পাতা:আত্মচরিত (সিগনেট প্রেস) - শিবনাথ শাস্ত্রী.pdf/১৬৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তৎপর দিন তাহার পিতা আসিয়া উপস্থিত। আমার হাতে পায়ে ধরাধরি, “যদি ছেলে ভালো হয়, আপনাদের কাছেই হবে। আমার প্রতি দয়া করে একে রাখতেই হবে।” মীমাংসাটা কি হইয়াছিল, তাহা এখন স্মরণ নাই। তবে সে সময়ে আমি দন্ট ছেলে তাড়ানো বিষয়ে ক্ষিপ্ৰহস্ত ছিলাম। যদি কোনো শিক্ষকের চক্ষে পাবোেন্ত বিবরণগলি পড়ে তবে তাঁহাকে বলি যে, এক শহরের বিভিন্ন বিদ্যালয় সকলের শিক্ষকদের মধ্যে আত্মীয়তা ও যোগ না। থাকিলে, এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রের অভিভাবক এই উভয়ের মধ্যে সাহচয না থাকিলে, বিদ্যালয়ে সশাসন রক্ষিত হইতে পারে না। বতর্তমান সময়ের অধিকাংশ বিদ্যালয়ে এই দাইটিরই অভাব। " সিটি স্কুল সন্থাপিত হইলে ইহার বাড়িটি আমাদিগের সব বিধ কায্যের কেন্দ্রস্বরপ হইয়া দাঁড়াইল। ইহার একটি ঘরে সাধারণ ব্রাহামসমাজের আপিস উঠিয়া আসিলা। এতদ্ব্যতীত এই ভবনে আমরা কয়েকজন প্রতিদিন সন্ধ্যার সময় ঈশবিরোপাসনার জন্য মিলিত হইতে লাগিলাম। তদিভন্ন এই ভবনে সাধারণ ব্রাহামসমাজের সাপত্তাহিক অধিবেশন হইতে লাগিল। সমাজের কাজ দিন-দিন জমিয়া যাইতে লাগিল । ছাত্র সমাজ স্থাপন। সিটি স্কুলটি জমিয়া বসিলে কয়েক মাস পরেই (১৮৭৯ সালের ২৭শে এপ্রিল) আনন্দমোহনবাবরে সহিত পরামর্শ করিয়া আমার বহ দিনের সঙ্কলিপিত একটি কাজের সন্ত্রপাত করা গেল; তাহা ছাত্র সমাজ নামে একটি সমাজ সস্থাপন করা। প্রথমে এক সপ্তাহ অন্তর রবিবার প্রাতে সংক্ষিপত উপাসনা পাবক নানা বিষয়ে উপদেশ দিবার রীতি প্রবতিত হইল। স্কুল কলেজে ধমবিহীন শিক্ষা দেওয়া হয়, সেই অভাব কিয়ৎ পরিমাণে দরি করা আমাদের উদ্দেশ্য ছিল। সতরাং আমরা সেই ভাবে বস্তৃতা করিতাম। ঐ সকল বস্তৃতার অধিকাংশ আনন্দমোহনবাব ও আমি দিতাম। প্রথমে সিটি স্কুল গহে ছাত্র সমাজের অধিবেশন হইত। তৎপরে উপাসনা মন্দির নিমিত হইলে সেখানে উঠিয়া যায়। পাঁচ প্রকারে ছাত্র সমাজের কায চলিল। (১ম) প্রথমে পাক্ষিক, তৎপরে সাপত্তাহিক, উপাসনা ও বক্তৃতা।। (২য়) ছাত্রাবাস পরিদর্শন। (৩য়) মধ্যে-মধ্যে সদলে শহরের সন্নিকটস্থ উদ্যানাদিতে গমন । (৪র্থ) মধ্যে-মধ্যে সান্ধ্য সমিতির ব্যবসথা। (৫ম) পাস্তকাদি মাদ্রাঙ্কণ ও প্রচার। এই পাঁচ প্রকার কাষ দবারা প্ৰভূত ফল লাভ করা গেল। ছাত্র সমাজের সভ্য সংখ্যা দিন-দিন বাড়িতে লাগিল। এক-একবার দাই শত, আড়াই শত যবেক লইয়া আমরা কোম্পানির বাগানে গিয়াছি। সেখানে উপাসনা ও প্রীতিভোজন প্রভৃতি হইয়াছে। তখন ছাত্র সমাজ ভিন্ন যবকদিগের ধর্ম ও নীতি শিক্ষার উপযোগী অন্য সভা সমিতি ছিল না; সভ্য সংখ্যা অধিক হইবার সেও একটা কারণ। যাহা হউক, এই ছাত্র সমাজ দ্বারা সাধারণ ব্ৰাহমসমাজের মহোপকার সাধিত হইয়াছে। ইহা অনেক উৎসাহী যবককে সাধারণ ব্ৰাহমসমাজের দিকে আকৃষ্ট করিয়াছে, ইহার সভ্যগণের মনে নীতি ও ধমের ভােব দািঢ় রাপে মাদ্রিত করিয়াছে, এবং হিন্দী ধমের নামে পশ্চাদগতিশীলতার পািনর খানের তরঙ্গ উঠিলে তাহাকে বাধা দিবার পক্ষে বিশেষ সহায়তা করিয়াছে। এখানে ঈশবর অচেতন শক্তি কি সচেতন পরিষ,’ ‘প্রার্থনার আবশ্যকতা ও ব্যক্তিযক্তিতা,’ ‘জাতিভেদ,’ ‘পরকাল, প্রভৃতি ややり3