পাতা:আত্মচরিত (সিগনেট প্রেস) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/১০৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কারণেই হউক, আমি তখন হইতে লোক চক্ষর গোচর হইয়া একজন মস্ত ব্ৰাহম হইয়া দাঁড়াই। ইহাতে কিছুদিন আমার বিশেষ অনিস্ট হইয়াছিল। আমার পদবীকার ব্যাকুলতা অনেক পরিমাণে হ্রাস হইয়া আমি কিছল অসাবধান হইয়া পড়ি, যে সকল সুব্রত্নও বিভাস অনেক চেস্টাতে দমনে রাশিয়াছিলাম, তাহা আবার মাথা কিন্তু আমার প্রতি ঈশবিরের বিশেষ দয়া বলিতে হইবে যে, আমি অচিরকালের মধ্যে আত্মদান্টির সাহায্যে নিজের অবস্থা লক্ষ্য করিতে পারি ও তাহার সংশোধনে প্রবত্ত হই। দীক্ষার সময় ও এই সময় কয়েকটি কবিতাতে নিজের মনের ভাব ব্যক্তি করিয়াছিলাম। যত দর স্মরণ হয়, সেগলি ধমতত্ত্ব পত্রিকাতে প্ৰকাশ হইয়াছিল, অন্যাসন্ধান করিলে উক্ত পত্রিকার ফাইলে পাওয়া যাইতে পারে। কেবলমাত্র দই চারি পংক্তি সমিতিতে আছে। পিতৃগহ হইতে তাড়িত হইয়া লিখিয়ছিলাম उलानाCन्न छनौवन ऊन्नौं विश्वखिन्न नाशाहद्र, যাই দেব ! দেখা দেখ রক্ষা করি আমারে। মোর পক্ষ ছিল যারা, বিপক্ষ হইল তারা, ঘেরিল সকল দিক অপবাদ-অাঁধারে, বহিল প্ৰলয়-ঝড় মস্তকের উপরে। অগ্ৰে যে আধ্যাত্মিক অবস্থার অবনতির কথা উল্লেখ করিলাম, তাহা লক্ষ্য করিয়া লিখিয়াছিলাম নিজ দলে গেলে পরে সমাদর পাই হে, আপনারে বড় ভাবি তাই হে! কিন্তু কি যে বড় আমি জান তুমি অন্তৰ্যামী, তব অগোচর প্রভু কোনো কথা নাই হে। যাহা হউক, দীক্ষা ও সাধারণ সমাদরের ধাক্কা সামলাইয়া উঠিতে কিছদিন গেল। আমি যে ব্ৰাহম দলে হঠাৎ কিরােপ সমাদত হইয়া পড়িলাম, তাহার প্রমাণ সবরপে দাইটি ঘটনার উল্লেখ করিতেছি। 蝸 আমার দীক্ষার কয়েক মাস পরেই শ্যামবাজার ব্রাহামসমাজের বাষিক উৎসব উপস্থিত হইল। তখন উক্ত সমাজের প্রতিদ্ঠাকতা কাশীশবির মিত্র মহাশয় জীবিত ছিলেন। তিনি আমার নিকট লোক পাঠাইয়া অনরোধ করিলেন যে, আমাকে উত্ত উপাসনাতে দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও অযোধ্যানাথ পাকড়াশী মহাশয়দের সহিত বেদীতে বসিতে হইবে ও উপদেশের ভার লাইতে হইবে। আমি ভয়ে সঙ্কুচিত হইলাম, কিন্তু তাঁহারা কোনো মতেই ছাড়িলেন না। অবশেষে রাজি হইলাম। কিন্তু তাঁহারা চলিয়া গেলে, বেদীতে বসিতে হইবে ভাবিয়া লজা ও ভয়ে মন অভিভূত হইয়া পড়িল। কিন্তু কি করি, কথা দিয়াছি। তখন অনন্যেপায় হইয়া উপদেশটি লিখিতে বসিলাম। লিখিয়া এক প্রকার দাঁড় করাইলাম। উপাসনা সদস্থলে সেইটি ভয়ে-ভয়ে পাঠ করিলাম। কিন্তু বেদী হইতে নামিলেই দিবজেন্দ্ৰবাব কোলাকুলি করিয়া আমার উপদেশের অনেক প্রশংসা করিলেন। সভাসদুখলেও অনেকে সন্তোষ প্ৰকাশ করিতে লাগিলেন। SOY)