পাতা:আত্মচরিত (সিগনেট প্রেস) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/১২০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অন্টাম পরিচ্ছেদ ॥ ১৮৭৩-১৮৭৪ পল্লীসংস্কারে আত্মনিয়োগ পীড়িত মাতুলের আহবান। এই সকল মতভেদের মধ্যে ১৮৭৩ সালের প্রথমে আমার পজ্যপাদ মাতুল, সোমপ্রকাশ সম্পাদক দুবারকানাথ বিদ্যাভূষণ মহাশয়, পীড়িত হইয়া আমাকে ডাকিয়া পাঠাইলেন। কিছদিন হইতে তাঁহার স্বাস্থ্য একেবারে ভগন হইয়া গিয়াছিল, তিনি আর কাজ করিতে পারিতেছিলেন না। ত্বরায় পেনসন লইয়া সংস্কৃত কলেজের অধ্যাপকতা হইতে বিদায় লইয়া, বায় পরিবতনের জন্য উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে যাইবার সঙ্কলপ করিয়াছিলেন। কিন্তু তাঁহার সোমপ্রকাশ, তাঁহার প্রতিষ্ঠিত গ্রামস্থ সংস্কৃত-ইংরাজী স্কুল, তাঁহার বিষয়, তাঁহার পরিবার-পরিজনের দেখিবার ভার কে নেয় ? আমার মাতুলপত্রদিগের মধ্যে কেহই কাজের লোক ছিল না। বড়মামা আমাকে নিজের চক্ষের উপরে মানষি করিয়াছিলেন। আমি বাল্যাবধি তাঁহার দাস্টান্ত না দেখিলে, ধম ও নীতির ভাব যাহা হািদয়ে পাইয়াছি, তাহা পাইতাম কি না। সন্দেহ। মামা আমাকে ডাকাইয়া বলিলেন, এখন তুমি আসিয়া আমার সঙ্কন্ধের সব ভার না লইলে আমি বায় পরিবতনের জন্য যাইতে পারি না। আমি বিপদে পড়িয়া গেলাম। কেশববাবার অন্যুরোধে একটা কাজের ভার লইয়াছি, আবার মামার অন্যুরোধ অপরদিকে। প্রথম দিনে কোনো উত্তর না দিয়া ভাবিতে-ভাবিতে কলিকাতায় আসিলাম। আসিয়া মনে অনেক চিন্তা করিলাম, নগেন্দ্ৰবাব প্রভৃতির সহিত অনেক পরামর্শ করিলাম। সকলেই মামার সাহায্যাথ যাইতে বলিলেন। অবশেষে অনেক চিন্তার পর কেশববাবকে গিয়া বলিলাম, “নতন বৎসর আরম্ভ হইতেছে, এখন মহিলা স্কুলে আমার স্থলে পড়াইবার ভার অপর কাহারও উপর দেওয়া যাইতে পারে, সেইরাপ বন্দোবস্ত করন। আমাকে আমার মাতুলের সাহায্যের জন্য যাইতে হইবে।” তিনি কিছল বলিলেন না, মনে মনে অসন্তুলট হইলেন কি না, তখন বঝিতে পারিলাম না। পরে বঝিয়াছি যে, আমার চলিয়া যাওয়া তিনি পছন্দ করেন নাই। আমি প্রচার কাযে জীবন দিবার জন্য আসিয়া বিষয় কমে গেলাম, ইহা তাঁহার ভালো লাগে নাই। যাহা হউক, আমি মাতুলের সাহায্যের জন্য হরিনাভিতে গেলাম। গিয়া মাতুলের সোমপ্রকাশের সম্পাদক, স্কুলের সম্পাদক ও হেডমাস্টার, তাঁহার বিষয়ের তত্ত্বাবধায়ক, ও তাঁহার পরিবার-পরিজনের রক্ষক ও অভিভাবক হইয়া বসিলাম। বড়মামা আমাকে বসাইয়া নিশিচন্ত হইয়া কাশীতে গেলেন। দই-একদিনের মধ্যেই একদিন কেশববাব আমাকে ডাকিয়া পাঠাইলেন। তিনি বলিলেন, আমার দই পত্নীকে যে ভাবে আশ্রমে রাখিয়াছি, তাহা আর চলিবে না। তিনি ভয় করেন যে, বিরাজমোহিনী আত্মহত্যা করবেন, যদিও আমার মনে সে SS bf