পাতা:আত্মচরিত (সিগনেট প্রেস) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/১২১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


প্রকার ভয় ছিল না, কারণ, আমি কলিকাতায় আসিলেই তাঁহাকে বঝাইতাম। যাহা হউক, অনেক তীক-বিতকের পর স্থির হইল যে, প্ৰসন্নময়ী আমার সঙ্গে হরিনাভিতে থাকিবেন এবং বিরাজমোহিনীকে আশ্রম হইতে অন্য কোথাও রাখা হইবে, আমি শনিবারে সেখানে আসিয়া রবিবার তাঁহার সঙ্গে যাপন করিব। অতঃপর প্রসন্নময়ী আমার সহিত হরিনাভিতে গেলেন। নগেন্দ্ৰবাব আশ্রম ছাড়িয়া আর এক সন্থানে কতিপয় বন্ধর সহিত বাসা করিলেন, বিরাজমোহিনী তাঁহাদের সঙ্গে গেলেন। আমি প্রতি শনিবার কলিকাতায় আসিয়া রবিবার তাঁহার সঙ্গে যাপন করিতে লাগিলাম । তখন আমি যে প্রণালীতে কায করিব বলিয়া স্থির করিলাম, তাহা এই। বিরাজমোহিনী আমা হইতে বিযক্তি হইতে চাহিলেন না দেখিয়া এই স্থির করিলাম যে, যখন তিনি ও প্রসন্নময়ী একত্র থাকিবেন, তখন আমি উভয় হইতে বিযক্তি থাকিব, আর যখন তাঁহারা ভিন্ন-ভিন্ন গহে পরস্পর হইতে পথিক থাকিবেন, তখন পতিভাবে মিলিব। তদনসারেই কায আরম্ভ হইল। প্ৰসন্নময়ীর জীবিত কালে বহল বৎসর এই প্ৰণালীতে কাব্য চলিয়াছে। এই ১৮৭৩ সালের ২৫শে ডিসেম্বর বড়দিনের দিন, হরিনাভিতে আমার তৃতীয়া কন্যা সহাসিনীর জন্ম হইল। হরিনাভিতে আমি মহা কায্যের আবতের মধ্যে পড়িলাম। প্ৰথম, মামার স্কুলটির ভার লইয়া দেখি যে, তৎপবে কয়েক বৎসর গ্রামে ম্যালেরিয়া জবরের আবিভােব হওয়াতে, স্কুলের ছাত্র সংখ্যা হ্রাস হইয়া স্কুলের আয় অপেক্ষা ব্যয় অধিক হইয়াছে। ইহার ফল। এই হইল যে, আমি নামে হেডমাস্টার রিপে একশত টাকা পাইতে লাগিলাম বটে, কিন্তু তাহা হইতে সেক্রেটারী রূপে মাসে ৪০ ৷৷ ৫০ টাকা অপরাপর শিক্ষকের বেতনের সাহায্যের জন্য দিতে লাগিলাম। ওদিকে, সোমপ্রকাশের কাব্যভার প্রধানত আমার উপর পাড়িয়া যাওয়াতে সংবাদপত্রাদি পাঠে ও লেখাতে অনেক সময় দেওয়া আবশ্যক হইল। তাহার উপর, মধ্যে মধ্যে বড়মামার তালিক দেখিবার জন্য লবণাকেবপািণ সন্দরবনের মধ্যে গিয়া। দই-একদিন বাস করিতে লাগিলাম। ইহার উপরে আমাকে ম্যালেরিয়াতে ধরিল। ঘন-ঘন জবর হইয়া লিভারে বেদনা দাঁড়াইল। লিভারে ট্রর দয়া, মালেরিয়ার চিকিৎসা করিয়া তদ্যুপরি পবোৰু কায সমাদয় চালাইতে 5 || গ্রাম সংস্কারের চেষ্টা। পবোেক্ত বিষয়গালি ভিন্ন আমাকে আরও কয়েক প্রকার সংগ্রামের মধ্যে পড়িতে হইয়াছিল। প্ৰথম, আমি সোমপ্রকাশের কাব্যভার হাতে লইয়াই দেখিতে পাইলাম যে, রাজপর হরিনাভি প্রভৃতি গ্রামগলি কয়েক বৎসর পাব হইতে কলিকাতার দক্ষিণ উপনগরবতী বেহালা প্রভৃতি গ্রামের সহিত এক মিউনিসিপ্যালিটিতে আবদ্ধ হইয়াছে। তদবধি প্রায় দশ বৎসর কাল হরিনাভি, রাজপর, চাণ্ডগড়িপোতা প্রভৃতি গ্রামের প্রজাগণ রীতিমতো মিউনিসিপ্যাল ট্যাক্স দিয়া আসিতেছে, যথাসময়ে ট্যাক্স না দিলে তাহদের ঘটিবাটি নিলাম হইতেছে, কিন্তু দশ বৎসরের মধ্যে তাহদের অনেক রাস্তাতে এক মিঠা মাটি পড়ে নাই; এমন কি, এই দীঘকালে অনেক নরদামা হইতে এক মিঠা মাটি তোলা হয় নাই। অন্যসন্ধানে জানিলাম, মিউনিসিপ্যাল কমিটিতে বেহালা ও তৎসন্নিকটবতী স্থানের লোক অধিক হওয়াতে, অধিকাংশ টাকা সেইদিকেই ব্যয় হইতেছে। ܬܦܠ ܒܬ