পাতা:আত্মচরিত (সিগনেট প্রেস) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/১১১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ব্যয়ের অংশ দিয়া সকলে একান্নভুক্ত পরিবারের ন্যায় থাকিতাম। একসঙ্গে খাওয়া, একসঙ্গে বসা, একসঙ্গে বেড়ানো-সদখেই কাল কাটিত। শহরে যাঁহাদের কাজ থাকিত, তাঁহারা দিনের বেলায় শহরে গিয়া কাজ করিয়া আসিতেন। প্রাতে ও সন্ধ্যাতে একসঙ্গে উপাসনা ও একসঙ্গে ধমালাপ চলিত। আমরা সকল বিষয়েই কেশববাবর পরামর্শ ও সদ্যপদেশ পাইতাম। আমি ব্রাহমাধ্যম প্রচার কাবে আপনাকে অপণ করিব বলিয়াই ভারত আশ্রমে বাস করিতে গিয়াছিলাম। আমার অগ্ৰে অভিপ্রায় ছিল যে, আমি কলেজ হইতে উত্তীণ হইয়া ওকালতী করিব, সেই জন্য উকীল বন্ধদের পরামশে তিন বৎসর ‘ল DBS DBDDD BB DDD DDDDDBB S DBBD BBDB BB BDBDS DBBD DS SBKS দিবার ইচ্ছা হইবার আর একটি কারণ ছিল। তদানীন্তন লেফটেনাণ্ট গবৰ্ণর সংস্কৃত কলেজের প্রিন্সিপাল প্ৰসন্নকুমার সবাধিকারী মহাশয়কে বলিয়াছিলেন, “আমি জডিশ্যাল সাভিস-এ তোমাদের কলেজের ছেলে চাই, কারণ তাহারা ‘হিন্দ ল’ বিষয়ে অভিজ্ঞ হয়।” তদনন্তর সবাধিকারী মহাশয় আসিয়া আমাদিগকে বি. এল. পরীক্ষা দিবার নিমিত্ত উৎসাহিত করেন; এবং আমার ভক্তিভাজন মাতুলমহাশয়ও সে বিষয়ে আগ্রহ প্ৰকাশ করেন। তদনসারে আমি ‘ল লেকচার’ শানিতে আরম্ভ করি। কিন্তু বি. এ. পাশ করিয়াই অন্যবিধ আকাঙ্ক্ষা আমার হািদয়ে আসিল। আমি কেশববাবর পদানােসরণ করিয়া ব্রাহমাধ্যম প্রচার কাযে আমার জীবন দিব, এই বাসনা হািদয়ে উদয় হইল। গোপনে পত্র দ্বারা কেশববাবকে এরপে অভিপ্ৰায় জানাইলাম। তিনি আমাকে বলিলেন, “তুমি আস্তে আস্তে ক্ৰমে আমাদের সঙ্গে যোট, তারপর দেখা যাবে কি হয়,” এবং আমি ১৮৭২ সালের প্রারম্ভে এম. এ. পাস করিয়া ‘শাস্ত্ৰী” উপাধি পাইয়া কলেজ হইতে বাহির হইবামাত্র, তাঁহার নব প্রতিষ্ঠিত মহিলা বিদ্যালয়ে আমাকে শিক্ষকতা কায দিয়া আশ্রমে সপরিবারে থাকিতে আদেশ করিলেন। আমার নামে বেতন রাপে যাহা দেওয়া হইত, তাহা প্রচারকগণের চির-পরিচারক শ্ৰদ্ধাস্পদ কান্তিচন্দ্র মিত্রের হস্তে জমা হইত, তিনি আমার স্ত্রী-পত্রের ভরণপোষণ দেখিতেন, তাহার সহিত আমার কোনো সংশ্ৰব থাকিত না। বলা বাহাল্য, তখন প্রচারকগণ সকলে, ও তৎসঙ্গে আমি, সপরিবারে ঘোর দারিদ্র্যে বাস করিতাম। আমি কেশববাবর আশ্রমোৎসাহের মধ্যে প্ৰাণমন ঢালিয়া দিয়াছিলাম। সে সময়ে আশ্রমের আবিভােব সম্পবন্ধে একটি কবিতা লিখি, তাহা বোধ হয়। ধমতত্ত্বে প্রকাশিত সে সময়ে কেশববাবর ও তাঁহার পত্নীর যে সাধিতা ও ধমনিষ্ঠা দেখিয়াছিলাম, তাহা জীবনে ভুলিবার নয়। প্রতিদিন দপারবেলা আশ্রমবাসিনী মহিলাদিগকে লইয়া স্কুল করা হইত। আমি ঐ স্কুলে পড়াইতাম। একদিন কেশববাব তাঁহার পত্নীকে উদ্দেশ করিয়া আমাকে বলিলেন, “ওহে, তুমি ওঁকে ইংরেজী শেখাও তো।” তদনন্তর তিনি আমার ছাত্রী হইলেন। কেশববাব তাঁহার প্রকৃতির সরলতা জানিতেন। তিনি বিলাত হইতে কতকগালি চিলড্রেনস ম্যাগাজিন ও রীডিং বক্স আনিয়াছিলেন। তাহার একখানি তাঁহাকে পড়াইবার জন্য দিলেন। আমি হাসিয়া বলিলাম, “এ ষে ছোট ছেলেদের বই।” তিনি বলিলেন, “আ রে, উনি প্রথম ইংরেজী পড়বেন তো ? হলই বা ছোট ছেলেদের বই। তুমি পড়াতে আরম্পভ করা না, দেখবে, উনি মনে ছোট ছেলেই আছেন।” কাজেও তাহার প্রমাণ পাইলাম। তাঁহার পাঠ্য পাস্তকে একটি ছোট মেয়ের ছবি ছিল, তাহার মাথায় কোঁকড়া কোঁকড়া চুল। মেয়েটি দেখিতে সন্দর, SOS)