পাতা:আত্মচরিত (সিগনেট প্রেস) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/১১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পৰা পরষগণ গ্রাম মজিলপাের। কলিকাতা শহরের প্রায় ত্ৰিশ মাইল দক্ষিণ-পব কোণে সন্দরবনের উত্তর প্রান্তে মজিলপার নামে একটি গ্রাম আছে। ইহা প্ৰসিদ্ধ জয়নগর গ্রামের পর্ব পাশে বা অবস্থিত। ইহাতে ব্রাহমাণ কায়সেপেথরই অধিক বাস। ভদ্রলোকদিগের বাসস্থান হইতে দরে গ্রামের পাশেব কামার, কুমার, ধোপা, নাপিত, হাড়ি, মচি প্রভৃতির বাস আছে। কিন্তু তাহদের সংখ্যা বড় অধিক নয়, গ্রামবাসী ব্রাহমাণ-কায়সস্থাদিগের কাব্য নিবাহের উপযক্তি। গ্রামখানির ইতিবত্ত জানি না, অনমান করি, এক কালে গঙ্গা এই পথে বহমানা ছিল* এবং গ্রামখানি গঙ্গার চড়ার উপর প্রতিষ্ঠিত হইয়াছে। পোতুগিজেরা যখন এদেশে আসে তখন এই পথে আসিয়াছিল কি না ঠিক বলিতে পারি না, কিন্তু প্রাচীন বাংলা কাব্যে ও পোতুগিজদের যাত্রাবিবরণে ‘ময়দা” নামক একটি গ্রামের উল্লেখ দেখা যায়, এই মজিলপরের কয়েক ক্লোশ উত্তর-পাবে “ময়দা” নামে এক গ্রাম এখনো বিদ্যমান আছে। ইহাতে অনমান করা যায়, পোতুগিজেরা এই পথেই আসিয়া থাকিবে। গ্রামের পাশে বা মাঠে মাটি খড়িতে খড়িতে ভগন জাহাজ ও বোটের নিদশন। সবরপ অনেক দ্রব্য পাওয়া গিয়াছে। তাহাতেও অনমান হয়, এক সময় এই পথে জাহাজদি চলিত। এইরপে গ্রামখানি যে বহনকালের নয় তাহার অনেক প্রমাণ পাওয়া যায় । পবর্ণপরিষ শ্ৰীকৃষ্ণ উচ্চাগাতা। এইরহপ জনশ্রীতি প্রচলিত আছে যে, জাহাঙ্গীর বাদশার সময় যখন রাজা মানসিং যশোর নগর আক্ৰমণ করেন, তখন চন্দ্ৰকেতু দত্ত নামক এক জন সম্ভ্রান্ত কায়স্থ ভদ্রলোক সপরিবারে যশোর বিভাগ হইতে পলায়ন করিয়া ঐ চড়ার উপরিস্থিত গ্রামে সন্দরবনের ভিতরে আসিয়া সপরিবারে বাস করিয়াছিলেন। তাঁহার সহিত তাঁহার যজ্ঞাপরোহিত ও কুলগর শ্ৰীকৃষ্ণ উদগাতা নামক এক ব্ৰাহমণ আসিয়া তাঁহারই প্রদত্ত এক সামান্য ভূমিখন্ডে আপনার বাসস্থান নির্দেশ করেন। তিনিই আমাদের পবর্ণপরিষ। এই শ্ৰীকৃষ্ণ উদগাতা কে, এবং কোথা

  • এখনো মজিলপার ও জয়নগর এই উভয় গ্রামের মধ্যস্থিত ভূমিখণ্ডকে ‘গঙ্গার বাদা’ বলে এবং এখনো আমাদের গ্রামের সমাদয় পঙ্করিণীর জল পবিত্র গঙ্গাজল বলিয়া গণ্য হয়।- গ্রন্থকারের হস্তলিখিত কুলপঞ্জিকা।

চন্দ্রকেতু দত্তের পরিবারগণ এখনো আছেন। তাঁহারা মজিলপরের দত্ত বলিয়া প্রসিদ্ধ।-- গ্রন্থকারের হস্তলিখিত কুলপঞ্জিকা। " ܦ ܼܡܬ