর ঘোষণা করা স্থির হইল। এই সমর ঘোষণা দুই প্রকারে আরম্ভ হইল। প্ৰথমে কলিকাতা ট্রেনিং-একাডেমী নামক স্কুলের গৃহে কেশববাবুর বিরুদ্ধে দুইটী বক্তৃত হইল। একটি আমি দিলাম, অপরটা আমার বন্ধু নগেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় দিলেন। আমার বক্ততার সমুদয় কথা স্মরণ নাই। আমি প্ৰধানতঃ কেশববাবুর কতকগুলি মৃতের সমালোচনা করিয়াছিলাম। সে সম্বন্ধে এইমাত্ৰ স্মরণ আছে, যে, রবিবাসরীয় মিরারে কেশববাবু, তাহার উল্লেখ করিয়া তাহার উদার ভাবের প্রশংসা করিয়াছিলেন। নগেন্দ্ৰবাবুর বক্তৃতা তাহাদের বড়ই অগ্ৰীতিকর হইল। নগেন্দ্ৰ বাবু সমাজের কাৰ্য্যে নিয়মতন্ত্ৰ প্ৰণালীয় আবশ্যকতা প্ৰদৰ্শন করিতে গিয়া বলিয়াছিলেন যে কেশব বাবুকে নেপোলিয়নের সঙ্গে তুলনা করা যাইতে পারে। নেপোলিয়ন যেমন সাধারণতন্ত্রের পক্ষ হইয়া যুদ্ধ আরম্ভ করিয়া, সাধারণতন্ত্রের নিশান লইয়া কাৰ্য্য করিয়া, অবশেষে সম্রাটের মুকুট নিজ মস্তকে লইয়া, ছিলেন, তেমনি কেশব বাবু ব্ৰাহ্মপ্রতিনিধিসভা স্থাপন করিয়া আদিসমাজের সঙ্গে বিবাদ আরম্ভ করিয়া পরিশেষে যথেচ্ছাচারী রাজা