পাতা:আত্মচরিত (সিগনেট প্রেস) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/১৫৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


হইত। সে সকল অধিবেশনে চিন্তারও শেষ ছিল না, তকেরও শেষ ছিল না। কিরূপে নিয়ম প্ৰণালী সবাঙ্গসন্দর হয়, কিরাপে অতীতকালের ভ্ৰম প্রমাদ। আর না ঘটে, কিরাপে ব্রাহনগণের মধ্যে একতা সন্থাপিত হয়, কিরাপে ব্ৰাহমসমাজের কাযে আবার শক্তি সঞ্চার হয়, এই সকল চিন্তা সকলেরই মনে প্ৰবল থাকিত। তৎপরে নিয়মাবলীর পান্ডুলিপি। মফঃসল সমাজ সকলে প্রেরিত হইয়া, চারিদিক হইতে প্রস্তাব সকল আসিতে লাগিল। সেই সকলের বিচারের জন্য দিনের পর দিন কমিটির অধিবেশন হইতে লাগিল। আমি হাসিয়া আনন্দমোহন বাবকে বলিতাম, “এ কমিটি তো ‘কমিটি রইল না, এ যে ‘বেশি’টি হয়ে গেল।” একদিনের কথা মনে আছে। সেদিন প্রাতে ৬টা হইতে অপরাহু ৬টা পৰ্যন্ত আমি ব্রাহ পাবলিক ও পিনিয়ন ও তত্ত্বকৌমদীর কাজে মগন আছি, সন্ধ্যার সময় আনন্দমোহনবাবর পত্র আসিল যে সেইদিন নিয়ম প্রণয়ন কমিটিতে আমার থাকা চাই। তদত্তরে আমি লিখিলাম যে, “আমাকে বাদ দিয়া কাজ করেন। আমি প্রাতঃকাল ৬টা হইতে এই সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজে মগন আছি।” তদত্তরে তিনি লিখিলেন, আমাকে যাইতেই হইবে, রাত্রিকালের আহার ও শয়ন তাঁহার গহেই হইবে। সেখানে গিয়া আহার করিয়া আমরা ৯uটার সময় নিয়ম প্রণয়ন কাযে নিযক্ত হইলাম। নিয়মাবলীর বিচার করিতে করিতে রাত্রি একটা বাজিয়া গেল। আমি আর বসিতে পারি না, নিদ্রাতে চক্ষদ্বয় অভিভূত হইয়া আসিতেছে। অবশেষে বন্ধদিগকে প্রশন বিশেষের নিচে নামিয়া পড়িলাম, ও ম্যাটিঙের উপর শইয়া নিদ্রিত হইলাম। প্রায় ৩টা রাত্রির সময় আমার অন্যােপস্থিতি তাঁহাদের লক্ষ্য পথলে পড়িল। তখন আমার অন্বেষণ আরম্ভ হইল। আমি কিছই জানি না, অঘোরে ঘামাইতেছি। অবশেষে আনন্দমোহনবাব টেবিলের নিচে উকি মারিয়া দেখেন, আমি ঘামাইতেছি। তখন মহা হাসাহসি পড়িয়া গেল। তখন তিনি আমার দই ঠ্যাং ধরিয়া টানিয়া আমাকে বাহির করিলেন এবং উঠিয়া চলিয়া চক্ষে জল দিয়া নািতন প্ৰস্তাব শনিবার জন্য অনরোধ করিলেন। " আনন্দমোহন বস। এখানে আনন্দমোহন বস মহাশয়ের বিষয়ে কিছ বলা আবশ্যক। সাধারণ ব্ৰাহমসমাজের স্থাপন ও ইহার কার্যপ্রণালী নির্দেশ বিষয়ে তিনি যাহা করিয়াছিলেন, তাহা চিরস্মরণীয়। সাধারণ ব্রাহাসমাজের সভ্যগণ যে তাঁহাকে প্রথম সভাপতিরীপে বরণ করিয়াছিলেন, তাহা সমচিত হইয়াছিল। তিনি এ সময়ে সারথি না হইলে আমরা যাহা করিয়া তুলিয়াছি, তাহা করিয়া তুলিতে পারিতাম না। তিনি ভুলিবেন না। বলিতে কি, তিনি এই সময় ছিলেন সাধারণ ব্ৰাহমসমাজের মস্তিক্ষক, আর আমি ছিলাম দক্ষিণ হস্ত। দজনে পরামর্শ করিয়া যাহা স্থির করিতাম, তাহাই আমি কাযে করিতাম। ইহা বলিলে অত্যুক্তি হয় না যে, ১৮৭৪ সালে তাঁহার বিলাত হইতে প্রত্যাগমনের দিন অবধি ব্ৰাহমসমাজ সম্পবন্ধে আমি এমন কিছু করি নাই, যাহা তাঁহার সহিত পরামর্শ করিয়া করি নাই। অথবা তিনি এমন কিছ করেন নাই, যাহা আমার সহিত পরামর্শ করিয়া করেন নাই। এই অবিচ্ছিন্ন যোগ, এই অকৃত্রিম মিত্রতা চিরদিন বিদ্যমান ছিল। আমি কত রাত্রি তাঁহার ভবনে যাপন করিয়াছি, শেষ রাত্ৰি পযািন্ত কেবল ব্ৰাহ সমাজের কাজের কথা। অবশেষে রাত্ৰি । দইটা বা তিনটার সময় তাঁহার গহিণীর তাড়া খাইয়া দাইজনে শাইতে গিয়াছি। : S