পাতা:আত্মচরিত (সিগনেট প্রেস) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/১১৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


এখানে ওখানে শাইতে আরম্ভ করিলাম। ঘটনাক্ৰমে এক উপায় আবিস্কার হইল। হিন্দ কলেজের বারাপডাতে দপতরীদের একটা টেবিল পড়িয়া থাকিত। রাত্রে তাহাতে জিনিসপত্র কিছল থাকিত না। রাত্রে আহারের পর একখানা পািকস্তক লইয়া সেখানে গিয়া সেই পশ্চিতক মাথায় দিয়া টেবিলে শাইয়া বেশ নিদ্রা যাইতাম। দীঘির মাঠের হাওয়ায় বেশ নিদ্রা হইত। প্রাতে আসিয়া সনান করিয়া কেশববাবার উপাসনাতে যোগ দিতাম, বন্ধাদের সহিত আহার করিতাম, আহারান্তে মহিলা স্কুলে পড়াইতাম, - অপরাহে বন্ধাদের সহিত ধমালাপে কাটাইতাম, সন্ধ্যার পর আহার করিয়া আবার হিন্দ কলেজের বারাগড়ায় টেবিলের উপর গিয়া শইতাম। সেখানে আমার সময় বড় ভালো যাইত। গভীর রাত্রের নিজনে অনেক দিন ঈশবর চিন্তাতে যাপন করিতাম। রজনী প্ৰভাত হইবার পাবেই আমাকে উঠিতে হইত। উষাকালের সেই ব্রাহাম্মহত্যু আমার পক্ষে বড়ই সপহণীয় ছিল। আমি জানিতাম, আমি যে গোলদীঘির ধারে টেবিলের উপরে রাত্রি যাপন করি, তাহা কেহ জানেন না। কিন্তু কিছদিনের মধ্যে প্রসন্নময়ী ও বিরাজমোহিনী উভয়েই সে কথা জানিতে পারিলেন। শইবার স্থানাভাবে কলেজের বারান্ডায় পড়িয়া থাকি শনিয়া প্ৰসন্নময়ী কাঁদিতে লাগিলেন। বিরাজমোহিনী মনে করিলেন, তিনিই এই সমােদয় কন্টের কারণ, ইহা ভাবিয়া ঘোর বিষাদে পতিত হইলেন, তাঁহারও চক্ষে জলধারা বাহিতে লাগিল । অস্ত্রী-স্বাধীনতার আন্দোলন। এই সময় আবার আমার শ্রন্ধেয় বন্ধ নগেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় মহাশয় কৃষ্ণনগর হইতে কম ছাড়িয়া প্রচারক দলে যোগ দিবেন। বলিয়া আসিলেন। তাঁহার আসিবার কথা যেদিন স্থির হয়, সেদিন কান্তিচন্দ্ৰ মিত্র মহাশয়ের সহিত কেশববাবর যে কথোপকথন হয়, তাহাতে আমি উপস্থিত ছিলাম। সেদিনের কথা কখনই ভুলিব না। কান্তিবাব আসিয়া বলিলেন, “নিগেন্দ্ৰ আসিতে চাহিতেছেন, কি করা যাবে ?” কেশববাব। সে তো ভালই, তিনি আসন। করা যাবে কি, কেন ভাবিছ ? আবার করা যাবে কি ? কান্তিবাব। কিরাপে চলবে ? কেশববাব। তা ভাববার তোমার অধিকার কি ? যিনি আনছেন, তিনিই তার উপায় করবেন। তাঁহার এরপ বিশবাস ও নিভয়ের ভাব অনেক সন্থলে দেখিয়াছি। নগেন্দ্ৰবাব কৃষ্ণনগরে তাঁহার জননীকে রাখিয়া একটি পত্র ও পত্নী সহ আশ্রমে আসিলেন। কিন্তু তাঁহার আসিবার অচিরকালের মধ্যে কেশববাবর অন্যগত প্রচারক দলের সাহিত আমার ও নগেন্দ্ৰবাবার অপ্রীতি জন্মিতে লাগিল। আমার প্রতি অপ্রীতি জন্মিবার দাই কারণ। প্রথম কারণ, এই সময়ে সত্ৰীস্বাধীনতার আন্দোলন উপস্থিত হইল। ১৮৭২ সালে আমার বন্ধ দাবারকানাথ গাণ্ডগলী, দােগামোহন দাস, রজনীনাথ রায়, অন্নদাচরণ খাস্তগির প্রভৃতি কতকগলি ব্ৰাহম কেশববাবকে বলিলেন যে, তাঁহারা তাঁহাদের পরিবারস্থ মহিলাদিগকে লইয়া মন্দিরে পরদার বাহিরে বসিতে চান। কেবল এ কথা যে বলিলেন তাহা নহে, একটা কিছ স্থির হইতে না হইতে একদিন অন্নদাচরণ খাস্তগির ও দরগামোহন দাস স্বীয়-স্বীয় পত্নী ও কন্যাগণ সহ পরদার বাহিরে সাধারণ উপাসকদিগের মধ্যে গিয়া ܘܠܬܠܬ